রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় বকেয়া সেচচার্জ বাড়ছেই, ব্যাহত হচ্ছে সেচখালের সংস্কারকাজ

পাবনায় বকেয়া সেচচার্জ বাড়ছেই, ব্যাহত হচ্ছে সেচখালের সংস্কারকাজ

বার্তাকক্ষ : পাবনা সেচ প্রকল্পে অনাদায়ী সেচচার্জ বেড়েই চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সেচ প্রকল্প চালু করার পর গত ২৫ বছরে এক-চতুর্থাংশ সেচচার্জও আদায় করতে পারেনি। সেচচার্জ বকেয়া পড়ায় সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা সমিতিগুলো নিষ্ক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি সেচখালের সংস্কারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯২ সালে পাবনা সেচ প্রকল্প চালু হয়। শুরুতে বেড়া, সাঁথিয়া ও সদর উপজেলার সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হলেও বছর-বছর তা কমতে থাকে।

বর্তমানে সেচের জমি কমে এক হাজার হেক্টরে নেমে এসেছে। সেচখালগুলো বেহাল হওয়ায় ও কৃষকেরা বোরো চাষ কমিয়ে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এরপরও যেসব কৃষক সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবহার করছেন, তাঁদের বেশির ভাগই সেচচার্জ দিচ্ছেন না।

সেচের পানি ব্যবহারকারী কৃষক ও পাউবো সূত্রে জানা যায়, সেচ প্রকল্প থেকে সেচের পানি ব্যবহার করার বার্ষিক সেচচার্জ প্রতি বিঘায় ১৮০ টাকা। অথচ কৃষকেরা সেচযন্ত্রের মাধ্যমে এক মৌসুমে শুধু বোরো চাষ করলেই খরচ হয় প্রায় তিন হাজার টাকা।

সেচখালের পানি নামমাত্র মূল্যে পাওয়া গেলেও তা পরিশোধে কৃষকের যেমন আগ্রহ নেই, তেমনি আদায়ের ব্যাপারেও পাউবোর নেই তেমন গরজ। সেচ প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সেচচার্জ আদায় হওয়ার কথা ছিল ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। মোট সেচচার্জের ৭৬ ভাগের বেশি অনাদায়ি পড়ে রয়েছে।

প্রকল্প এলাকায় পাউবোর তত্ত্বাবধানে ৫০টি পানি ব্যবস্থাপনাকারী সমবায় সমিতি গঠন করা হয়। সমিতিগুলোর কার্যকরি কমিটি স্থানীয় কৃষকেরাই নির্বাচিত করেন। সেচখালের দেখভাল ও সুষ্ঠুভাবে পানি সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিটি কমিটির প্রধান কাজ পানি ব্যবহারকারী কৃষকদের কাছ থেকে সেচচার্জ আদায়ে সহযোগিতা করা।

নিয়ম মোতাবেক সমিতির কর্মকর্তারা রসিদের মাধ্যমে সেচচার্জ আদায় করে এর শতকরা ২০ ভাগ সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা ও সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য রাখবেন। বাকি টাকা ব্যাংকে সমিতির একজন ও পাউবোর একজন কর্মকর্তার যৌথ হিসাবে রাখা হবে।

এই টাকা পাউবো প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে সমিতিগুলো সেচ অবকাঠামো সংস্কারের কাজ করবে। অথচ সেচ প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে পাউবোর অর্থায়নেই সেচ অবকাঠামো সংস্কার হচ্ছে। সেচচার্জ থেকে পাওয়া অর্থ এখনো সেচখাল সংস্কারে খরচ হয়নি।

পাউবো সূত্রে আরও জানা যায়, সেচখাল সংস্কারে সরকারি অনুদান অপ্রতুল। যা পাওয়া যায়, তা দিয়ে সেচখালের সংস্কার ঠিকমতো হয় না। এ কারণেই সেচ অবকাঠামোগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় সেচের জমি দিন দিন কমছে।

অথচ সেচচার্জ ঠিকমতো পেলে সেচখালের অনেক স্থান সংস্কার করে সেচের এলাকা বাড়ানো যেত।

ইছামতী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল কাদের বলেন, প্রথম দিকে কৃষকেরা ঠিকভাবেই সেচচার্জ দিতেন। কয়েক বছর ধরে কৃষকেরা যথাসময়ে সেচের পানি পাচ্ছেন না। অনেক জায়গার সেচখাল বেহাল হওয়ায় ঠিকমতো পানিও পৌঁছাচ্ছে না। অনেক কৃষক আবার বোরোচাষ ছেড়ে অন্য ফসল চাষ শুরু করেছেন। ফলে কৃষকেরা ঠিকমতো সেচচার্জ দিচ্ছেন না। পাউবোর প্রতি কৃষকদের ভরসা কমে যাওয়ায়ও বকেয়া বাড়ছে।

বেড়ার হাটুরিয়া ও জগন্নাথপুর গ্রামের ৮ থেকে ১০ জন কৃষক বলেন, এবার বোরো চাষ করতে গিয়ে ঠিকমতো সেচের পানি পাননি। সেচযন্ত্রের মাধ্যমে সেচ দিয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁরা সেচচার্জ কেন দেবেন।

সেচচার্জ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা পাউবোর বেড়া কার্যালয়ের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা সমিতিগুলো ঝিমিয়ে পড়ায় সেচচার্জ ঠিকমতো উঠছে না। কৃষকেরা সেচের পানি ঠিকমতো না পাওয়ার যে অভিযোগ দিয়েছেন, তা সত্যি নয়। বোরো চাষের পরিবর্তে কোনো কোনো কৃষক অন্য ফসলে আগ্রহী হওয়ায় সেচের আওতাভুক্ত এলাকা কমেছে।


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!