শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় মহাসড়কে হাট-বাজার; যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে

পাবনায় মহাসড়কে হাট-বাজার যানজটে দুর্ভোগ চরমে

image_pdfimage_print

স্টাফ পিরোপর্টার : কৃষকেরা জেলার সদর উপজেলার টেবুনিয়া হাটসংলগ্ন ঢাকা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের গা ঘেঁষে বছর পনের আগেও জমির ধান, রবি-শস্যসহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য বিক্রি করতেন।

যাত্রী ভ্রমণের সুবিধার্থে একসময় রাস্তা প্রশস্ত হলো। রাস্তার মাঝখানে গাড়ি তায়াতের ব্যবস্থা রেখে দু’পাশে যাত্রী ওঠানামার জন্য গাড়ি থামার রাস্তা করা হলো।

হাটে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে কৃষকেরা এখন পণ্য নিয়ে মহাসড়কের সংলগ্ন যাত্রী ওঠা-নামার রাস্তায় অথবা কখনো কখনো একেবারে মহাসড়কের ওপরেই গিয়ে দাঁড়ান।

তবে শুধু কৃষকেরাই নয়, হাটে জায়গা না পেয়ে সাধারণ বিক্রেতারাও বাধ্য হন পণ্য নিয়ে মহাসড়কে যেতে।

এতে মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

গত বুধবার টেবুনিয়া হাটে মহাসড়কের প্রায় মাঝ বরাবর ধানের বস্তা নিয়ে বিক্রির জন্য দাঁড়িয়েছিলেন দেবোত্তর গ্রামের এক কৃষক।

যানজটে থাকা গাড়িগুলো অতি ধীরে তার শরীর ঘেঁষে চলে যেতে থাকলেও তাকে খুব একটা বিচলিত হতে দেখা গেল না।

তিনি বলেন,‘কেউ কি শখ করে সড়কের ওপর বেচাকেনা করতি আসে? হাটের ভেতরে জায়গা নাই। দাঁড়াবো কোনে, মানুষ ভর্তি।’

পাবনা জেলার প্রধান প্রধান সবগুলো হাটের অবস্থাই টেবুনিয়া হাটের মতো। এ হাটগুলোর অবস্থান কোনো না কোনো সড়ক অথবা মহাসড়কের পাশে।

একসময় এ হাটগুলোতে হাটুরেদের বেচাকেনার জন্য প্রচুর ফাঁকা জায়গা থাকলেও তার বেশিরভাগই অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ী দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে।

ফলে হাটের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় মূল হাট ছেড়ে হাটুরেদের সড়ক অথবা মহাসড়কে যেতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া-পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কের পাবনা জেলা অংশের বেড়া, কাশীনাথপুর, চিনাখড়া, বনগ্রাম, আতাইকুলা, পুষ্পপাড়া, টেবুনিয়া, দাশুরিয়া ও মুলাডুলিতেই মহাসড়ক জুড়ে হাট বসছে সবচেয়ে বেশি।

প্রত্যেক হাটবারে এ স্থানগুলো সংলগ্ন মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

তবে এ স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক যানজট দেখা দিচ্ছে চিনাখড়া, আতাইকুলা, বেড়া, কাশীনাথপুর ও টেবুনিয়ায়।

হাটবারে এ পাঁচটি স্থানে যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে থাকতে হয়। নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ সময় যাত্রীদের পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ।

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কৃষিজ পণ্যের পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্র কাশীনাথপুরে হাট বসে প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার।

পাবনা-বগুড়া মহাসড়ক সংলগ্ন এ হাটটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হাটের মূল অংশে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছুই নেই।

হাট কমিটির সদস্যরা জানান, কয়েক বছর আগেও এ স্থানগুলো ফাঁকা ছিল এবং অনায়াসে সেখানে হাটুরেদের স্থান সংকুলান হয়ে যেত।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এ স্থানগুলোতে গড়ে উঠেছে আধা-পাকা প্রচুর দোকানঘর। আর এতেই হাটুরেরা এখান থেকে বিতাড়িত হয়ে মহাসড়কের পাশে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

আরো জানা যায়, বেড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন করমজা চতুর হাটেরও ব্যাপক জায়গা দখল হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা অনেকটা প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে হাটের জায়গায় দোকানঘর তৈরি করে তা থেকে প্রচুর ভাড়া আদায় করছে।

অবৈধ এ দোকানগুলোর দখল ও ভাড়া তোলাকে কেন্দ্র করে মাঝে মাঝে গোলমালও হচ্ছে।

হাট কমিটির এক নেতা বলেন, ‘হাটে এত জায়গা থাকতেও শুধু দখলদারদের কারণে মহাসড়কে গিয়ে হাট বসছে। এতে শুধু অসহনীয় যানজটই হচ্ছে না, হাটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপও বাড়ছে।’

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘হাটের অবৈধ স্থাপনা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে।’

বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘হাটগুলোর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের বিশেষ সভায় উত্থাপন করা হবে।’

এদিকে, মহাসড়ক জুড়ে হাট বসায় সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট।

গত রোববার সকাল ১১টার দিকে আতাইকুলায় গিয়ে দেখা যায়, পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের কিছু অংশ জুড়ে হাট বসায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ যানজট।

যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

ঢাকা থেকে পাবনাগামী এক কোচ চালক ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে যানজটে আটকে আছি। আমার আবার নির্দিষ্ট সময় ঢাকা ফিরতে হবে। যাত্রীরা টিকিট নিয়ে অপেক্ষা করছেন।’

অন্য এক কোচ চালক বললেন, ‘হাটের দিন বিশেষ করে ঈদের সময় বেড়া ও কাশিনাথপুরে গাড়ি চালাইতে গিয়া কান্না পায়। এই দুই জায়গার যানজটের জন্যি আমাগরে যেমন ক্ষতি, যাত্রীগরে তার চাইতেও বেশি ক্ষতি। ছোট শিশু বাচ্চারা খুব কষ্ট পায়।’

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!