শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

পাবনায় রাস্তার উপর আবর্জনার স্তুপ! ঝুঁকি নিয়ে চলছে মানুষ

রনি ইমরান : পাবনা শহরের কয়েকটি জায়গাতে রাস্তার উপর আর্বজনার স্তুপ নিয়মিত পড়ে থাকতে দেখায় যায়।

পাবনার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এর আশেপাশে আবর্জনার স্তুপ স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছে মানুষ।

পৌরসভার অভ্যন্তরীন বসবাস করা প্রায় ২ লক্ষ মানুষের নিত্য দিনের আবর্জনা ঠিকমত অপসারণ না করায় সমস্যায় জর্জরিত পৌরবাসী।

কোথাও কোথাও আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন ভরে উপচে পড়ে থাকে দিনের পন দিন। কোথায়ও কোথাও রাস্তার উপরেই পড়ে থাকে আবর্জনা। এতে যেমন দূষিত হচ্ছে পরিবেশ তেমন ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

দিনের পর দিন আবর্জনার স্তুপ থেকে প্রচন্ড দূর্গন্ধ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। সেখানে চলাচলকারী পথচারীদের নাকে হাত দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

পাবনা শহরের মনোরম পরিবেশে সৌন্দর্য্য পূর্ণ মেডিকেল কলেজ রোড এর কৃষি খামার বাড়ির সামনে বিশাল জায়গা জুড়ে আর্বজনার স্তুপ নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না।

কখনো কখনো আবর্জনা রাস্তার অর্ধেক অংশজুড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকবার স্তুপে দাড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য।

ওই রাস্তায় চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। রাস্তার উপর আবর্জনা ফেলায় যে কোন সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা।

আবর্জনার সমস্যা পাবনা শহরের প্রায় সবখানেই কম বেশী রয়েছে। পাবনা শহরের ১৫টি ওয়ার্ডে প্রায় ২ লক্ষের বেশী মানুষ বসবাস করে। ২ লক্ষ মানুষের আবর্জনা অপসারণের প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানায় পৌর কর্তৃপক্ষ।

শহরের ১ নং ওয়ার্ড কমিশনার জানান, ‘প্রতিদিন আবর্জনা নিজে উপস্থিত থেকে পরিস্কার করাই আবার কখনও নিজেই পরিস্কার করি।

কিন্তু কষ্টের কথা হলো জনসাধারণ নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা না ফেলে ড্রেনে ফেলে এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটি হয় এবং আবর্জনা অপাসারণ করতে দ্বিগুন কষ্ট হয়।’

তিনি বলেন, আবর্জনার সমস্যার আর একটি অন্যতম কারণ হলো পর্যাপ্ত জনবল না থাকা।

পাবনা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, আবর্জনা অপসারণের জন্য ৯টি গাড়ীর ভেতর তিনটি নষ্ট হয়ে আছে। ৬টি দিয়ে চলছে আবর্জনা অপসারণে কাজ।

২১৬ জন পরিছন্ন কর্মী কাজ করছে। যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

সূত্র আরো জানায়, শহর থেকে তুলে নেওয়া আবর্জনা অন্য কোথাও কেউ ফেলতে দিতে চায়না। রিসাইকেলিং পদ্ধতি দরকার হয়ে পড়েছে যা অন্যান্য শহর গুলাতে আছে।

দুই ধরনের আবর্জনার মধ্যে ক্ষতিকর বিপদজনক হলো হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারের সংক্রামক বর্জ্য যেটা মানুষ, পশু-পাখির জন্য চরম হুমকির।

এ বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ আবুল বাশার জানান, এ আবর্জনাগুলো সংক্রামক ও বিপদজনক। আবর্জনা যেখানে সেখানে পড়ে থাকলে বৃষ্টি পানির সঙ্গে তা সর্বত্র ছড়িয়ে যায়।

এতে করে শিশুদের পানি বাহিত রোগ ডাইরিয়া, আমাশয়, পেটে পীড়াদায়ক অসুখসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়া এ বিষাক্ত আবর্জনার মধ্যে থাকা ব্যবহৃত হওয়া সিরিঞ্জ এর সুচ যদি মানব দেহে ঢোকে তাহলে সেখানে মাংস পচন, হিপাটাটিস বি ভাইরাস, এইচআইভির মত মারাত্মক অসুখে সংক্রামিত হতে পারে।

পাবনার একটি জেনারেল হাসপাতাল, একটি বক্ষব্যাধি, একটি মা ও শিশু প্রসুতি হাসপাতালসহ প্রায় ৫০টি ক্লিনিক আছে। এছাড়া ১১টি কাঁচা বাজার ও শিল্প প্রতিষ্ঠান হোটেল, বাসা বাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানের এই বৃহৎ পরিমান বর্জ অপসারনের হিমসিম খাচ্ছে পৌর কতৃর্পক্ষ।

আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ও আবর্জনা ধ্বংসের পদ্ধতির জন্য করণীয় সকল ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য পৌরকর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন শহরবাসী।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!