রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় রোজার শুরুতেই অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার, দেখার কেউ নেই

image_pdfimage_print
রোজার শুরুতেই অস্থির পাবনার নিত্যপন্যের বাজার

রোজার শুরুতেই অস্থির পাবনার নিত্যপন্যের বাজার

শহর প্রতিনিধি : পাবনা শহরে রোজার শুরুর সাথে সাথে অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার। কাঁচা মরিচের ঝাঁঝ বেড়েছে। বেড়েছে মাছ-মাংসেরও দাম।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্যের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলেছেন আমদানি কম থাকার কারণে বাজার ঊর্ধ্বমুখী। আর রাজধানীর বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় পাবনা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
শহরের প্রধান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারে সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়েছে। গত ৭ দিনের ব্যবধানে হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার।
দাম বেড়েছে চিনি, ছোলা, মশুরডাল, বুট, মাছ-মাংস, ডিম, দেশী মুরগি, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, রসুনের। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪শ২০টাকা, খাশির মাংস ৬শথেকে সাড়ে ৬শটাকা, দেশী মুরগি ৩শ৮০টাকা, কাঁচা মরিচ ৪২ ও রসুন ১শ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি আমদানি কম থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে চাল, লবন, মশলা, আলু ও কাঁচা বাজারের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও পোলাওয়ের চালের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা।
বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে রমজানকে সামনে রেখে পাবনায় ভ্রাম্যমান ট্রাকে সরকারি বিপনন সংস্থা টিসিবি’র পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। পাঁচটি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য স্বল্প মুল্যে পাওয়ার এই ব্যবস্থাকে স্বাগত জানালেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পেয়ে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।
কেউ কেউ পণ্যের মান নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, পাবনার মতো বড় শহরে মাত্র দু’টি ট্রাকে কতজনকেই বা দেয়া যাবে এই সেবা। ট্রাক ও বিক্রির পয়েন্ট বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ভোক্তারা।
শহরে বাজার করতে আসা ক্রেতা সুলতানা বলেন, রোজার শুরু থেকেই যে হারে সব নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তাতে আমাদের মতো কম আয়ের মানুষদের অনেক সমস্যায় পড়তে হবে।

হাজি সুপার মার্কেটের দোকান মালিক রেজাউল করিম জানান৭ দিনের ব্যবধানে প্রতিটি জিনিপত্রের দাম বেড়ে গেছে।

চাল ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম জানান, পুরান চাল বাজারে থাকায় তেমন একটা দাম বাড়েনি। নতুন চাল আমদানি হওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

অন্য একজন ক্রেতা ইউনুস আলী বলেন, রোজা আসলে সব জিনিপত্রের দাম বেড়ে যায়। এই বিষয়টা সব সময় হয়ে থাকে। আর ঢাকার বাজারে দাম বাড়লে জেলা শহরেও দাম বেড়ে যায়। 

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, গত ২৯ মে থেকে পাবনায় শুরু হয়েছে ভ্রাম্যমান ট্রাকে স্বল্প মুল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি। দু’টি ট্রাকে খোলা বাজারে চলছে এই পণ্য বিক্রি। এখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ৪টি পণ্য। মিলছে চিনি, ছোলা, মশুর ডাল ও সয়াবিন তেল। খেজুর বিক্রির কথা থাকলেও তা মিলছে না।

জেলার ঈশ্বরদী উপজেলা দু’জন ডিলার সুমন স্টোরের সিরাজুল ইসলাম শিবলু ও ইসলামি ট্রেডার্সের সাইফুল ইসলাম টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করছেন।

প্রতি কেজি চিনি ৪৮ টাকা, সয়াবিন তেল ৮০ টাকা, মশুর ডাল ৯০ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একজন ক্রেতা একসাথে ২ কেজি ডাল, ৪ কেজি চিনি, ৫ কেজি ছোলা ও ৫ লিটার তেল কিনতে পারবেন। কিন্তু ক্রেতাদের ভীড় ও চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই এসব পণ্যের। কিনতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জেলা প্রশাসক ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছিলেন যে, “পবিত্র মাহে রমজানে অধিক মুনাফা করলে এবং ভেজাল খাদ্য বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে”।

গত ৫ জুন বিকেলে পাবনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কর্তৃক আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির ভাষণে পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এর বাস্তব প্রতিফলন বাজার ব্যবস্থার উপর প্রয়োগ চোখে পরছে না বলেই সচেতন মহল মনে করছেন।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!