সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় শিক্ষকের নির্যাতনে ছাত্রী হাসপাতালে- বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

পাবনা প্রতিনিধি : গত বুধবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে পাবনা সদর উপজেলার টেবুনিয়া ওয়াছিম পাঠশালার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের নির্যাতনে আহত হয়ে পাপিয়া খাতুন অন্যন্যা নামে ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি  করার ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় ওই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের মারপিটে আরও ৭/৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।

এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন।

বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশের পরপরই দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক এবং অভিযুক্ত শরীর চর্চার শিক্ষক জাবিহুল্লাহ।

তারা ইতিমধ্যে ওইদিন মারপিটের শিকার একাধিক শিক্ষার্থীর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেছেন। 

গতকাল শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক এবং অভিযুক্ত শরীর চর্চার শিক্ষক জাবিহুল্লাহ আহত অপর শিক্ষার্থী জীমের গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার মনোহারপুর গ্রামে গিয়ে একটি সাদা কাগজে জীমের বাবা মো: মহিদুল ইসলামের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।

এছাড়াও মারপিটের শিকার একাধিক শিক্ষার্থীর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সাদা কাগজে অভিভাবকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তারা। 

এদিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

টেবুনিয়া ওয়াছিম পাঠশালার এই প্রধান শিক্ষক ফজলুল হকের বিরুদ্ধেও বিভিন্নভাবে ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে একাধিক ছাত্রীকে তিনি প্রেমপত্র লিখে ধরা পড়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণ, ছাত্রীদের গায়ে হাত তোলাসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি।

এছাড়াও গত ২০১৭ সালে অত্র প্রতিষ্ঠানে ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন না করায় তাকে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো। 

উল্লেখ্য, গত বুধবার টেবুনিয়ায় শিক্ষকের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে পাপিয়া খাতুন অনন্যা (১৩) নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী হাসপতালে ভর্তি হয়। এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পাপিয়ার এক সহপাঠি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শ্রেণিকক্ষে ছাত্র ছাত্রীরা দুষ্টুমি করছিলো এ সময় হঠাৎ ঐ শিক্ষক হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পাপিয়াসহ ৭ থেকে ৮ জনকে বেদম মারপিট করে।

মরপিটের সময় পাপিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে বিদ্যালয়েই পানি ঢেলে পাপিয়াকে সুস্থ তরে তোলার চেষ্টা করা হয়। তাতে পাপিয়ার অবস্থার কোন উন্নতি না হলে অভিযুক্ত শিক্ষক জাবিহুল্লাহ পাপিয়াকে কোলে করে একটি সিএনজিতে তুলে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

মারপিটের শিকার অপর ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই শিক্ষক ক্লাসে তাদের গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

বিষয়টি নিয়ে ওই দিনই পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহেদ পারভেজ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, ‘অভিযোগ প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিষয়টির বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জয়নুল আবেদীন। 

এদিকে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশের পরপরই ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক এবং অভিযুক্ত শরীর চর্চার শিক্ষক জাবিহুল্লাহ দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। 

টেবুনিয়া ওয়াছিম পাঠশালার নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘একজন শিক্ষক নবম শ্রেণির মেয়ের গায়ে হাত তোলেন কিভাবে? বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে খতিয়ে দেখা জরুরী’।

এদিকে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অন্যথায় মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচী গ্রহন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!