শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি অযত্ন-অবহেলায়, সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই

পাবনায় সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি অযত্ন-অবহেলায়, সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই

image_pdfimage_print
পাবনায় সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি অযত্ন-অবহেলায়, সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই

পাবনায় সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি অযত্ন-অবহেলায়, সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই

বার্তাকক্ষ : পাঁচ বছরের আন্দোলন ও আইনি লড়াই শেষে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নেয় পাবনা জেলা প্রশাসন। তবে দুই বছরেও সেটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং অযত্ন-অবহেলায় এটি নষ্ট হচ্ছে। এমনকি ঘরের দরজা-জানালা চুরির ঘটনাও ঘটছে।

জেলা প্রশাসন ও সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে পাবনার তৎকালীন জেলা প্রশাসন জামায়াতে ইসলামী-নিয়ন্ত্রিত ইমাম গাজ্জালী ট্রাস্টকে বাড়িটি বাৎসরিক ইজারা দেয়। ট্রাস্ট বাড়িটিতে ইমাম গাজ্জালী ইনস্টিটিউট নামের একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। ২০০৯ সালে শহরবাসী বাড়িটি দখলমুক্ত করে সেখানে সুচিত্রা সেন সংগ্রহশালা করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। আইনি জটিলতা শেষে ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই পাবনা জেলা প্রশাসন বাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তালাবদ্ধ করে দেয়।

শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির প্রধান ফটকের তালায় মরিচা পড়েছে। পুরো আঙিনা ছেয়ে গেছে কাশবনে। লতানো জংলি গাছে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে পুরো বাড়ি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে বাড়িটি তালাবদ্ধ রয়েছে। ঠিকমতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না। ফলে বাড়িটি জঙ্গলে ঢেকে গেছে। পাহারা না থাকায় রাতে ও দিনে বাড়িটিতে বসছে নেশাখোরদের আড্ডা। ইতিমধ্যে বাড়ির বেশ কয়েকটি দরজা-জানালা চুরি হয়ে গেছে।

সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাম দুলাল ভৌমিক বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমি বাড়িটিতে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা করবে বলে জানতে পেরেছি। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও কিছু উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজেরই অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে পাবনার মানুষ হতাশ হচ্ছে।’

নাট্যসংগঠন পাবনা ড্রামা সার্কেলের সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সুচিত্রা সেনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা তাঁর পৈতৃক বাড়িটি দখলমুক্ত করার আন্দোলনে নেমেছিলাম। আন্দোলন সফল হয়েছে। কিন্তু এভাবে বাড়িটি অবহেলায় নষ্ট হবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।’

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো বলেন, ‘বাড়িটির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। ফলে তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখতে হয়েছে। এতে কিছু অবহেলা হচ্ছে। তবে আমরাও বাড়িটি সংরক্ষণের তাগিদ অনুভব করছি।’

পাবনা শহরের এই বাড়িতে সুচিত্রা সেনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে। ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের পর তিনি কলকাতায় চলে যান। সুচিত্রা সেনের বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ১৯৬০ সালে বাড়িটি জেলা প্রশাসনের কাছে ভাড়া দিয়ে পরিবার নিয়ে কলকাতায় যান। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি সুচিত্রা সেন কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!