বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় সোনালী আঁশে কৃষক হাসে

পাবনায় সোনালী আঁশে কৃষক হাসে

image_pdfimage_print
পাবনায় সোনালী আঁশে কৃষক হাসে

পাবনায় সোনালী আঁশে কৃষক হাসে

বিশেষ প্রতিবেদক: গেল কয়েক বছর ধরে লোকসান গুনতে গুনতে সোনালী আঁশ খ্যাত পাট নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন কৃষকরা। কিন্তু এ বছর ফলন ও দাম দুটোই ভালো হওয়ায় কৃষকের মলিন মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয়েছে পাবনাতে।

এরই মধ্যেই পাবনার বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারে নতুন পাট ওঠতে শুরু করেছে। বাজারে নতুন পাট বিক্রির শুরুতেই বাড়তি দামে সোনালী স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। তবে চারিদিকে এখনও সবুজের সমারোহ। মাঠে মাঠে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

পাবনা জেলায় দেশী পাট আবাদ হচ্ছে ১৫৩ হেক্টর জমিতে। তোষা পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ৩৬ হাজার ৯৭৯ হেক্টর জমিতে। মেস্তা পাট আবাদ ধরা হয়েছে ১১০ হেক্টর জমিতে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরনের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতর মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন পাবনা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক খুরশিদ আলম।

আটঘরিয়া উপজেলায় মোট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩ হাজার ৮৮৬ হেক্টর। এ উপজেলায় মোট উৎপাদন আশা করা হয়েছে ৪২ হাজার ৯২৮ দশমিক ৪ বেল পাট। এর মধ্যে দেশী পাট রয়েছে ০৫ হেক্টর, উৎপাদন ধরা আছে ৪৬ বেল। তোষা জাতের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৮০ হেক্টর, উৎপাদন আশা করা হয়েছে ৪২ হাজার ৮৭৪ বেল। মেস্তা জাতের পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ০১ হেক্টর, উৎপাদন ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৪০ বেল পাট।

ঈশ্বরদী উপজেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধাবন করা হয়েছে ৫১০ হেক্টর জমি। উৎপাদন নির্ধারন করা হয়েছে ৫ হাজার ৬১৩ বেল পাট। এর মধ্যে দেশী পাটের আবাদ হবে ০৫ হেক্টর, উৎপাদন হবে ৪৬ বেল, তোষা জাতের আবাদ হবে ৫০০ হেক্টর, উৎপাদন হবে ৫ হাজার ৫২৫ বেল পাট। মেস্তা জাতের পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ০৫ হেক্টর উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪২ বেলপাট।

চাটমোহর উপজেলায় পাট আবাদের মোট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমি। উৎপাদন আশা করা হয়েছে, ৫৯ হাজার ৩৭৫ বেল পাট। এর মধ্যে দেশী জাতের পাটের আবাদ হবে ৬০ হেক্টর, উৎপাদন আশা আছে, ৫৫৬ বেল, তোষা জাতের পাটের আবাদ নির্ধারন করা হয়েছে ৫ হজার ২৮৫ হেক্টর জমি, উৎপাদন আশা আছে ৫৮ হাজার ৩৯৯ বেল, মেস্তা আবাদ হবে ৫০ হেক্টর, উৎপাদন আশা করা আছে ৪২০ বেলপাট।

ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মোট পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ৫২৫ হেক্টর জমি। উৎপাদন আশা করা হয়েছে, ৫ হাজার ৬৮৫ বেল পাট। এ উপজেলায় দেশী জাতের পাট আবাদ হবে ৪৫ হেক্টর, উৎপাদন নির্ধারিত আছে ৪১৭ বেল, তোষা জাতের পাটের আবাদ হবে ৪৬৫ হেক্টর, উৎপাদন হবে ৫ হাজার ১৩৮ বেল। মেস্তা পাটের আবাদ হবে ১৫ হেক্টর, উৎপাদন ধরা আছে ১২৬ বেল পাট।

ফরিদপুর উপজেলায় মোট পাটের আবাদ হবে ৬৩১ হেক্টর জমি। উৎপাদন হবে ৯ হাজার ৯২৯ দশমিক ৫ বেল পাট। এর মধ্যে দেশী জাতের আবাদ হবে ০২ হেক্টর, উৎপাদন ধরা হয়েছে, ১৮ দশমিক ৫ বেল। তোষা জাতের পাটের আবাদ হবে ৬১৪ হেক্টর, উৎপাদন আশা আছে ৬ হাজার ৭৮৫ বেল। মেস্তা পাটের আবাদ হবে ১৫ হেক্টর, উৎপাদন হবে ১২৬ বেলপাট।

বেড়া উপজেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৩ হেক্টর জমি। উৎপাদন নির্ধারিত আছে ১৮ হাজার ৫৯০দশমিক ৩ বেল পাট। এ উপজেলায় দেশী জাতের পাট আবাদ করা হবে ০১ হেক্টর জমি, উৎপাদন আশাকরা হচ্ছে ১০ বেল, তোষা জাতের আবাদ হবে ১ হাজার ৬৮০ হেক্টর, উৎপাদন হবে ১৮ হাজার ৫৬৪ বেল পাট। মেস্তা পাটের চাষ হবে ০২ হেক্টর, উৎপাদন ধরা আছে ১৭ বেলপাট।

সাঁথিয়া উপজেলায় মোট পাটের আবাদ আশা করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৮২ হেক্টর, উৎপাদন আশা করা হয়েছে ৬৪ হাজার ৯৮২ বেল পাট। এখানে দেশী জাতের পাট আবাদ হবে ০৫ হেক্টর জমি, এ জমি থেকে উৎপাদন হবে ৪৬ বেলপাট। তোষা জাত পাটের আবাদ হবে ৫ হাজার ৮৭৫ হেক্টর, উৎপাদন ধরা হয়েছে ৬৪ হাজার ৯১৯ বেল, মেস্তা পাটের আবাদ ধরা হয়েছে ০২ হেক্টর , উৎপাদন নির্ধারিত আছে ১৭ বেলপাট।

সুজানগর উপজেলায় মোট পাটের আবাদ হবে ১০ হাজার ৫৩৫ হেক্টর। উৎপাদন হবে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৫৯ বেল। দফা ওয়ারি দেখা যায়, সুজানগরে দেশী জাতের পাট আবাদ হবে ১৫ হেক্টর, উৎপাদন আশা করা হয়েছে ১৩৯ বেল, তোষা জাতের পাটের আবাদ হবে ১০ হাজার ৫১০ হেক্টর উৎপাদন আশা করা হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ১৩৬ বেল এবং মেস্তা জাতের পাট আবাদ হবে ১০ হেক্টর, উৎপাদন নির্ধারন করা হয়েছে ৮৪ বেল পাট। পাবনা জেলায় এ বছর সুজানগর উপজেলাতে পাটের আবাদ ও উৎপাদন বেশী আশা করা হচ্ছে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকাকে জানান, গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে ১ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশী করা হচ্ছে। উৎপাদনও বাড়বে ২১ হাজার ৬১১ বেল পাট।

গত মৌসুমে জেলার নয়টি উপজেলাতে ৩৫ হাজার ৯৯৩ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩৪৮ বেল পাট।

সরকার পাটের বস্তা ব্যবহারের উপর জোড় দেবার কারনে পাটের দাম বেড়েছে। ফলে পাট চাষীরা ভাল লাভবান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের ক্ষুদ্র মাটিয়াবাড়ি গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকাকে জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে পাট কাটা শুরু হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে পাট কাটা শুরু হবে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে ছিলো। পাট ক্ষেতে পোকার আক্রমণও কম হয়েছে। তাই ফলন ভালো হয়েছে।

একই উপজেলার রাণী গ্রামের কৃষক রাজাই প্রামানিক নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকাকে জানান, সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে পাটের চাষ প্রতি বছরই বাড়ছে। এবার পাটের আবাদও ভালো হয়েছে। বর্তমানে বাজারে পাটের দামও ভালো রয়েছে। পাটের দাম না কমলে তারা লাভের মুখ দেখবেন বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, গতবছর শুরুতেই বাজারে পাটের দাম ছিলো ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা মণ। কিন্তু বর্তমানে ১৭শ’ থেকে ১৯শ’ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে পাট কাটা ও জাগ দেওয়া পুরোদমে শুরু হবে। তাই সেই পাট বাজারে আসতে আসতে দাম আরও বাড়বে।

চলতি সপ্তাহ থেকে যারা পাট কাটছেন তারা এখন তা জাগ দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শ্রাবণের বর্ষণ চলছে। বৃষ্টির পানিতে পুকুর, ডোবা ও খালগুলো টই-টম্বুর। তাই পাট জাগ দেওয়া নিয়েও কোনো দুশ্চিন্তা নেই। এখন বাড়তি দাম পেলে পাটে ভাগ্য ফিরবে কৃষকের।


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!