শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১০:২০ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় স্কুল পরিচালকের শহীদমিনার অবমাননা : শাস্তির দাবীতে ফেসবুকে ঝড় 

জুতা পায়ে শহীদ মিনারে লিয়াকত হোসেন (মাঝে), ফেসবুকে মন্তব্য (বামে) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নির্দেশ (ডানে)

image_pdfimage_print

নিজস্ব প্রতিনিধি : পাবনার বেড়া উপজেলার কাশীনাথপুরে অবস্থিত এল কে রিয়েল এস্ট্রেট কোং লি. এবং এল কে প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম লিয়াকত হোসেন জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদির ওপরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সেই ছবি ফেসবুকে আপলোড করেছেন।

শনিবার (৮ জুলাই) তিনি তার নিজ নামের ফেসবুক আইডিতে ছবি আপলোড করলে আলোচনার ঝড় ওঠে।

শহীদ মিনারের মূল বেদিতে ওঠার নিয়ম ভেঙেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ও সিটিজেন ভয়েস অব পাবনায়।

অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জোর দাবী জানিয়ে মন্তব্য করেছেন অর্ধশতাধিক ফেসবুক ব্যবহারকারী।

হুমায়ুন কবির নামের একজন তার মন্তব্যে বলেন, ‘শহীদ মিনার অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদী চেতনাকে উজ্জীবিত করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন পরিচালক হয়েও তিনি যে অপরাধ করেছেন, এটা দেশদ্রোহীতার শামিল।’

শামীম হোসেন নামের অন্য একজন বলেন, ‘শহীদ মিনারের বেদিতে জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ওই ব্যক্তির সুশিক্ষা ও বিবেকবোধ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এরকম দেশদ্রোহী কাজের জন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

এনামুল সোহেল নামের একজন লিখেছেন, ‘শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে যে অপরাধ করেছেন, এটা অমার্জনীয় অপরাধ। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিচার হওয়া উচিত।’

কাশীনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এম শাহবুদ্দিন তার ফেসবুক পেজে ওই ছবিটি পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘এখনো স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে এ রকম শহীদ মিনারকে অবমাননা- এটা মেনে নেয়া যায় কি? যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারছি- শহীদ মিনার অবমাননা মানে তাদের অবমাননা।’

রোববার (৯ জুলাই) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ব্যক্তির শাস্তির দাবীতে ফেসবুকে ও সিটিজেন ভয়েসে প্রায় অর্ধশতাধিক মন্তব্য প্রকাশিত হয় এবং কয়েক মন্তব্যকারী ওই ব্যক্তির মদ খাওয়ার ছবি আপলোড করে বলেন, ‘যার অফিসের ড্রয়ারে সব সময় মদ আর গাজা মজুদ থাকে, শিক্ষাকে যে সব থেকে নিরাপদ বিনিয়োগ স্থান ও লাভজনক ব্যবসা মনে করে তার কাছ থেকে এর থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় না। সে কিভাবে শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষা করবে?

এ ঘটনায় আজ রোববার পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা খাতুন বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ঘৃণিত আচরণ। আশা করছি উপজেলা প্রশাসন, বেড়া, পাবনা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রাখা ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করার জন্য জেলা প্রশাসন, পাবনা হতে ইতোপূর্বে চিঠি প্রদান করা হয়েছে।’ এ ছাড়াও তিনি পাবনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনকেও ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে এসএম লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আমাকে শহীদ মিনারের নিয়ম শেখাতে হবে না।’

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!