মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০১ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনায় ২২ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯৩ জন নিহত!

পাবনার মহাসড়কে দুর্ঘটনা কবলিত একটি বাস।

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : পাবনা-ঢাকা মহাসড়কে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের মধুপুর মোড়ে বাঁক রয়েছে। এ কারণে এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সতর্ক করে বাঁকের দুপাশে সাঁটানো হয়েছে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড।

গতি কমানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অনেক চালক গতি কমানোর বদলে আরও বাড়িয়ে দেন। এতে দুর্ঘটনা ঘটে।

গত ১৯ এপ্রিল সকালে এই বাঁকে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে তিনজন নিহত হয়। আহত হয় আরও ৩০ জন। তাদের বেশ কয়েকজনের হাত, পা ও বুকের হাড় ভেঙে গেছে।

এর আগে গত বছরের ১৫ আগস্ট একই মহাসড়কের কাশিনাথপুর মোড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ছয়জন।

পাবনা-ঢাকা, পাবনা-রাজশাহীসহ জেলার অভ্যন্তরীণ মহাসড়কগুলোতে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে মহাসড়কের কোনো না কোনো বাঁকে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জেলা কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে মোট ৮৪৫টি। এতে নিহত হয়েছে ১৯৩ জন। আহত হয়েছে আরও ১ হাজার ৫৭৬ জন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পাবনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইউনুস আলী বলেন, আঁকাবাঁকা মহাসড়কে গাড়ি পাশ কাটানোর সময় বিপরীত দিক দেখা যায় না, অনেক সময় দেখা গেলেও বাঁকে দুটি গাড়ির দূরত্ব চালকেরা ঠিক আন্দাজ করতে পারেন না।

এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা এড়াতে বাঁকগুলোতে যানবাহনের গতি কম রাখা উচিত।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা থেকে বিভিন্ন দিকে অভ্যন্তরীণ মহাসড়কগুলোতে ছোট-বড় অন্তত ৫০টি বাঁক রয়েছে।

পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাবনা থেকে নগরবাড়ী পর্যন্ত বাঁক রয়েছে আটটি। এর মধ্যে মধুপুর, মাধপুর, বহালবাড়ি, বনগ্রাম, চিনাখড়া, দুলাই ও কাশিনাথপুর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ছাড়া পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কে মজিদপুর, মালিগাছা, টেবুনিয়া, তেঁতুলতলা, কালিকাপুর, আট মাইল, সিট গোডাউন এবং দাশুড়িয়া বাঁক, বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুর থেকে সিরাজগঞ্জ বাঘাবাড়ী পর্যন্ত চাকলা, বড়াট ও শহীদনগর বাঁক অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। আর এসব বাঁকেই অধিকাংশ যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

সম্প্রতি দুই দফায় সরেজমিনে দেখা গেছে, পাবনা-ঢাকা ও পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে অটোরিকশা এবং ইঞ্জিনচালিত নছিমন-করিমন।

পাবনা কলেজের শিক্ষক আরিফ আহম্মেদ সিদ্দিকী বলেন, তিনি প্রতিদিন পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের টেবুনিয়া মোড় থেকে জেলা সদরে গিয়ে শিক্ষকতা করেন।

ফলে প্রতিদিনই মহাসড়কে বহু অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে হয়। মোড়গুলোতে যানবাহনের গতি কমানোর পরিবর্তে গতি বেড়ে যায়। কে আগে যাবেন—চালকেরা এই প্রতিযোগিতা করেন। আগে গিয়ে যাত্রী তোলার চেষ্টা করেন। ছোট যানবাহনগুলোও বাসের আগে গিয়ে যাত্রী তুলতে চায়। এ কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

কাশিনাথপুর মোড়ের ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন বলেন, এ মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে চালকেরা ইচ্ছামতো গাড়ি চালান। ছোট যানবাহন মহাসড়কে উঠে আসে। কেউ তা তদারক করেন না।

সওজ বিভাগের পাবনার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো চিহ্নিত করেছি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এসব বাঁক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। তা ছাড়া দুর্ঘটনাপ্রবণ এসব বাঁকের একটি তালিকা পুলিশসহ প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে। তাঁরাও বিভিন্নভাবে খেয়াল রাখছেন।’

পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। অতিরিক্ত গতিতে কোনো চালক গাড়ি চালালে তাঁকে সতর্ক করা হচ্ছে।


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!