পাবনা আলিয়া মাদরাসার সাবেক প্রধান মুহাদ্দিসের ইন্তেকাল

Shok_01বিশেষ প্রতিনিধিঃ উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম ও পাবনা আলিয়া মাদরাসার সাবেক প্রধান মুহাদ্দিস অসংখ্য আলেমের শিক্ষক মাওলানা মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রজিউন)। মঙ্গলবার নাটোরের সিংরা হাসপাতালে বিকেল সাড়ে ৪ টায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। দীর্ঘদিন তিনি বার্ধক্য জনিত কারনে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ১ মেয়ে স্ত্রীসহ অসংখ্য ছাত্র ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গত তিন দিন আগে মরহুমের এক ছেলে আব্দুল হাকিম মারা যান। মৃত্যুর পুর্বে ছেলের শোকে তিনি বেশী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মাওলানা মোহাম্মদ ছফিউল্লাহ সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানার মধ্যশিমুলিয়া নামক গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন । তার পিতার নাম মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ সরকার। তাঁর আবাস ভূমি যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ১৯৮২ সালে সালে নাটোরের সিংরা উপজেলার কলম ইউনিয়নের বলিয়াবাড়ী নামক গ্রামে স্থানান্তরিত হন।

বর্তমানে তিনি সেখানেই বসবাসরত ছিলেন। মাওলানা মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ ১৯৬৬ ইং সালে জামেয়াহ কোরআনিয়াহ আরাবিয়াহ লালবাগ ঢাকা থেকে দাওরা-ই হাদীস পাশ করেন।

১৯৭২ সালে টাঙ্গাইল দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসা থেকে হাদীস বিভাগে কামিল পরীক্ষা পাশ করেন। ১৯৭৩ ইং সনে কাগমারী মোহাম্মদ আলী সরকারী কলেজ (নৈশ বিভাগ) থেকে কলা বিভাগে স্নাতক পাশ করেন। তৎপর রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে এম.এ. (আরবী) উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসায় সহকারী মওলানা হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত উত্তর বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী পাবনা কামিল মাদাসায় প্রধান মুহাদ্দিস পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক মনোনীত (মাদরাসা বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটির সদস্য ছিলেন।

এছাড়া তিনি পাবনা আলিয়া মাদরাসা জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। তার খুৎবা শোনার জন্য দুর দুরান্ত থেকে মুসল্লিরা ছুটে আসতেন মসজিদে। তিনি তার খুৎবায় উচিৎ কথা বলতে কারো পরওয়া করতেন না। তার হাতে তৈরী হয়েছে অসংখ্য আলেম। বলতে গেলে বর্তমানে উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ আলেম কোন মাসয়ালা মাসায়েল সম্পর্কে সমস্যায় পড়লে তার কাছ থেকে এসে সমাধান নিতেন।

তিনি “ইসলামের মূলনীতি মালা” নামক বই লিখে গেছেন। এই বইতে তিনি সুন্দর ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে মানুষের ধারনা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বিভিন্ন মাহফিলে বক্তব্যও রাখতেন। ইসলামকে তিনি অতি সহজে যুক্তির সাথে মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারতেন।
তার মৃত্যুতে দেশবাসী একজন প্রখ্যাত আলেমকে হারালেন। যা কখনও পুরন হবার নয়। তার মৃত্যুতে পাবনা আলিয়া মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কালাম আহমেদ, অধ্যক্ষ মাওলানা আনসারল্লাহ, সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সামাদ,পাবনা চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ সভাপতি মাহবুব উল আলম মুকুল, পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আঁখিনূর ইসলাম রেমন, শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম, পাবনা ইসলামিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস শাকুর, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ, দৈনিক ইছামতির প্রধান প্রতিবেদক ছিফাত রহমান সনম, দৈনিক নিউ এজের প্রতিনিধি মাহফুজ আলম, দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি এসএম আলাউদ্দিন, হুজুরের খাদেম ওমর ফারুক, ছাত্র আব্দুল আলিম প্রমূখ গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।