শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০৩ অপরাহ্ন

কুমিল্লায় পবিত্র কোরান অবমাননা সংক্রান্ত খবরটির প্রতি সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সকলকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।- ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

পাবনা আ.লীগের ২০ নেতা-কর্মীকে ক্ষমা করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বার্তাকক্ষ : পাবনা পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহ করা ২০ নেতা-কর্মীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিদ্রোহী এসব নেতা-কর্মী দলীয় প্রধানের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি দিলে প্রধানমন্ত্রী তাদের ক্ষমা করে দেন। তবে ভবিষ্যতে যারা দলের শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কাজ করবে বিভিন্ন জায়গায়, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিকভাবে শাস্তিমূলক ব‌্যবস্থা নিতে হবে। কাউকে কোনো ব‌্যাপারে ছাড় দেওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করে দেন আওয়ামী লীগ প্রধান।

বৃহস্পতিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এই সতর্ক বার্তা দেন।
একই সঙ্গে তিনি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে তৃণমূল পর্যায় থেকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন আসছে, কাজেই দলকে আরো শক্তিশালী করে তোলার বিষয়ে আমাদের মনযোগী হতে হবে।’

তিনি বলেন, এবারের করোনাভাইরাসের সময় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেভাবে আর কোন রাজনৈতিক দলকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি দেখেন নি।

শেখ হাসিনা বলেন, মূলত কেউ দাঁড়ায়নি। এই ব্যাপারে অন্য দলগুলোর কোন আগ্রহ ছিল না। তাদের কাজই ছিল প্রতিদিন টেলিভিশনে বক্তৃতা বা বিবৃতি দেওয়া এবং আওয়ামী লীগের একটু সমালোচনা করা। তাদের যেন একটাই কাজ আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করতেই হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের সময় সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। তবে, কখনো সরকারের একার পক্ষে এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব ছিল না।

তিনি বলেন, আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে একটাই কারণে যে, আমাদের একটা শক্তিশালী সংগঠন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আছে। আর সেটা আছে বলেই আমরা এটা করতে সক্ষম হয়েছি। যেটা আমার বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জানি একথা কেউ হয়তো বলবেও না লিখবেও না, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এককভাবে শুধু সরকারি লোক দিয়ে সবকিছু করা সম্ভব হয় না। তারাও করেছে খুব আন্তরিকতার সাথে। আমাদের প্রশাসনে যে যেখানে ছিল বা পুলিশ বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, বিডিআর, আনসার প্রত্যেকে এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মীরা।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রথম দিকে একটু ভীতি ছিল কিন্তু তাঁর সরকারের প্রণোদনা এবং উৎসাহে তারা কাজ করতে পেরেছে। শেখ হাসিনা বলেন, হাজার হাজার ডাক্তার এবং নার্স আমরা নিয়োগ দিয়ে চেষ্টা করেছি করোনা মোকাবেলা করার জন্য। আবার ভ্যাকসিন কেনার ব্যাপারে আমরা সবার আগে উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের বিপদ হয়ে গিয়েছিল যে, ভারতে এত ব্যাপকহারে করোনা দেখা দিল যে, চুক্তি থাকা সত্বেও তারা ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারছিলো না। তারপরেও আমরা পৃথিবীর যেখান থেকে পেরেছি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছি এবং এখন আর সমস্যা হবে না। আমরা নিয়মিত পাব এবং আমাদের দেশের মানুষকে আমরা দিতে পারবো। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা মানুষের কোন কাজের সুযোগ ছিলনা, ঘরে বন্দি, খাবারের অভাব। সেই সময় আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রত্যেকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে।

এ সময় তিনি দলের বহুনেতা-কর্মীর মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কত মানুষকে যে আমরা হারালাম। এমন কোনো দিন নেই যে, মৃত্যু সংবাদ না আসতো। আজকেও কিছুক্ষণ আগে খবর পেয়েছি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফির স্ত্রী মারা গেছেন। তিনি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বলেই দেশের উন্নতি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বলেই এই করোনা মোকাবেলা সম্ভব হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ আছে বলেই মানুষ অন্তত সেবা পাচ্ছে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা আছে এবং যারা আমাদের সমালোচনা করেন তাদের শুধু বলবো যে, অতীতে আমাদের দেশে কি অবস্থা ছিল? ‘৭৫ এর পর থেকে ‘৯৬ পর্যন্ত কি অবস্থাটা ছিল, সেটা যেন তারা একটু উপলব্ধি করে। তবে, কিছু ভাড়াটে লোক রয়েছে সারাক্ষণ মাইক লাগিয়ে বলতেই থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি আলোচিত পাবনা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জেলা যুবলীগের আহবায়ক আলী মুর্তজা বিশ্বাস সনিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী করায় ক্ষুব্ধ হন আওয়ামী লীগের এক অংশের নেতারা।

এদিকে জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শরিফ উদ্দিন প্রধানকে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেন আওয়ামী লীগের এক অংশের নেতারা। প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন। তাদের ব্যাপক তৎপরতা ও প্রচার-প্রচারণায় বিদ্রোহী প্রার্থী শরিফ উদ্দিন প্রধানের কাছে মাত্র ১২২ ভোটে পরাজিত হন নৌকার প্রার্থী সনি বিশ্বাস।

নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত ২৮ জানুয়ারি পাবনা জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় ১৮ নেতা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ।

যাদের নোটিশ দেয়া হয়েছিল তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বাবু, আব্দুল হামিদ মাস্টার, যুগ্ম সম্পাদক আবু ইসাহাক শামীম, অ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল্লু, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল বারী বাকী, দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবু, প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন, ধর্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, শ্রম সম্পাদক সরদার মিঠু আহমেদ, কার্যকরী সদস্য ইমদাদ আলী বিশ্বাস, উপদেষ্টা ইদ্রিস আলী বিশ্বাস, আ স ম আব্দুর রহিম পাকন, লিয়াকত আলী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহীন, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি তসলিম হাসান সুমন, সাধারণ সম্পাদক শাজাহান মামুন প্রমুখ।

সে সময় পাবনা আ’লীগের বিদ্রোহী নেতাদের যা বলে সতর্ক করেছিলেন ওবায়দুল কাদের (ভিডিও)

সেই সময়ে নির্বাচন নিয়ে নিউজ পাবনার এটি ভিডিও প্রতিবেদন:

0
1
fb-share-icon1


© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!