রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১১ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনা চিনিকলে লোকসানের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনা চিনিকলের লোকসানের বোঝা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে আজবধি অর্থাৎ দুই যুগেও  লাভের মুখ দেখেনি পাবনা চিনিকল। বর্তমানে আখ সংকট চরমে। আখের অভাবে বিগত কয়েক বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ এই চিনিকল চিনি উৎপাদন করতে পারছে না।

এদিকে আখের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চাষিরা আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন । পাশাপাশি প্রতিবছর অবিক্রীত থাকছে হাজার হাজার মেট্রিকটন চিনি। ফলে নানা সংকটে জর্জরিত এই চিনিকলের লোকসানের পাল্লা ক্রমশই ভারী হচ্ছে।

চিনিকলের সাথে সংশ্লিষ্ঠরা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এই বাস্তবতার মধ্যেই ২৭৭ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে বিগত বছরে মাড়াই মৌসুমে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৯ই ডিসেম্বর হতে পাবনা চিনিকলে আখ মাড়াই শুরু করে। কিন্তু আখের অভাবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অনেক আগেই চিনিকল বন্ধ হয়ে যায়।

১৯৯২ সালে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়ায় ৬০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা চিনিকল। ১৯৯৬ সালে বাণিজ্যিকভাবে চিনি উৎপাদনে যাওয়ার পর হতে বিগত প্রায় দুই যুগে কখনোই লাভের মুখ দেখেনি।

আখের স্বল্পতা, আখ হতে চিনি আহরণের পরিমাণ কম থাকা, মাথাভারী প্রশাসন, উৎপাদিত চিনি অবিক্রীত থাকাসহ নানাবিধ সংকটে পাবনা চিনিকলের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা।

প্রতিবছর ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আখ মাড়াই মৌসুম শুরু করা হলেও লাভজনক করার কোন উপায় এখনও বের করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা ।

পাবনা চিনিকল সূত্র জানায়, বিগত মৌসুমে পাবনায় ৪ হাজার ১১৫ একর জমিতে আখ আবাদ করা হয়েছে। এই হিসেবে আখ পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭০ হাজার মেট্রিকটন। আর চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অনেক আগেই আখের অভাবে চিনিকল বন্ধ হয়ে যায়।

লোকসানের কারণ হিসেবে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী জানান, চিনি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় আখ সরবরাহ মিলছে না, পাশাপাশি উৎপাদন সামগ্রী ও বিভিন্ন মালামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ কমানো যাচ্ছে না।

মিলের শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমান সরকার যে অনুপাতে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়েছে, সে অনুপাতে চিনির দাম বাড়েনি । ফলে চিনি উৎপাদনের খরচ বাড়ার সাথে সাথে লোকসানের পরিমাণও বেড়েই চলেছে।

এদিকে, আখের ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং অন্য ফসল উৎপাদনে খরচ ও সময় কম লাগায় এবং লাভজনক হওয়ায় চাষিরা আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ।

কৃষকরা বলছেন, অন্য ফসল আবাদে বছরে তিনবার ফলন পাওয়া যায়। লাভও হয় বেশি। কিন্তু আখ বছরে একবার ফলন হয়। তাছাড়া অন্য ফসলের তুলনায় আখের দামও কম। তাই আখ বাদ দিয়ে কৃষকরা এখন অন্য ফসল বিশেষ করে সবজি আবাদে ঝুঁকে পড়ছেন। তবে সরকার আখের দাম বৃদ্ধি করলে কৃষকরা আবারো আখ চাষে ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী জানান, মিলকে লাভজনক করতে কৃষকদের মধ্যে আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের সাথে মিল রেখে আখের দাম পুন:রায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাহলে আখ উৎপাদন ও চিনির উৎপাদন বাড়বে বলে তিনি আশা পোষণ করেছেন।

তিনি আরো জানান, প্রতি বছর ২ লাখ মেট্রিকটন আখ মাড়াই করতে পারলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫ হাজার মেট্রিকটন চিনি উৎপাদন সম্ভব। ফলে পাবনা চিনিকলের লোকসানের কবল হতে বেরিয়ে আসা যাবে।


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!