রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনা পৌরসভায় যত্রতত্র ময়লা–আবর্জনার স্তূপ, অতিষ্ঠ শহরবাসী

পাবনা পৌরসভায় যত্রতত্র ময়লা–আবর্জনার স্তূপ, অতিষ্ঠ শহরবাসী

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : ময়লা ফেলার নির্ধারিত জায়গা ও পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের অভাবে পাবনা শহরের পাড়া-মহল্লায় যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এসব স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ফলে শহরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে নির্ধারিত ডাস্টবিন না থাকায় কিছু এলাকায় ময়লা ফেলা হচ্ছে পয়োনিষ্কাশন নালায়। এতে নালা বন্ধ হয়ে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। পানির সঙ্গে আবর্জনা ছড়াচ্ছে শহরময়।

পাবনার একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সরওয়ার জাহান বলেন, পাবনা শহরে দুই ধরনের বর্জ্য তৈরি হয়। একটি পরিবারের বর্জ্য, অপরটি হাসপাতালের বর্জ্য।

এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে বের হওয়া বর্জ্য খুবই বিপজ্জনক। পাবনা শহরে এই বর্জ্য নিষ্কাশন ও ধ্বংসের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে এসব বর্জ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ছড়ায়।

এ ছাড়া যেকোনো ধরনের বর্জ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়াতে পারে। বর্জ্যের দূষণ থেকে পেটের পীড়া, চর্মরোগ, ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস, ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাসকষ্ট, আলসার, গ্যাস্ট্রিক এমনকি লিভার ও কিডনি নষ্ট হতে পারে।

পাবনা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে নিয়মিত কর প্রদানকারী পরিবারের সংখ্যা প্রায় ২৭ হাজার। লোকসংখ্যা দুই লাখের বেশি।

গড় হিসাবে প্রতিটি পরিবার থেকে প্রতিদিন অন্তত দুই ব্যাগ পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়। এর বাইরে একটি জেনারেল হাসপাতাল, একটি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, একটি মা ও শিশু হাসপাতাল, ৪৩টি ক্লিনিক, ছোট-বড় প্রায় ১১টি কাঁচাবাজার, শতাধিক ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, জেলখানা এবং স্কুল-কলেজ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন ধরনের দপ্তর থেকে প্রতিদিন প্রচুর ময়লা-আবর্জনা তৈরি হয়।

বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরে প্রতিদিনের বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই। কিছু এলাকায় পুরোনো আমলের ডাস্টবিন থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগী।

ফলে শহরবাসী যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। এতে দিলালপুর, শালগাড়িয়া, রাধানগর, যুগীপাড়া, গোবিন্দা, ময়নামতি, বাংলা বাজার, অনন্ত বাজার, পুরাতন বাঁশ বাজার এলাকাসহ বেশ কিছু মহল্লায় রাস্তার পাশে বড় বড় ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে।

পরিষ্কার না করায় এসব স্তূপের ময়লা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কিছু এলাকায় নির্ধারিত ডাস্টবিন না থাকায় বাসিন্দারা পয়োনিষ্কাশন নালায় ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। এতে নালা আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

দিলালপুর মহল্লার সাইফুল আজম জানান, তাঁদের মহল্লাটি খুব ব্যস্ততম। মহল্লায় পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, পাবনা জিলা স্কুল, পাবনা সরকারি মহিলা কলেজ ও জাগির হোসেন একাডেমি নামে চারটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এরপরও মহল্লার মোড়ে মোড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমছে। ফলে ছেলে-মেয়েদের নাক ধরে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে।

রাধানগর মহল্লার বাসিন্দা শিরিন আক্তার বলেন, মানুষ ময়লা ফেলার জায়গা খুঁজে পায় না। তাই একটু ফাঁকা জায়গা পেলেই ময়লা ফেলে। আর একজন ফেললে সবাই সেখানে ফেলতে শুরু করে। এতে মোড়ে মোড়ে ময়লা জমে। নির্ধারিত ডাস্টবিন থাকলে এভাবে ময়লা জমত না।

পাবনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা (কনজারভেন্সি) পরিদর্শক মো. আবদুর রহিম জানান, পৌরসভায় বর্জ্য ফেলার জন্য ৮৫টি স্থায়ী ডাস্টবিন ও ২০০টি অস্থায়ী ডাস্টবিন রয়েছে।

পৌরবাসী এসব ডাস্টবিনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে। প্রতিদিন ৪৮টি রিকশা-ভ্যান ও আটটি ট্রাকে পাড়া-মহল্লা থেকে এসব ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে নেওয়া হয়।

কিন্তু সম্প্রতি ভাগাড়-সংকট তৈরি হয়েছে। শহর থেকে ময়লা তুলে নিয়ে ফেলার জন্য জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ময়লা ব্যবস্থাপনায় কিছুটা বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে।

মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু  বলেন, ‘ডাস্টবিন করার জন্য পৌরসভার নিজস্ব জায়গা নেই। কোনো এলাকায় ডাস্টবিন তৈরি করতে গেলে যাঁর বাড়ির সামনে পড়ে, তিনিই গন্ধের ভয়ে তা করতে দিতে চান না।

ফলে ময়লা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিড়ম্বনা হয়। তবে আমরা বর্জ্য নিষ্কাশনব্যবস্থা আধুনিকীকরণের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।’

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!