মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১:৪২ অপরাহ্ন

পাবনা মেরিন একাডেমির নির্মাণ কাজ ৮ বছরেও শেষ হয়নি

আরিফ খান, বেড়া, পাবনা : দেশে নির্মাণাধীন চারটি আন্তর্জাতিক মানের মেরিন একাডেমির একটি পাবনার বেড়া মেরিন একাডেমি। নৌ খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে নির্মিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের এই মেরিন একাডেমি।

শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শুরুর ২ বছরের মাথায় কাজ হওয়ার কথা থাকলেও ৮ বছরে শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কয়েক দফা বেড়েছে নির্মাণ ব্যয়। তারপরও নতুন সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী ঘাটের পাশে নাটিয়াবাড়ী মৌজায় ১০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে এই মেরিন একাডেমিটি, যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১২ সালের ১৬ নভেম্বর।

তখন বলা হয়ে ছিল ২ বছর পর এখান থেকে নটিক্যাল ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্সে ৩০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে একাডেমি নির্মাণ শেষ হচ্ছে না, অথচ দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের ব্যয় ও সময়। ফলে পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী শিক্ষাবর্ষে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের নভেম্বরে নগরবাড়িতে মেরিন একাডেমির নির্মাণ শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ৯৬ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা ১০৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

অপর দিকে ২০১৪ সালে প্রকল্প কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের অর্ধমাস পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর মধ্যে ব্যয় বাড়নো হয়েছে আরো ৯ কোটি টাকা।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সর্বশেষ মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। সে সময়েও কাজ শেষ হয়নি। ২০২০ এর জুন মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

দক্ষ মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের ঘাটতি পুরণে সরকার ২০১২ সালে বরিশাল, পাবনা, রংপুর এবং সিলেটে চারটি নতুন মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। সে লক্ষ্যে ওই বছরই পাবনার নগরবাড়িতে পাবনা মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়।

২০১২ সালের ২০ মার্চ এ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার।

সরেজমিন নির্মাণাধীন মেরিন একাডেমিতে দেখা যায়, মূল প্রশাসনিক ভবন ও ডরমিটরির কাজ অনেকটা শেষ। এছাড়াও সুইমিং পুল, মসজিদ, জিমনেসিয়ামসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নির্মাণকাজ এখনও চলমান।

ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ্ জানান, ডিপার্টমেন্ট কবে যে আমাদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেবে তা আমরা জানি না। তবে যত দ্রুত কাজ বুঝে নিলেই আমরা বেঁচে যাই।

কারণ একটা কাজ কমপ্লিট করে ফেলে রাখলে পুনরায় আবার রং করতে হয় এতে আবার বাড়তি খরচ হয়। আমরা ঠিকাদাররা খুব কষ্টে আছি।

এদিকে ২০১৭ সালের অক্টোবরে এ মেরিন একাডেমিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ঘোষণা দিয়েছিল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। কিন্তু মূল অবকাঠামোসহ অধিকাংশ কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় তার বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে সন্দেহ। তবে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে অসুবিধা হবে না বলেই দাবি গণপূর্ত বিভাগের।

এ বিষয়ে মেরিন একাডেমীর ইমারত নির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান খন্দকার জানান, একটি প্রকল্পের কাজে আমাদের তিনবার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকে।
একাডেমিতে বহুতলবিশিষ্ট মোট ১০টি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর নয়টি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি একটির ভবনের কাজ ও রাস্তার কাজ চলমান।

তবে পাবনার মেরিন একাডেমির প্রকল্পের ব্যয়ের যে ১১৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল, তা এখন অনুমানিক ১১০ থেকে ১১১ কোটি টাকার মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

দেশে চারটি মেরিন একাডেমির শিক্ষা কার্যক্রম একসঙ্গে শুরু হবে বলে কাজে একটু দেরি হচ্ছে। জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে অসুবিধা হবে না।


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!