মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনা শহরের সব সড়ক খানাখন্দে ভরা

পাবনা শহরের সব সড়ক খানাখন্দে ভরা

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : পাবনা জেলা শহরে ঢুকতে গাছপাড়া বাইপাস মোড় থেকে এডওয়ার্ড কলেজ গেট পর্যন্ত ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে মোজাহিদ ক্লাব হয়ে পাবনা জেলা শহরে প্রবেশের প্রধান সড়ক দুটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের।

প্রায় দুই বছর আগে এই রাস্তাগুলো মেরামত করা হয়, মাঝখানে বসানো হয় সড়ক বিভাজক। কিন্তু সড়ক গুলোর অধিকাংশ স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় এখন সড়কটিতে যানবাহন চলাচলই দায়।

একই অবস্থা পাবনা শহরের অলিগলির প্রায় সব রাস্তার। পৌরসভার মালিকানাধীন এসব সড়ক দীর্ঘদিন মেরামত করা হয়নি। চলতি বর্ষাকালে রাস্তায় পানি ও কাদা জমে যানবাহন ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না। মোড়ে মোড়ে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শহরবাসীকে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সওজের গাছপাড়া বাইপাস মোড় থেকে এডওয়ার্ড কলেজ গেট পর্যন্ত ও টার্মিনাল-শহর সড়কটির বিভিন্ন অংশ খানাখন্দে ভরা। এসব ভাঙা অংশে পানি ও কাদা জমে আছে।

সড়কটির মাছুমবাজার এলাকায় তীব্র যানজট দেখা যায়। সেখানে সড়কের ভাঙা অংশ এড়িয়ে ভালো অংশ দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করছে সব যানবাহন। এতে করে সবাই আটকে পড়ছে।

এ এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাস, ট্রাক, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের জটলা ছিল।

অপরদিকে গাছপাড়া বাইপাস মোড় থেকে এডওয়ার্ড কলেজ গেট পর্যন্ত রাস্তায় বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় এখন সড়কটিতে যানবাহন চলাচল দায়। অনেক যানবাহন ফোর লেনের এই রাস্তা ব্যবহার না করে টু লেন ব্যবহার করছে ফলে দেখা দিচ্ছে যানজট। বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটার আশংকাও রয়েছে।

পাবনা মাছুমবাজার মহল্লার বাসিন্দা মো. আমিনুল হক বলেন, সড়কটি পাবনার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু একে তো খানাখন্দ, তার ওপর বৃষ্টি হলে পুরো সড়কটি পানিতে ডুবে থাকছে। তখন গর্ত টের না পেয়ে ছোট ছোট যানবাহন উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। আর দুর্ঘটনা মানেই তীব্র যানজট। সব মিলিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিন এ সড়কে চলাচল করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসসহ কয়েক হাজার যানবাহন। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা সড়ক প্রায় দুই মাস ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেন বিশ্ববিদ্যালয়টির জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী।

পাবনা সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার বলেন, ‘টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির অবস্থা বেহাল হয়ে গেছে। আমরা সড়ক এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য পৌরসভাকে বলেছি। আর সড়কটি মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।’

প্রধান সড়কটির বাইরে শহরের পাড়া-মহল্লার অধিকাংশ সড়ক পৌরসভার আওতাভুক্ত। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজ করে সাত-আট বছর আগে। বর্তমানে বেশির ভাগ সড়কই ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে পানি জমে এসব সড়কও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শহরবাসীর দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মধ্য শহর থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালমুখী আতাইকুলা সড়কে যানবাহনের প্রচুর চাপ। পৌরসভাভুক্ত সড়কটির পুরোটাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের জুবলীট্যাংক মোড় ও বাংলাদেশ ঈদগাহ মোড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টিতে গর্তগুলোতে পানি ও কাদা জমে আছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মনু মোল্লা বলেন, ‘মানুষজন অতিষ্ঠ হয়া যাচ্ছে। ভাঙা রাস্তার জন্যি যানজট তৈরি হয়া টাইম নষ্ট হচ্ছে। গাড়ি ভাঙে ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তুক দেখার কেউ নাই।’

একই অবস্থা পৌরসভার আওতাভুক্ত আওরঙ্গজেব সড়ক, মহিলা কলেজ সড়ক, সোনাপট্টি সড়ক, স্কয়ার সড়ক, রূপকথা সড়ক, প্রেসক্লাব সড়ক, পাবনা কলেজ সড়ক, দিলালপুর সড়ক, বেলতলা সড়ক, শালগাড়িয়া পুরোনো এতিমখানা সড়ক, অনন্ত বাজার থেকে দ্বীপচর সড়ক ও টার্মিনাল থেকে হাজির হাট সড়কের।

এসব রাস্তার অধিকাংশ স্থানে পিচ উঠে ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে। বৃষ্টিতে প্রতিটি সড়কের গর্তে পানি জমে তৈরি হয়েছে কাদা। প্রচণ্ড ঝাঁকুনি সহ্য করে এঁকেবেঁকে ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করছে। মাঝেমধ্যেই চলন্ত যানবাহনের চাকায় গর্তের কাদা ছিটকে পথচারী ও যাত্রীদের শরীরে লাগছে।

শালগাড়িয়া এতিমখানা মহল্লার জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, বৃষ্টি এলে বাড়িতে পানি ওঠে, বৃষ্টি থামলে সড়কে কাদা। রিকশা নিয়েও চলা যায় না। এই দুর্ভোগ আর সহ্য হয় না।

পাবনা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তাবিবুর রহমান বলেন, ‘মূলত অর্থসংকটের কারণেই সড়কগুলো মেরামত করা যাচ্ছে না। তবে আমরা সড়কগুলো ইট-সুরকি ফেলে চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা করছি। শহরের সড়কগুলো মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।’


পাবনার ২৫০ বছরের পুরনো জামে মসজিদ

পাবনার ২৫০ বছরের পুরনো জামে মসজিদ

পাবনার ২৫০ বছরের পুরনো জামে মসজিদ

Posted by News Pabna on Saturday, October 10, 2020

লালন শাহ সেতু

লালন শাহ সেতু

লালন শাহ সেতু

Posted by News Pabna on Tuesday, October 6, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!