বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনা সিভিল সার্জনের অশোভন আচরণ, সাংবাদিকদের ক্ষোভ

image_pdfimage_print

বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা : পাবনায় স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের সাথে অশোভনীয় ও শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল।

এ জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যর্থতা ঢাকতেই সিভিল সার্জন সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের মুখোমুখি হতে দেয়নি এমন অভিযোগ করেছেন জেলার সিনিয়র সাংবাদিকেরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সিভিল সার্জনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা থেকে মিডিয়া কর্মিদের বের করে দেয়া, অশোভনীয় ও শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের প্রতিবাদে পাবনার গণমাধ্যমকর্মিরা স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সব কর্মসূচী বর্জন করে আগামি ২৪ ঘন্টার মধ্যে সিভিল সার্জনের প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

স্বাস্থ্য দপ্তরের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বাস্থ্য দপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বৃহস্পতিবার পাবনার সিভিল সার্জন অফিস, পাবনা মেডিকেল কলেজ, পাবনা মানসিক হাসপাতাল, পাবনা টিবি ক্লিনিক ও ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন।

সফরসূচী মোতাবেক এদিন সকাল ৯টার দিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ সুধীজনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি।

পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি সমকাল ও এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, সিভিল সার্জন ফোন করেই আমাদের ডেকে নিয়ে গেছেন। অনুষ্ঠানের আগেও বেশ কয়েকবার তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য মোবাইল ফোনে অনুরোধ জানান। তার অনুরোধে সাড়া দিয়েই বেশ কয়েকজন সাংবাদিক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হই।

এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, সভা চলাকালে আকষ্মিকভাবে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে সাংবাদিক এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা পারসনদের সভা কক্ষ থেকে বের করে দেন।

ঘটনাটি উপস্থিত সবার মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, সিভিল সার্জন ডেকে নিয়ে গিয়ে এ ধরণের অশোভনীয় ও শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ কোন অবস্থায় সাংবাদিক নেতা বা একজন গণমাধ্যম কর্মি হিসেবে মেনে নিতে পারছি না।

দৈনিক যুগান্তর ও চ্যানেল আইয়ের স্টাফ রিপোর্টার আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, সিভিল সার্জনের এ ধরণের আচরণ কোন অবস্থায় মেনে নেয়া যায় না। স্বাস্থ্য দপ্তরের ডিজির উপস্থিতিতে এমন আচরণে ডিজির নিরবতাও গণমাধ্যম কর্মিদের ব্যথিত করেছে।

তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথেও তিনি বদমেজাজে ও অশালীন ভঙ্গিমায় আচরণ করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার কাছে তৃণমূল থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোন পদক্ষেপ বা ভূমিকা রাখেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তের বেশ কয়েকজন সুধীজন বলেন, সরকারি বেসরকারি অনুষ্ঠান বা কর্মসূচীতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এ ধরণের আচরণ আমাদের উপস্থিত সবাইকে হতভম্ব করে দিয়েছে। আমরা এ ধরণের অশোভন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক, সময় টিভি ও বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিনিধি সৈকত আফরোজ আসাদ বলেন, পুরোনা জেলা হলেও স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে এ জেলা।

সিভিল সার্জনের গড়িমসি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অনৈতিক সুযোগসুবিধা নেয়ায় করোনা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পিসিআর ল্যাব স্থাপন করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তার সীমাহীন দূর্নীতি ও অনিয়মে স্বাস্থ্য খাতে অরাজকতা বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে গিয়ে তিনি চলমান সভা থেকে বের করে দেয়া এবং খারাপ আচরণ করায় তার প্রতি সাংবাদিকেরা ক্ষুব্দ।

জেলার স্বাস্থ্যসেবার মানবৃদ্ধি, দুর্নীতি, অনিয়ম রোধে অযোগ্য ও অদক্ষ এই সিভিল সার্জনের দ্রুত প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রশাসনিক ভাবে দক্ষ ও যোগ্য সিভিল সার্জন পোস্টিংয়ের জোরদাবী জানাচ্ছি। পাশাপাশি সিভিল সার্জনের এ ধরণের শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাচ্ছি।

বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, দেশের ১৭ জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যমন্ডিত জেলা পাবনা। সিভিল সার্জনের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতায় এই জেলায় এখন পর্যন্ত পিসিআর ল্যাব বা কোভিড টেষ্টের কোন ব্যবস্থা হয়নি। জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন চিকিৎসা নেই। এছাড়া নানা ধরণের অনিয়ম ও দুনীর্তিতে ডুবে গেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিজেদের অনিয়ম, দুনীতি ও ব্যর্থতা ঢাকতে সাংবাদিকদের ডিজির মুখোমুখি হতে দেয়নি সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল।

এদিকে পাবনায় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে বেশ কয়েক বছর আগেই উন্নত ও অত্যাধুনিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতি এসে প্যাকেট অবস্থায় পড়ে আছে। অদক্ষ ও অযোগ্য সিভিল সার্জনের অনিহার কারনে সরকারের ওই সকল মূল্যবান যন্ত্রপাতি পড়ে আছে।

আকষ্মিকভাবে স্বাস্থ্য দপ্তরের ডিজি নতুন করে ওই যন্ত্রপাতির (জিন-এক্সপার্ট কোভিড ১৯ টেস্ট) উদ্বোধন করতে আসায় নানা শ্রেণিতে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করে ক্ষুদেবার্তায় সাংবাদিকদের কথা শুনতে চেয়েছেন। সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।

সিভিল সার্জনকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহার দাবী করেছে পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দ

এদিকে পাবনার সিভিল সার্জন ডাঃ মেহেদী ইকবালকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাবনা থেকে প্রত্যাহার দাবী করেছেন পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দ।

পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান স্বপন ও সাধারন সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা এক বিবৃতিতে বলেন, বৃহস্পতিবার পাবনার সিভিল সার্জন অফিসে স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে সিভিল সার্জন সংবাদকর্মীদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরন করেছে।

যা ক্ষমার অযোগ্য। এ ধরনের অসভ্যতা গোটা সাংবাদিক সমাজের অপমান। সভায় আমন্ত্রন জানিয়ে সাংবাদিকদের বের করে দেওয়ায় অপমানকর।

রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দ এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আরো বলেন, পাবনায় স্বাস্থ্য বিভাগের সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যর্থতা ঢাকতে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের মুখোমুখি হতে দেয়নি সিভিল সার্জন।

সিভিল সার্জন নিজের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা ঢাকতে সাংবাদিকদের সাথে এমন আচরন করেছেন। ডাঃ মেহেদী ইকবালকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাবনা থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!