বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

‘পাবনা ১৯৭১’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

‘পাবনা ১৯৭১’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

image_pdfimage_print

পাবনা প্রতিনিধি : স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও স্থানীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। মুক্তিযোদ্ধারা নিজ উদ্যোগে সেসব গৌরবগাঁথা সংরক্ষণ করলে পরবর্তী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে জানার সুযোগ পাবে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি যাদুঘরে পাবনার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রবির ‘পাবনা ১৯৭১’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক কামাল লোহানীর সভাপতিত্ত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ধীরাজ কুমার নাথ, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য প্রমূখ।

বক্তারা মুক্তিযুদ্ধে পাবনার গৌরবময় ইতিহাস আলোচনা করে ‘পাবনা ১৯৭১’ গ্রন্থটি ইতিহাস সংরক্ষণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন।

সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, সর্বস্তরের মানুষের অংশ গ্রহণে মুক্তিযুদ্ধ ছিল সত্যিকারের জনযুদ্ধ। পাবনার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে একটি আধুনিক প্রশিক্ষিত সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও সে ইতিহাস সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ না থাকায় তার যথাযোগ্য মর্যাদা মেলেনি। রবিউল ইসলাম রবির ‘পাবনা ১৯৭১’ গ্রন্থটি সে ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সকল আন্দোলনে পাবনার ছিল গৌরবময় ভূমিকা। পেশাগত কাজে পাবনায় আমার যাতায়াত ছিল। সে সূত্রে আমজাদ হোসেন, প্রসাদ রায়, আমিনুল ইসলাম বাদশাসহ পাবনার প্রগতিশীল আন্দোলনের নের্তৃবৃন্দের সঙ্গে আমার সখ্যতা গড়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধে পাবনার মানুষের সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও পাকবাহিনীর গণহত্যার বিস্তারিত বিবরন পাবনা ১৯৭১ গ্রন্থে তুলে ধরায় তিনি লেখককে ধন্যবাদ জানান।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ধীরাজ কুমার নাথ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলা প্রশাসনে কর্মরত থাকার সুবাদে পাবনার মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলী প্রত্যক্ষ করেছি। পাবনা জেলা প্রশাসন পাক সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে অবস্থান নেয়। যার ফলশ্রুতিতে জনতা পুলিশ ও প্রশাসন মার্চের ২৯ তারিখ ঐক্যবদ্ধভাবে পাবনাকে শত্রুমুক্ত করে ফেলে। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ধাপেই স্থানীয় পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের এমন নজির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে আর আছে বলে আমার জানা নেই।

রবিউল ইসলাম রবি সে ইতিহাস প্রাঞ্জল ভাষায় তার গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানের সভাপতি কামাল লোহানী বলেন, পাবনা প্রগতিশীল আন্দোলনে বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বার বার বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছে। সাংবাদিক রবির গ্রন্থ থেকে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধকে ভালভাবে জানার সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানে আন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাহাদত চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম চৌধুরী, সুলতান আহমেদ বুরো, সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান, আমিনুল ইসলাম বাদশা ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি নাজমা ইসলাম স্বপ্না ও গ্রন্থের লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রবি।
জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী থেকে বের হওয়া ‘পাবনা ১৯৭১’ গ্রন্থটি একুশে বইমেলায় পাওয়া যাবে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!