শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবনা-২ আসনে এমপি’র জনপ্রিয়তায় ভাটা!

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : পাবনা-২ আসন সুজানগর ও বেড়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। পাবনার এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজুর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে।

শুধু স্থানীয় জনতার মাঝেই নয়, এই ভাটা লেগেছে দলীয় পর্যায়েও। কাছের কয়েকজন নেতা-কর্মী ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের তেমন কোনো নেতাই আর তার পক্ষে নেই।

এর কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা কর্মীরা বলেছেন, টেন্ডারবাজি, নিজের কাছের লোকদের সুযোগ সুবিধা বেশি দেওয়া ও নির্বাচনী এলাকায় না থেকে ঢাকায় অবস্থান করাসহ বিভিন্ন কারণে অজনপ্রিয় হয়ে উঠছেন তিনি। এভাবে চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে বর্তমান এমপির বেগ পেতে হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা বলেন, আমাদের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের কোনো ধরনের মূল্যায়ন করছেন না। তার পছন্দের ও সুবিধাভোগী নেতাদের নিয়ে তিনি চলাফেরা করেন। ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ।

আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও পাবনা-২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা কামরুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, গত সাড়ে তিন বছরে বর্তমান এমপি স্থানীয় নেতাকর্মী ও জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।

তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা আজ ঘরে অলস বসে আছেন। এসব নেতাকর্মীকে আগামী নির্বাচনে না ফেরাতে পারলে দল ভালো করবে না। তাই তাদের রাজনীতির মাঠে ফিরিয়ে আনতে হলে পরিবর্তন দরকার।

এ দিকে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বর্তমান এমপির কর্মকাণ্ডের কারণে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। আর কোনোভাবে মনোনয়ন পেলেও তাকে জনগণ মেনে নেবে না। ফলে নির্বাচনে দল পাবনা-২ আসন হারাতে পারে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহাম্মেদ ফিরোজ কবির আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রহণ যোগ্যতাও রয়েছে এই আওয়ামী লীগ নেতার। সাবেক এমপি তফিজ উদ্দিনের ছেলে হওয়াতেও স্থানীয় জনতার মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে স্থানীয়রা বলেন, বর্তমান এমপি দলের লোকদের বাদ দিয়ে নিজের কাছের লোক দিয়ে দল চালাতে চান।

কিন্তু দলের ত্যাগী নেতারা যদি সম্মান না পান তাহলে তো আগামী নির্বাচনে ভালো করা যাবে না। এমপি স্থানীয় নেতাদের চরমভাবে হতাশ করছেন। তার এ সব কর্মকাণ্ডের কারণে দল আজ স্থানীয়ভাবে অগোছালো। আগামী নির্বাচনে ভালো ফলাফল করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনতার ইচ্ছার প্রতিফল ঘটাতে হবে।

এসময় তারা আরও বলেন, এমপি যেমন দল গোছাতে ব্যর্থ হয়েছেন, তেমনি স্থানীয় উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারেনি। রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা। সংস্কারের কোনো ভূমিকাই তিনি রাখতে পারেনি।

তবে এমপির বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন এমপির কাছের লোক বলে পরিচিত সুজানগর পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুল ওহাব।

তিনি বলেন, এমপির কর্মকাণ্ডে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনতা সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি আগামী নির্বাচনেও বর্তমান এমপি দলীয় মনোনয়ন পাবেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সাঈদুর রহমান ও কৃষিলীগের সাবেক সভাপতি ড. মির্জা আব্দুল জলিল।

 

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!