বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাবিপ্রবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা

image_pdfimage_print

পাবনা প্রতিনিধি : চার দফা থেকে এবার ১২ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

দাবির মধ্যে রয়েছে-

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া উপাচার্যের সাথে নিয়োগ প্রার্থী এক যুবকের অডিও বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার, প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, রিজেন্ট বোর্ডে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি রাখা, ছাত্র-শিক্ষকদের গবেষণার জন্য বরাদ্দ এবং খেলার মাঠ উপযোগী ও শহীদ মিনার নির্মাণসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গতকাল সোমবার (২৮ অক্টোবর) তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে শিক্ষার্থীরা।

অপরদিকে, মঙ্গলবার ইটিই বিভাগকে ট্রিপল-ই বিভাগের রূপান্তরের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, দুই মাস ধরে তারা এই দাবি জানিয়ে আসলেও তা বাস্তবায়ন করছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দুপুর দেড়টার দিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি জানতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শোনেন এবং পরে উপাচার্যের সাথে বৈঠক করেন।

পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ দাবি যৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে। আর ঘুষ ফেরত চাওয়ার অডিও তদন্ত ও প্রক্টর-ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রোস্তম আলী জানান, শিক্ষার্থীদের দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আর ঘুষ চাওয়ার অডিও নিয়ে তদন্ত করে জড়িতকে খুঁজে বের করার কথা জানান তিনিও।

তিনি বলেন, ‘কে অডিও রেকর্ড করেছে, কে ফাঁস করেছে, তাকে খুঁজে বের করা দরকার। তবে, একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।’

এদিন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রতি) বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন।

এ অবস্থায় আজ স্থানীয় সাংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে সাংসদের মধ্যস্থতায় শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে শান্ত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ হতে না পেরে মনিরুল ইসলাম নামের এক পরীক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে উপাচার্যের পথ আটকে আট লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

চাকরি না দেওয়ায় তিনি উপাচার্যর কাছে টাকা ফেরত চান। ওই দিন রাতে এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।

ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), নিয়োগ পরীক্ষাটি বাতিল ও উপাচার্যকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করায় তিন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, ঘটনার তিন দিন পর গতকাল সোমবার সকালে ক্যাম্পাস খুলতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হতে শুরু করেন। এদিন তাঁরা চার দফা দাবিতে দিনভর বিক্ষোভ করেন।

পরে সে দাবির সঙ্গে আরও দাবি যুক্ত করে আজ সকাল থেকে আবার বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আটকা পড়েন। অনেকে দেয়াল টপকে ও ফটকের ওপর দিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে বেরিয়ে যান।

আজ বেলা একটার দিকে পাবনা-৫ আসনের সাংসদ গোলাম ফারুক ক্যাম্পাসে হাজির হন। তিনি এক ঘণ্টা ক্যাম্পাসে অবস্থান করে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা ফিরে যান।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!