শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন: মডেল রাউধা আত্মহত্যা করেছিলেন

পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন: মডেল রাউধা আত্মহত্যা করেছিলেন

image_pdfimage_print

‘মডেল কন্যা, মালদ্বীপের নাগরিক ও রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রাউধা আথিফ আত্মহত্যা করেছিলেন।’ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আসমাউল হক সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর আদালতে দাখিলকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হলে আদালত তা আমলেও নিয়েছেন। এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিতে বিচারক মাহবুবুর রহমানের কাছে সময় প্রার্থনা করেন। তবে এ বিষয়ে আদালত কোনো আদেশ দেননি। প্রসঙ্গত এরআগে দু দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও রাউধা আথিফ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আসমাউল হক বলেন, দু দফা ময়নাতদান্তের প্রতিবেদন, ভিসেরা ও মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষার পর রাউধা আত্মহত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বিষয়টি রাউধার বাবা ও মামলার বাদীকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মালদ্বীপের যুবক শাহী গণির সঙ্গে রাউধার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই যুবক পড়াশোনার জন্য লন্ডনে থাকেন। রাউধার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে জানা যায়, শাহীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল। এ নিয়ে তিনি চরম মানসিক চাপে ছিলেন। আত্মহত্যার আগের রাতেও শাহীর সঙ্গে রাউধার কথা হয়েছিল। নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের পর অন্যান্য রিপোর্ট মিলিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছি।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ নগরীর নওদাপাড়াস্থ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাউধা আথিফের (২২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুর দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ শাহ্ মখদুম থানায় অপমৃত্যুর মামলা করে। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তার লাশ নগরীর হেতমখাঁ গোরস্থানে দাফন করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাউধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীতে এসে ঘটনার তদন্ত করেন। এছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষও পৃথক তদন্ত কমিটি করেছিল। ওই কমিটি প্রতিবেদনে বলেছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন।

কিন্তু রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে গত ১০ এপ্রিল রাজশাহীর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে রাউধার সহপাঠী ভারতের কাশ্মীরের মেয়ে সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়। পুলিশ সিরাতকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তাকে গ্রেফতার করেনি। গত ১৪ এপ্রিল মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর কবর থেকে লাশ তুলে দ্বিতীয়বার তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। ওই প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, হত্যা নয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে মো. আতিফ এখনো দাবি করছেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি রাজশাহীতেই অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে কনকলতা নামে মেয়ের বয়সী রাজশাহীর এক নারীকে বিয়েও করেছেন তিনি।

 

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!