শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা সেই ইকবাল হোসেন ভবঘুরে!

কুমিল্লায় নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখা ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখা ওই ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন (৩৫)। তার বাবার নাম নূর আহমেদ আলম। তিনি কুমিল্লার সুজানগর এলাকার বাসিন্দা।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ইকবাল হোসেনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন। বুধবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুলিশের একাধিক সংস্থার তদন্তে এটা সম্ভব হয়েছে। ইকবালকে গ্রেপ্তারে গত কয়েক দিন ধরে চলছে জোর অভিযান।

এদিকে কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পাওয়া পবিত্র কোরআন সৌদি আরব থেকে আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছাপা, কাগজ ও ক্যালিগ্রাফির কাজ থেকে আপাতদৃষ্টিতে এটি সৌদি আরবে ছাপা বলে মনে করছে পুলিশ। কোরআন শরীফটি ঘটনার আগের রাতেই আনা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার পর বুধবার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ গাঢ় সবুজ রংয়ের কোরআন শরীফটি নিয়ে যায়। এটি এখন মামলার আলামত হিসেবে কোতোয়ালী থানায় জিম্মায় আছে।

পুলিশ এখন কোরআনটির পাতায় ও ওপরে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে সন্দেহভাজন আসামিদের হাতের ছাপ মিলিয়ে দেখছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা হয়। সে সময়ই সরিয়ে নেওয়া হয় হনুমানের হাতে থাকা গদা। গদা নিয়ে চলে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

ফুটেজে দেখা গেছে, রাত দুইটা ১০ মিনিটে দারোগাবাড়ির মসজিদ থেকে কিছু একটা হাতে নিয়ে বের হচ্ছেন এক যুবক। তার গতিবিধি সন্দেহজনক।

এর এক ঘণ্টা ২ মিনিট পর আরেকটা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কুমিল্লার নানুয়াদীঘি অস্থায়ী মণ্ডপের উত্তর-পূর্বদিকের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছেন ওই ব্যক্তি। তার কাঁধে ছিল হনুমানের হাতে থাকা গদা। পুলিশ, পূজামণ্ডপ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক ঘটনাটি ঘটে।

উল্লেখ্য, শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীর দিন গত বুধবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়াদিঘির উত্তরপাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন দেখা যায়। এরপর কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই মণ্ডপে হামলা চালায় একদল লোক। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

এ ঘটনার জের ধরে ওই দিন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করতে যাওয়া একদল ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সেখানে নিহত হন চারজন। পরদিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হিন্দুদের মন্দির, মণ্ডপ ও দোকানপাটে হামলা–ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে হামলায় নিহত হয়েছিলেন দুইজন। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু বসতিতে হামলা করে ভাঙচুর, লুটপাট ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হিন্দুদের মন্দির–মণ্ডপসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা হয়েছে দেশের আরও অনেক এলাকায়।

কুমিল্লা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবারের ওই ঘটনার পর গত এক সপ্তাহে ঢাকা ও কুমিল্লা পুলিশের কয়েকটি দল তদন্তে নামে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ইকবাল হোসেনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ বলছে, ইকবাল হোসেন ভবঘুরে। তার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেছেন, আগামীকাল এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

0
1
fb-share-icon1


© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!