শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

প্রবীণদের বিনোদনে পাবনায় গড়ে উঠেছে ‘প্রবীণ কল্যাণ ক্লাব’

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : তারা এখন জীবনের শেষ ধাপে। কারো বয়স ৭০, কারো ৮০ পেরিয়েছে। এই বয়সে এসে নিঃসঙ্গ তারা। তাদের কথা চিন্তা করে পাবনা সদর উপজেলার শ্রীপুরে গড়ে উঠেছে ‘প্রবীণ কল্যাণ ক্লাব।’

প্রতিদিন বিকেলে এখানে আড্ডা জমে প্রবীণদের। একটু আনন্দের পরশ নিতে প্রবীণ ক্লাবে ছুটে আসেন তারা। ১ অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আড্ডাটা আরও জমজমাট ছিলো।

ইতিমধ্যেই ক্লাবটি প্রবীণ মনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

পাবনা শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে যে গ্রামটিতে ‘প্রবীণ কল্যাণ ক্লাব’ সেই গ্রামেরই বাসিন্দা গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল।

তিনি প্রবীণদের কথা ভেবে, তাদের কিছু সময় ভালো থাকার ভাবনায় এখানে গড়ে তুলেছেন এই ক্লাব।

প্রতিদিন বিকেলে বিভিন্ন মহল্লা থেকে প্রাণের টানে প্রবীণরা ছুটে আসেন এখানে। থাকেন ঘণ্টা তিনেক। তারা পরস্পর মেতে ওঠেন তাদের রঙিন সময়ের গল্প কথনে।

এদের অনেকেরই পরিবারের বাইরে এ যেন এক অন্যরকম ভালো লাগার জায়গা এই ক্লাব।

ক্লাবে আসা প্রবীণদেরকে ক্লাবের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয় শুকনো খাবার ও চা। যারা পান খান তাদের জন্য সেই ব্যবস্থাও করেছেন উদ্যোক্তারা।

আছে নামাজের ব্যবস্থা ও বিনোদন সামগ্রী।

প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে এখানে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য রাখা হয়েছে ডায়াবেটিক রোগ নির্ণয়, প্রেসার মাপাসহ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা।

প্রবীণ কল্যাণ ক্লাবে আসা ইসলাম প্রাং, ইব্রাহিম হোসেন, রেজাউল হক কচি, আ. গণি মাস্টারসহ কয়েকজন প্রবীণের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, তাদের আসলে বসার কোনো জায়গা নেই।

বিভিন্ন চায়ের দোকানে বসার মতো পরিবেশ নেই। তাই তাদের জন্য এই প্রবীণ ক্লাব এক আনন্দের ঠিকানা হয়ে গেছে। এখানে এসে বিভিন্ন ধরনের পত্র পত্রিকা তারা পড়ছেন।

তারা জানান, পরিবারের হাজারো ঝঞ্ঝাটে ক্লান্ত তারা। তাই যেটুকু সময় এখানে থাকেন ভালো লাগে তাদের।

পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস জানান, তিনি নিজেও প্রবীণ। আবার অন্য প্রবীণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

প্রবীণদের ক্লাবে থাকা চিকিৎসা সেবাদানকারী কর্মী সুমনা আক্তার বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার প্রবীণদের ডায়াবেটিক, প্রেসার মাপাসহ প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেন তিনি।

একবার যিনি আসেন তাকে আবার একই তারিখে পরের মাসে আসতে বলা হয় চেকআপের জন্য। প্রতি মাসে চেকআপ করা রুটিন ওয়ার্কের মতো। প্রবীণরা বিনামূল্যে এসব সেবা পেয়ে থাকেন।

এই প্রবীণ ক্লাবের স্থানীয় সমন্বয়কারী আবুল বাশার বাবুল জানান, এই প্রবীণ ক্লাব খুব বেশিদিন গড়ে ওঠেনি।

তবে তাদের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে এখানে সকল কিছুর আয়োজন করা হবে, যাতে প্রবীণরা উপযোগী বিনোদন পান। তারপরও এখানে আগতদের বিকেলের নাস্তা, চা ও পানের ব্যবস্থা করা হয়।

বেশ কয়েকটি পত্রিকা রাখা হয়। নামাজ ঘরও করে দেয়া রয়েছে। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর আড্ডার বিশাল হলরুম করে দেয়া আছে।

আবহাওয়া ভালো থাকলে বাইরে বসা ও খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে।

আবুল বাশার বাবুল আরও জানান, এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা খতিব জাহিদ মুকুল বৃদ্ধাশ্রম করেছেন।

তিনি দেশের প্রবীণদের কথা ভাবেন। স্থানীয় প্রবীণদের স্বাস্থ্য সেবা ও বিনোদনে এই ক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আগামী দিনে এখানে হাসপাতাল স্থাপনসহ এর কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!