ঢাকাশুক্রবার , ৬ মে ২০২২

প্রার্থী খুন হওয়ায় বাতিলকৃত পাবনার সেই ইউপি নির্বাচন ১৫ জুন

News Pabna
মে ৬, ২০২২ ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুন এই ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক স্বতন্ত্র প্রার্থী নিহত হওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল।

গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।

বৃহস্পতিবার (০৫ মে) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাবনা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কায়সার আহমেদ।

তিনি বলেন, ২৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করা হলেও আমরা চিঠি পেয়েছি ১ মে। ফলে আমরা আপনাদের (সাংবাদিক) বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারিনি। ঈদের পর আজ প্রথম কর্মদিবসে আপনাদের অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে একই দিন দেশের ছয়টি পৌরসভা ও ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে। স্থানীয় সরকারের এসব নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ মে, বাছাই ১৯ মে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে, প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ জুন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার সময় পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খানের সঙ্গে সংঘর্ষে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াসিন আলম (৩৫) নিহত হন। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সব পদের (চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য, সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য) নির্বাচন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন সকালে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (ঘোড়া মার্কা) সুলতান মাহমুদের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন। এ সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খানের লোকজন বাধা দিলে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় সুলতান মাহমুদের চাচাতো ভাই আনারস প্রতীকের আরেক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পার্থী ইয়াসিন আলমসহ ২০ জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সাঈদের লোকজন। আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের মধ্যে ছয়জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাজশাহী নেওয়ার পথে নাটোরের বনপাড়ায় মারা যান ইয়াসিন আলম। প্রথমে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন পরে তা বাতিল করা হয়।

এদিকে ৩১ জানুয়ারি চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াসিন আলম হত্যা মামলায় জামিন চাইতে আদালত গেলে আবু সাঈদ খানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। গত ২৮ এপ্রিল বিকেলে তিনি অস্থায়ী জামিন নিয়ে পাবনা জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হন।