রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুক আত্মহত্যার নিরাপদ জায়গা হোক—চাই না

সরকার আমিন

image_pdfimage_print

।। সরকার আমিন ।।

১.

ঢাকার রূপনগর এলাকা থেকে মঙ্গলবার সকালে সাবিরা হোসেন নামের ২১ বছর বয়সী এক মডেলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

এই ঘটনায় তার কথিত ‘সাবেক প্রেমিক’ নির্ঝর সিনহা রওনককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে ভোর সাড়ে চারটায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে প্রায় দশ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাবিরা। যেখানে তাকে ছুরি হাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে দেখা যায়। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ায় ভিডিওর শেষে তিনি বলেন, আবারও আত্মহত্যার চেষ্টা করবেন তিনি, এবার বাস কিংবা ট্রাকের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ভিডিওটিতে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন তার কথিত ‘সাবেক’ প্রেমিক নির্ঝর সিনহা রওনককে। তিনি লিখেন, নির্ঝরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। কিন্তু তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েও নির্ঝর তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যাপারটি মেনে নিতে পারেননি তিনি। ওই পোস্টে তিনি নির্ঝরের ছোট ভাইয়ের প্রতিও অভিযোগ তোলেন তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের।

রূপনগর থানার উপ পরিদর্শক আলমগীর কবীর এ বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সকাল সোয়া সাতটায় নির্ঝরের ফোন পেয়েই ওই এলাকার ১২ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়ির ছয়তলার বাসার সিলিং ফ্যান থেকে সাবিরার ওড়না প্যাঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন তারা।

সাবিরার লাশ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে মর্গে রাখা হয়েছে।

২.

সকালে খবরটা পড়ে মন খারাপ হয়ে গেল। আমি তো এখন ফেসবুকটাকে আমার লেখার খাতা বানিয়ে বসে আছি। ভাবনা-চিন্তা থেকে শুরু করে সংগীত—সবই এখন ফেসবুকে! এবার দেখি আত্মহত্যার মাধ্যমও হতে যাচ্ছে ফেসবুক! কী অদ্ভুত!

কয়েকটা পত্রিকায় প্রকাশিত খবর পড়ে মনে হলো সাবিরা নানান ঘটনায় আত্মসম্মানবোধ হারিয়ে ফেলেছিলেন। দুটো খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো ১. সাবিরার মা-বাপের বিচ্ছেদ হয়েছিল ছোটবেলায়। অযত্নে তিনি মানুষ হচ্ছিলেন। বাবা টাকা দিতেন; সেই টাকায় তিনি ঢাকায় পড়াশোনা করতেন। এক পর্যায়ে তিনি যখন মডেলিং শুরু করেন তখন বাবা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। ফলত বাবার সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। যোগাযোগ হয় প্রেমিকের সাথে। সেই প্রেমিক সাবিরার ভাষায় ‘যৌনতার ব্যাপারে যতটা আগ্রহী’ ছিলেন বিয়ের ব্যাপারে ততটাই অনাগ্রহী ছিলেন।

আমার মনে কোন সন্দেহ নাই যে হতাশা-প্রসূত আত্মসম্মানবোধহীনতাই সাবিরার মূল ঘাতকের নাম। সমাজে সাবিরার সংখ্যা বাড়ছে। ফেসবুক যাতে আত্মহত্যার নিরাপদ স্থান না হয় সেই প্রার্থনা আমার। যেহেতু বাস্তবতা রাতারাতি বদলানো কঠিন সেহেতু ফেসবুকে কাউন্সিলিং ফোরাম তৈরি করা যেতে পারে। মন খুলে কথা বলতে পারলে আত্মহত্যা পালায়! কথা; কথা; কথা ও নিরাপদ শ্রোতাই আত্মহত্যার অন্যতম কার্যকর প্রতিষেধক হতে পারে। আত্মহত্যা করার জায়গার কোন অভাব নাই; আত্মহত্যার মদদদানকারীর অভাব নাই কিন্ত আত্মাটাকে রক্ষার একটু সুপরামর্শ পাবার কোন জায়গা অনুপস্থিত। এটা কোন আধুনিক সমাজ হলো?

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!