ঢাকাবুধবার , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ফ্যাশন ডিজাইনে ক্যারিয়ার

News Pabna
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯ ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আমাদের দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের যে কয়েকটি উৎস রয়েছে তার মধ্যে পোশাক শিল্প অন্যতম। শুধু যে বিদেশে পোশাক রফতানি করা হয় তা কিন্তু নয়, এই দেশেও রয়েছে এর বিশাল বাজার। আমাদের দেশের আবহাওয়া, কালচার ও রুচির সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে পোশাক। আর এই বিষয়গুলো নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন, তারা হচ্ছেন ফ্যাশন ডিজাইনার। কিছুদিন আগেও ফ্যাশন ডিজাইন সম্পর্কে মানুষের তেমন ধারণা ছিল না। তবে এখন সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। মানুষ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক সৌন্দর্য সচেতন। আর এই সৌন্দর্য সচেতন মানুষের স্টাইলিশ পোশাকের চাহিদা মিটিয়ে থাকেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। ফ্যাশন ডিজাইন এমন একটি শিল্পমাধ্যম, যার সাহায্যে একজন ডিজাইনার একটি পোশাককে তার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় আকর্ষণীয় করে তোলেন। দেন মননশীলতার পরিচয়।

ফ্যাশন ডিজাইনার বিভিন্নভাবে তাদের কাজগুলো করে থাকেন। সময়ের চাহিদাকে মাথায় রেখে বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতাগোষ্ঠীর সাধ এবং সাধ্যকে সমন্বয় করে ডিজাইন ও রঙের অপূর্ব সমন্বয়ে তারা আপনার পছন্দের পোশাকটি তৈরির আগে নকশা বা রূপরেখা করে থাকেন। এ ছাড়া একজন ডিজাইনার ধৈর্য এবং সৃজনশীলতার পরিচয় দেন তার ডিজাইন করা পোশাকে। যদি সৃজনশীল ও নতুনত্ব কিছু করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে চান, তবে ক্যারিয়ার হিসেবে এই পেশাটি বেছে নিন আপনার জন্য। এতে আপনার সৃষ্টিশীল দক্ষতা, নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা ও একাগ্রতা দিয়ে বিশ্ববাজারে গার্মেন্ট শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে পারবেন। যাতে রফতানি খাতে আয় আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে আপনিও অধিক পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

পেশা হিসেবে ফ্যাশন ডিজাইন

সাধারণ বিষয়ে পড়ালেখা করে গতানুগতিক চাকরির পেছনে ছুটতে হয় শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে চাহিদার তুলনায় টেক্সটাইল শিল্পে যোগ্যতাসম্পন্ন লোকবল অনেক কম। আর গার্মেন্ট শিল্প, বায়িং হাউস, ফ্যাশন হাউস সব জায়গায় এখন ফ্যাশন ডিজাইনার থাকা বাধ্যতামূলক। তাই ক্রমবর্ধমান টেক্সটাইল মিল, বায়িং হাউস, বুটিক হাউস, ফ্যাশন হাউস ও গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানে ফ্যাশন ডিজাইনে যোগ্যতাসম্পন্ন লোকবলের চাহিদা এতটাই বেশি, পাস করে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চাকরি পাওয়া যায়। দেশজুড়ে হাজার হাজার গার্মেন্ট, বায়িং হাউস, ফ্যাশন হাউস আর বুটিক হাউস গড়ে ওঠার ফলে এসব খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

কাজ কী

ফ্যাশন ডিজাইনারকে পোশাকের সৃজনশীল কাজটাই করতে হয়। ভোক্তার পছন্দসই করে পোশাকের ডিজাইন ও বাজারজাত করাই ফ্যাশন ডিজাইনারদের কাজ। তাই একজন ফ্যাশন ডিজাইনারকে অনেক গবেষণা করতে হয়। এ ছাড়া আবহাওয়া, সংস্কৃতি, উৎসব অনুযায়ী কাপড়ে ডিজাইন করতে হয়। কারণ সব দেশের পোশাক এক হয় না। সব উৎসবের পোশাকও ভিন্ন। এ ছাড়াও একজন ডিজাইনারকে মাথায় রাখতে হয় কোন দেশের ভোক্তাদের জন্য পোশাকের ডিজাইন করা হচ্ছে। কারণ পৃথিবীর সব দেশের পোশাক এক রকম না। যে দেশে যে ধরনের পোশাক ব্যবহূত হয়, সে দেশের জন্য সে অনুযায়ী কাজ করতে হয়।

পড়ার বিষয় ফ্যাশন ডিজাইন

বর্তমানে ফ্যাশন ডিজাইনিং একটি জনপ্রিয় পেশা। একসময় বাংলাদেশে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়ালেখার তেমন সুযোগ ছিল না। তবে এখন বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়ালেখা করা যায়। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ফ্যাশন টেকনোলজিতে ছয় মাস বা এক বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স করার সুযোগ রয়েছে, যা সম্পন্ন করে ডিজাইনার হিসেবে কাজ করা যায়। উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে মালয়েশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পড়ার সুযোগ আছে।

কাজের ক্ষেত্র

বাংলাদেশে ফ্যাশন ডিজাইনারদের রয়েছে চাকরির বিশাল বাজার। এর মধ্যে টেক্সটাইল শিল্প, গার্মেন্ট শিল্প, বায়িং হাউস, বুটিক হাউস বা দেশের বড় বড় দেশি ও বিদেশি পোশাক ব্র্যান্ড হাউসে রয়েছে কাজের সুযোগ। চাইলে কেউ নিজ উদ্যোগে ফ্যাশন হাউস, বুটিক হাউসের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। দেশের বাইরেও কাজের সুযোগ আছে। এ ছাড়া ভালো রেজাল্ট ও অভিজ্ঞতা থাকলে প্রভাষক হিসেবে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ারও সুযোগ আছে।

আয়-রোজগার

ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ইন্টার্নশিপ করা অবস্থায় সাধারণত একজন ডিজাইনারকে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট হারে সম্মানী দিয়ে থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় একজন ফ্যাশন ডিজাইনার প্রতি মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। তবে কাজের দক্ষতা আর অভিজ্ঞতার ওপর দ্রুত বাড়তে থাকে বেতন। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক বছরের মধ্যেই ৭০-৯৫ হাজার টাকা হয়ে যায়। সঙ্গে বাড়তে থাকে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।