সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বগুড়ার গ্রামে গ্রামে মাছের মেলা

image_pdfimage_print

এবার করোনাকালে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে নবান্ন এসেছে বাঙালির ঘরে। সংক্রমণের ভয় আছে, কিন্তু তাতে হাজার বছরের ঐতিহ্য নবান্ন পালনের রীতি তো ম্লান হতে পারে না! তাই করোনাকালেও বগুড়ার গ্রামাঞ্চলে থেমে থাকেনি নবান্ন উৎসব। নতুন ধানের চাল দিয়ে ঘরে ঘরে পিঠা তৈরির পাশাপাশি গ্রামের হাটগুলোতে বসেছিল মাছের মেলা।

এবার অতিবৃষ্টি আর কয়েক দফা বন্যায় নদীনালা আর খালবিলে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। ফলে মাছের দামও ছিল তুলনামূলক কম। তাই মাছের মেলায় মানুষের আনাগোনা যেমন বেড়েছিল, তেমনি বেচাকেনাও হয়েছে অনেক বেশি। শুধু পুরুষই নয়, মেলায় নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলায় আসা অধিকাংশের মুখেই কোনো মাস্ক ছিল না।

বগুড়ায় প্রতিবছরের মতো এবারও মাছের সবচেয়ে বড় মেলা বসেছিল শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাটে। এ ছাড়া একই উপজেলার উথলী, ভাইয়ের পুকুর ও আলিয়ারহাটেও দিনভর মাছের কেনাবেচা হয়েছে। এসব স্থানে বড় বড় রুই, কাতলা, মৃগেল, বাঘাইড়, চিতল, ব্রিগেডসহ বিভিন্ন কার্প জাতীয় মাছ কেনাবেচা হয়েছে। মহাস্থান হাটের মেলায় সবচেয়ে বড় ২০ কেজি ওজনের বাঘাইড় বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা কেজি দরে। সাত কেজি ওজনের সবচেয়ে বড় রুই বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৫০০ টাকা কেজি দরে। একই ওজনের কাতলা মাছ বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকা কেজি দরে। ব্রিগেডসহ কার্প জাতীয় মাছগুলো বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেলা যত গড়িয়েছে, মাছের দাম তত কমেছে। শিবগঞ্জের উথলীতে বিকেলে বড় সাইজের রুই-কাতলা ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

নবান্ন উপলক্ষে বগুড়ার মহাস্থানগড়ের পাশে মধুমাঝিরা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন পাবনার প্রদীপ কুমার। পাঁচ কেজি ওজনের রুই মাছ কিনে যাওয়ার সময় বললেন, ‘প্রতিবছর নবান্নেই শ্বশুরবাড়ি আসি এবং মাছ কিনি। এবার করোনার সময়েও এসেছি।’

আশরাফুন্নেছা নামের এক নারী জানান, স্বামী বিদেশে থাকায় তিনি নিজেই মাছ কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের মানুষ প্রতিবছরই নবান্নের সময় মাছ কেনেন, এটা একটা রেওয়াজ।

বাবার সঙ্গে মাছ কিনতে মেলায় এসেছে বগুড়া সদরের ধাওয়াকোলা গ্রামের শিশু শুভ। বাবার হাতে ধরা সাত কেজি ওজনের ব্রিগেড মাছের পেছনে পেছনে বিস্ময় ভরা চোখ নিয়ে হাঁটতে থাকা আট বছরের শুভ বলে, আজ নবান্ন। সে জন্য বাবা অনেক বড় মাছ কিনেছেন। আজ খুব মজা হবে।

মেলার অন্যতম আয়োজক মহাস্থান আড়ত সমবায় সমিতির সভাপতি হায়দার আলী জানান, প্রতিবছর নবান্নে এখানে মাছের মেলা হয়। সূর্যোদয়ের পর থেকে রাত পর্যন্ত মাছ কেনাবেচা হয়। এবার মাছের আমদানি ভালো এবং দামও তুলনামূলক কম ছিল। তিনি বলেন, করোনাকাল সত্ত্বেও এবার ক্রেতা-বিক্রেতার কমতি ছিল না।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!