বগুড়ার সেই আলোচিত ধর্ষণ মামলায় পাবনা থেকে গ্রেফতার- ২

বিশেষ প্রতিনিধি : গুড়ায় ‘ধর্ষণের শিকার’ এক কিশোরী ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের শাশুড়িসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ রোববার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় পাবনা শহর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তুফানের স্ত্রীর বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি ও শাশুড়ি রুমি খাতুন।

পাবনার হেমায়েতপুর মেন্টাল হসপিটালের পাশে অবস্থিত পাবনা মেডিকেল কলেজের পাশের এক বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীর পিপিএম রাতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে যে, কাউন্সিলর রুমকি ও তাঁর মা রুমি পাবনা শহরের হেমায়েতপুরে পাবনা মেডিকেল কলেজের পাশে এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপন করেছেন।

এ খবরের ভিত্তিতে বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশের ছয় সদস্যের একটি দল মাইক্রোবাসে করে পাবনা পুলিশকে না জানিয়েই সন্ধ্যায় সরাসরি হেমায়েতপুরের ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁদের নিয়ে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হয় তারা।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীর পিপিএম রাতে জানান, এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাদের আগে থেকে জানা ছিল না। যেহেতু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং চাঞ্চল্যকর মামলা। তাই তাঁদের না জানিয়ে গ্রেপ্তার করায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, বগুড়ার এক কিশোরীকে ভালো কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে ১৭ জুলাই ও পরে কয়েকবার ধর্ষণ করেন শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার। এ কাজে তাকে সহায়তা করেন তার কয়েকজন সহযোগী।

এ বিষয়টি জানতে পেরে তুফানের স্ত্রী আশা ও তার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকিসহ ‘একদল সন্ত্রাসী’ গত শুক্রবার দুপুরে ওই কিশোরী এবং তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।

পরে তাদের মারধর করে নাপিত দিয়ে মা ও মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেন। এ ঘটনায় ওইদিন বিকালে ওই কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলায় তুফান সরকারসহ গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।