সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বঙ্গবন্ধুকে দেখা যাবে ভার্চুয়াল ফ্রেমে

‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই, যদি রাজপথে আবার মিছিল হত- বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই…’। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা গানের এমন আবেগঘন কথা হয়তো বাস্তবে কোনোদিন আর সত্য হয়ে ধরা দেবে না। কিন্তু জাতির জনককে নিয়ে দেশের মানুষের প্রাণের আকুতি সারা জীবন এভাবেই থেকে যাবে।

তবে জীবন্ত বঙ্গবন্ধুকে ফিরে পাওয়া সম্ভব না হলেও কিছুটা হলেও তাকে ভার্চুয়াল ফ্রেমে এমনভাবে দেখা যাবে, যেন জীবন্ত বঙ্গবন্ধু কথা বলছেন, দেশ ও দল পরিচালনা করছেন বজ কণ্ঠের সেই চিরচেনা রূপে। বহুলকাঙ্ক্ষিত এ উদ্যোগের সফলতার দ্বারপ্রান্তে একদল তরুণ। যাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ম্যাজিকসফট। আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে উন্মোচিত হবে এ ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বা ডিজিটাল জাদুঘর।

শুক্রবার যুগান্তরকে আগাম সুখবরটি দেন ম্যাজিকসফটের কর্ণধার রকি খান। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত প্রজন্মকে জাতির পিতার কাছাকাছি আনতেই এ উদ্যোগ। ভিআর প্রযুক্তিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে উঠবেন বঙ্গবন্ধু। এটি এমন এক প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে যে কোনো ছবি বা ভিডিও বাস্তবের কাছাকাছির মতো উপলদ্ধি করা যায়। এজন্য চোখে ও মাথায় একটি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যাকে বলে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেড গিয়ার বা ভিআর। এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে রকি খান বলেন, হলিউডের বিশ্বখ্যাত প্রডাকশন হাউস মারভেল কমিক এবং নেটফ্লিক্সের একটি থিডি মডেলিং টিম এ প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করছে।

প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রকল্পের সবচেয়ে জটিল কাজটি ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন। কিন্তু সেই অনুমোদন প্রক্রিয়াটি দ্রুতই সম্পন্ন হয় ট্রাস্টের নির্বাহী সদস্য শাহানা ইয়াসমিন শম্পার আন্তরিক সহায়তার ফলে। প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু ভার্চুয়াল মিউজিয়ামের কারিগারি কাজে ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ৯ আগস্ট চিঠি দেয়া হয়। ২৭ আগস্ট এ সংক্রান্ত কাজের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে। ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘ট্রাস্টের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরে ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করা হল।’ অর্থাৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি রয়েছে।

জানা যায়, শোকগাথা ও নানা স্মৃতিবিজড়িত ধানমণ্ডির বাড়ি থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর সব স্মৃতিস্মারক নিয়ে তৈরি হচ্ছে ভার্চুয়াল মিউজিয়াম। বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে এ মিউজিয়াম দেখা যাবে ভিআর মাধ্যমে। এ সময় দর্শকের মনে হবে তিনি বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আছেন। উপলব্ধি করবেন তিনি বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঘোরাফেরা করছেন সশরীরে। সবকিছু ঠিক থাকলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে জাতির জনককে নতুন করে জানা ও দেখার প্রযুক্তিগত এ সাফল্যের পর্দা উন্মোচিত হবে আগামী বছর মার্চে।

উদ্যোক্তরা জানান, ভার্চুয়াল মিউজিয়ামে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ধানমণ্ডি ৩২ এ অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, ভারতের ইসলামিয়া কলেজে অবস্থিত বেকার হোস্টেল এবং টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সের প্রত্যেকটি স্মৃতি চিহ্ন। জাদুঘরে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেও দর্শকের কাছে মনে হবে, তিনি জাদুঘরে উপস্থিত থেকেই সব কিছু দেখছেন। প্রদর্শনের পাশাপাশি এই অমূল্য স্মৃতিচিহ্নগুলো ভার্চুয়াল জগতে আজীবন সুরক্ষিত থাকবে।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!