বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০১:৩৩ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বঙ্গবন্ধুর ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মনিরপেক্ষতা

image_pdfimage_print

।। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম।।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসাম্প্রদায়িক চরিত্র’ সব সংশয়, বিতর্ক ও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে; যদিও বা ছাত্রাবস্থায় তিনি রাজনীতি শুরু করেছিলেন প্রথমত মুসলিম ছাত্রলীগ এবং পরবর্তী সময়ে মুসলিম লীগে যোগদানের মাধ্যমে। ’৪৭-এ দেশভাগের পূর্বে কলকাতায় হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু তার অন্য রাজনৈতিক সহকর্মীদের নিয়ে দাঙ্গা প্রতিরোধ ও আক্রান্ত মানুষদের রক্ষা, সাহায্য ও পুনর্বাসনে কীভাবে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছিলেন তার বিবরণ তিনি তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে (পৃ :৬৩-৭১) বিশদভাবে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী সময়ে ’৫৪-এর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিশাল বিজয়ের পরে যেদিন তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন, সেদিনই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ইন্ধনে আদমজীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানো হলে বঙ্গবন্ধু সেখানেও ছুটে গিয়েছিলেন দাঙ্গা প্রতিরোধে। ’৬০ ও ’৭০-এর দশকে বিভিন্ন সময়ে পুরান ঢাকায় বারংবার হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা সৃষ্টি করা হলে বঙ্গবন্ধু সব সময় দাঙ্গা আক্রান্ত এলাকায় উপস্থিত হয়ে মানুষের জানমাল রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। আর এসব করতে গিয়ে তিনি দাঙ্গাকারীদের দ্বারা আক্রান্তও হয়েছিলেন।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রণীত সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’কে গ্রহণ করা হয়। ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করায় স্বাধীনতার পরাজিত ধর্মব্যবসায়ী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যারা বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধসহ সব আন্দোলন ও সংগ্রামে ইসলাম ধর্মকে ‘বর্ম’ হিসেবে ব্যবহার করে বাধাগ্রস্ত করার হীন অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তাদের অব্যাহত প্রচারণা ছিল—ধর্মনিরপেক্ষতার নামে শেখ মুজিব বাংলাদেশকে একটি ইসলাম ধর্মহীন হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছে; শেখ মুজিব ভারত ও হিন্দুদের এজেন্ট; বাংলাদেশের মসজিদগুলো বন্ধ করে আজান দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাস্তব সত্য এটাও যে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর প্রচারণার কারণে সৌদি আরবসহ বেশ কিছু মুসলিম দেশ বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত ছিল। প্রকৃত পক্ষে বঙ্গবন্ধু যেমন অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন ও চর্চা করতেন, ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন, তেমনি ইসলাম ধর্ম ও মহান আল্লাহর ওপর তার ছিল অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা। আবার ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল অত্যন্ত শক্ত ও দৃঢ়।

’৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধু প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন, ‘জনসংখ্যার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের প্রিয় ধর্ম হলো ইসলাম। আওয়ামী লীগ এই মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে শাসনতন্ত্রে সুস্পষ্ট গ্যারান্টি থাকবে যে পবিত্র কোরান ও সুন্নায় সন্নিবেশিত ইসলামের নির্দেশাবলির পরিপন্থি কোনো আইন পাকিস্তানে প্রণয়ন বা বলবত্ করা চলবে না। শাসনতন্ত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের পবিত্রতা রক্ষার গ্যারান্টি সন্নিবেশিত হবে। সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত বিধিব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ, যেমন ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, তাবলীগ জামাতের জন্য জায়গা প্রদান, মদ-জুয়া ও ঘোড়দৌড় বন্ধ, ইসলামি সম্মেলন সংস্থার কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি তার অগাধ শ্রদ্ধা। বঙ্গবন্ধু ধর্মবিশ্বাস থেকে তিনি তার বক্তব্য-বিবৃতিতে প্রায়শই ‘ইন্শাআল্লাহ্’ শব্দটি ব্যবহার করতেন—আল্লাহেক স্মরণ করতেন। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে তার বজ্রকঠিন ঘোষণা ছিল, ‘এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইন্শাআল্লাহ্’। ২৮ অক্টোবর ’৭০ সালে পাকিস্তান টেলিভিশন ও রেডিও পাকিস্তান কর্তৃক আয়োজিত ‘রাজনৈতিক সম্প্রচার’ শীর্ষক বক্তৃতামালায় বঙ্গবন্ধু বক্তব্য শেষ করেন এভাবে—‘আওয়ামী লীগ দেশবাসীর যে সমর্থন ও আস্থার অধিকারী হয়েছে, তাতে আমরা বিশ্বাস করি যে ইন্শাআল্লাহ্ আমরা সাফল্যের সাথে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ ’৭০-এর নির্বাচনের পূর্বে ১ ডিসেম্বর এক নির্বাচনী আবেদনে বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেন, ‘শহিদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। ন্যায় ও সত্যের সংগ্রামে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আমাদের সহায় হবেন।’ ২৬ মার্চ ’৭২ আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, বাংলার স্বাধীনতা হরণ করার শক্তি তাদের নাই; ইন্শাআল্লাহ্ আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’ ৯ মে ’৭২ রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। ইন্শাআল্লাহ্ আবার দেখা হবে। আপনারা কাজ করুন। আপনারা প্রতিজ্ঞা করুন, আমার সোনার বাংলা গড়ে তুলব।’ ৭ জুন ’৭২ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘শ্রমিক ভাইয়েরা, আল্লাহর ওয়াস্তে একটু উৎপাদন করো। আল্লাহর ওয়াস্তে মিল খেয়ে ফেলো না। আমি এবার তাহলে চলি। খোদা হাফেজ।’ ৩ জুলাই ’৭২ কুষ্টিয়ার জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ইন্শাআল্লাহ্ যদি আপনারা তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করেন, তাহলে বাংলার মানুষ আশা করি পেট ভরে ভাত খাবে।… আপনারা আমার সাথে দোয়া করেন সে সমস্ত লোক, আমার ভাইয়েরা শহিদ হয়েছে এই যুদ্ধে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে আপনারা মোনাজাত করেন আমার সাথে। আল্লাহু আকবার।’ ৪ জুলাই ’৭২ কুমিল্লার জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আর সে সমস্ত ভাই, যে সমস্ত বোন, যে সমস্ত লোক শহিদ হয়েছে, তাদের মাগফেরাত কামনা করে আমার সঙ্গে মোনাজাত করুন। আল্লাহুম্মা আমিন…। বহুক্ষণ আপনারা কষ্ট করেছেন। ইন্শাআল্লাহ্ বেঁচে থাকলে আপনাদের সাথে আবার দেখা হবে। দোয়া করবেন। আল্লাহ্ যেন ইমানের সঙ্গে রাখে, আর আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে আমি মরতে পারি।’ ’৭২ সালে ১৪ সেপ্টেম্বর লন্ডন থেকে চিকিত্সা নিয়ে ফেরার পর সাংবাদিকদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘তবু যাদের দোয়ায় আমি ফিরে এসেছি এবং আল্লাহ যেন তৌফিক দেয় তাদের সাথে যেন আমি মরতে পারি। তাদের পাশে পাশেই থাকতে পারি এবং তাদের ভালোবাসা নিয়ে আমি মরতে পারি।’ ৩ জানুয়ারি বরগুনার জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘জীবনে যা কোনো মানুষ পায় না, তা আমি পেয়েছি। সে হলো আপনাদের ভালোবাসা। এই ভালোবাসা নিয়েই আল্লাহর কাছে আপনারা আমাকে দোয়া করবেন, আপনাদের এই ভালোবাসা নিয়ে আমি যেন মরতে পারি।’ ১২ ফেব্রুয়ারি ’৭৩ টাঙ্গাইলের নির্বাচনি জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘তবে একটা কথা হলো এই, আপনারা আমাকে দোয়া করেন। আল্লাহ যেন আমাকে ঈমানের সঙ্গে রাখেন’। ১০ ডিসেম্বর ’৭৪ চট্টগ্রামে নৌবাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ইন্শাআল্লাহ্ আমাদের সম্পদের যথাযোগ্য ব্যবহার করে সোনার বাংলা গড়ে তোলা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে।’ ২৫ জানুয়ারি ’৭৫ জাতীয় সংসদে বাকশালের নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, “তাই, আল্লাহর নামে, চলুন, আমরা অগ্রসর হই। ‘বিসিমল্লাহ’ বলে আল্লাহর নামে অগ্রসর হই। ইন্শাআল্লাহ্ আমরা কামিয়াব হবই। খোদা আমাদের সহায় আছেন।… যদি সকলে মিলে আপনারা নতুন প্রাণে নতুন মন নিয়ে খোদাকে হাজির-নাজির করে, নিজের আত্মসংশোধন করে, আত্মশুদ্ধি করে, ‘ইন্শাআল্লাহ’ বলে কাজে অগ্রসর হন, তাহলে জানবেন, বাংলার জনগণ আপনাদের সাথে আছে। বাংলার জনগণ আপনাদের পাশে আছে; জনগণকে আপনারা যা বলবেন, তারা তাই করবে। আপনাদের অগ্রসর হতে হবে। ইন্শাআল্লাহ্ আমরা কামিয়াব হবই।”

বঙ্গবন্ধু নিজের ধর্ম পালন সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আমি তখন নামাজ পড়তাম এবং কোরআন তেলাওয়াত করতাম রোজ। কোরআন শরীফের বাংলা তরজমাও কয়েক খণ্ড ছিল আমার কাছে। ঢাকা জেলে শামসুল হক সাহেবের কাছ থেকে নিয়ে মাওলানা মোহাম্মদ আলীর ইংরেজী তরজমাও পড়েছি’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ-১৮০)। ৪ নভেম্বর ’৭২ গণপরিষদে সংবিধানের ওপর বক্তব্য শেষে বঙ্গবন্ধু প্রস্তাব করেন, অধিবেশনের সব কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পূর্বে যেন মাওলানা তর্কবাগীশ সাহেব মোনাজাত করেন। মাননীয় স্পিকার তার প্রস্তাব গ্রহণ করে মোনাজাতের মাধ্যমে সেদিন অধিবেশন শেষ করেন।

রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করে অসত্ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার হীন প্রচেষ্টা এবং ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রচারণার জবাবে বঙ্গবন্ধু ২৮ অক্টোবর ’৭০ রেডিও থেকে প্রচারিত বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘৬ দফা বা আমাদের অর্থনৈতিক কর্মসূচি ইসলামকে বিপন্ন করে তুলেছে বলে যে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে, সেই মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য আমি শেষবারের মতো আহ্বান জানাচ্ছি। অঞ্চলে অঞ্চলে এবং মানুষে মানুষে সুবিচারের নিশ্চয়তা প্রত্যাশী কোনো কিছুই ইসলামের পরিপন্থি হতে পারে না। আমরা এই শাসনতান্ত্রিক নীতির প্রতি অবিচল ওয়াদাবদ্ধ যে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত ইসলামে নীতির পরিপন্থি কোনো আইনই এ দেশে পাশ হতে পারে না, চাপিয়ে দেওয়া হবে না।’

১০ জানুয়ারি ’৭২ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ-কোটি মানুষের সামনে বলেছিলেন, ‘সকলে জেনে রাখুন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র এবং পাকিস্তানের স্থান চতুর্থ।…। কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাস, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইসলামের নামে এ দেশের মুসলমানদের হত্যা করেছে। ইসলামের অবমাননা আমি চাই না। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই যে, বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি বিশেষ কোনো ধর্মীয়ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এ দেশে কৃষক-শ্রমিক, হিন্দু-মুসলমান সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকুক।’ ২৬ জুন ’৭২ মাইজদি কোর্টের জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমরা ধর্মনিরপেক্ষাতায় বিশ্বাস করি। তার অর্থ ধর্মবিরোধী নয়।…। এক ধর্ম অন্য ধর্মের ওপর অত্যাচার করবে না। ধর্মের নামে জুয়াচুরি, পকেটমার লুটতরাজ, ব্যবসা আর পশ্চিম পাকিস্তানের পয়সা খাইয়া রাজনীতি করা চলবে না। ধর্মের নামে রাজনীতি চলবে না। ধর্মের নামে লুট করা চলবে না। তবে আমি মুসলমান, আমি মুসলমান হিসেবে আমার ধর্মকর্ম পালন করব। হিন্দু হিন্দুধর্ম পালন করবে। কেউ ধর্মকর্মে বাধা দিবার পারবে না। ঠিক? মানেন? আমার ধর্ম আমার কাছে। তোমার ধর্ম তোমার কাছে। আমার কুরআনের আয়াতে আছে—তোমার ধর্ম তোমার কাছে, আমার ধর্ম আমার কাছে—এইটাই হলো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র।’

বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর প্রথমে সামরিক ফরমান বলে, পরবর্তী সময়ে তথাকথিত পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতাসহ অন্যান্য মূলনীতির ওপর আঘাত আনা হয়। দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীসমূহ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত রাজাকার-আলবদরদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসন এবং সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প সৃষ্টির ঘৃণ্য প্রচেষ্টা শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্ট পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ও অকার্যকর ঘোষণা করায় এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশ এখন আবারও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে এগিয়ে চলেছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের কোটি কোটি মানুষের কণ্ঠে ধ্বনি-প্রতিধ্বনিত হোক ২৬ মার্চ ’৭৫ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় ও গভীর প্রত্যয়-—‘ইন্শাআল্লাহ, বাংলাদেশ এসেছে, বাংলাদেশ থাকবে।’

লেখক : বিচারপতি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ এবং সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, বাংলাদেশ

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!