শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বদলে গেছে ঢালারচরের মানুষের জীবনযাত্রা

আরিফ খাঁন, বেড়া, পাবনা : পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার অন্তর্গত ‘ঢালারচর’ একটি ইউনিয়ন।

ইউনিয়নটি সম্পূর্ণই পদ্মা নদীর চরাঞ্চল দ্বারা গঠিত। বেড়া উপজেলা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দুরে এই ঢালারচর। ঢালারচর ইউনিয়নটি দুর্গম এবং চরাঞ্চল এলাকা। এর দক্ষিণে পদ্মা নদী; নদী পাড় হলেই রাজবাড়ী জেলা শহর।

পুর্ব দিকে যমুনা নদী; নদী পাড় হলেই মানিকগঞ্জ জেলার আরিচা। এই বিশাল চরাঞ্চল চরমপন্থীর আঁতুড়ঘর হিসেবে বিখ্যাত এই ইউনিয়নটি গত কয়েক বছরে সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। এখানকার মানুষের জীবনে শুরু হয়েছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

সরেজমিনে ঘুরে ঢালারচরে একাধিক প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আশির দশকে ঢালারচর ইউনিয়নে এমনও গ্রাম ছিল যে গ্রাম ঘুরলেও লেখার জন্য একটি কলম ও কাগজ মিলতো না। ছিল না কোন রাস্তা-ঘাট, স্কুল- কলেজ, হাট-বাজার বা বিদ্যুৎ।

সমস্থ ইউনিয়নে খুজলে পাওয়া যেত না একটি টিনের ঘর। ছিল শুধু বন ও ছনের এক বা দোচালা মাটির কুড়ে ঘর। চারপাশে শুধু বালু আর বালু মরুভূমির মত দেখতে বালুর চর ও কাশবন।

এ এলাকার অধিকাংশ জনবসতি পশুপালন, কৃষি ও মৎস্য স্বীকার করে জীবিকা নির্বাহ করত। ইউনিয়নটি বহুকাল পুর্ব থেকেই পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের শিকার।

নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যেত চরাঞ্চলের মানুষের ভিটে বাড়ী জমি-জমাসহ সহায় সম্বল। পদ্মার ভাঙ্গনে একপাড় বিলিন হয়ে যেত পুনরায় চর জাগত নদীর অন্যপাড়ে।

নদী ভাংঙ্গা অসহায় মানুষগুলো তাদের ঘর বাড়ী গবাদি পশু নিয়ে নদীর অন্যপাড়ে জেগে উঠা চরে বসতি গড়ে তুলত। এভাবে পাশাপাশি গড়ে উঠে ঢালারচরের অসংখ্য বাড়িঘর, স্থাপিত হয় বসতি গড়ে ওঠে কয়েকটি গ্রাম।

এমনও কিছু পরিবার ছিল তাদের জীবনে ৪/৫ বারও নদী ভাঙ্গনের শিকার হতে হয়েছে। এখন আর নদী ভাঙ্গন নেই বলে জানান এ এলাকার মানুষ।

ঢালারচরের মানুষ একসময় বাদাম চাষের উপর নির্ভশীল ছিল তবে চারপাশে এখন বেড়িবাধ দ্বারা বেষ্ঠিত হওয়ায় ঐসকল জমিতে তারা সকল রকম ফসল ফলাতে পারেন।

এক সময় এই গ্রামে কোন পুলিশ প্রসাশন প্রবেশ করতে সাহস পেত না। এ এলাকায় থাকত নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠনের পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টির সদস্যরা।

প্রকাশ্যে দিবালোকে তারা মানুষ খুন করত।

২০১০ সালের ২০ জুলাই ঢালারচর পুলিশ ফাঁড়ির তিন পুলিশ সদস্যকে একে একে গুলি করে হত্যা করে চরমপন্থীরা। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢালার চরে পুলিশ-চরমপন্থিদের বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিল বেড়া থানার তৎকালীন এক এসআই ।

এছাড়াও চর দখলকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে লাগতো বড় ধরণের বিবাদ এতে মানুষ মারা গেছে বহু। সেই অবহেলিত ঢালারচর এখন ডিজিটাল বাংলাদের অংশ হিসেবে পরিণত হয়েছে।

এ এলাকার মানুষের জীবন যাত্রা আরও সহজ হয়েছে ট্রেন চলাচলের কারণে। এলাকার মানুষ ঢালারচর থেকে পাবনা, ঈশ্বরদী, রাজশাহী এবং ঢাকাসহ সারা দেশের সাথে সহজেই যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রয়োজনীয় কাজ কর্ম করতে পারবেন।

গত ২৬ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার সময় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘ঢালারচর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উদ্বোধন করেন।

এখন এখানে রয়েছে হাট-বাজার, সরকারি-বেসরকারি অনেক মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মসজিদ-মাদ্রাসা।

অনেক ছেলে মেয়ে সুশিক্ষা অর্জন করে সরকারী চাকরীসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। হয়েছে উপজেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা। রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র। সারা ঢালারচরে হয়েছে বিদ্যুতায়ন।

এখন প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ, টিভি, ফ্রিজ, ডিশ লাইনও আছে। এখন নেই কোন অভাব অনটন ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠি। এছাড়া দুই লেন বিশিষ্ট সিএন্ডবি হাইওয়ে, ব্রিজ, কালভার্ট হয়েছে এই ঢালারচরে।

এলাকাবাসী জানান, এখানে সন্ত্রাসীদের প্রভাব আর নেই বললেই চলে ।

এ ব্যাপারে ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান কোরবান আলী জানান, ‘আমাকে ঢালার চরের জনগন ভোট দিয়ে তিনবার নির্বাচিত করেছে। আমি আমার ঢালারচর ইউনিয়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। এ ইউনিয়নে নেই নদী ভাঙ্গন, হয় না বাল্য বিয়ে, নেই মাদক, নেই সন্ত্রাসীদের প্রভাব।

তবে এটা কলেজ হলেই পরিপূর্ণ হয়ে যাবে আমার ইউনিয়নটি। আমি আশা করছি এই ইউনিয়নটি বাংলাদেশের ৪৫৭১টি ইউনিয়ন এর মধ্যে একটি আদর্শ ইউনিয়নে পরিণত হবে।’


টুইটারে আমরা

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial