মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০৯ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বন্যায় এ পর্যন্ত ৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে

image_pdfimage_print

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ এনামুর রহমান বলেছেন, বন্যায় এ পর্যন্ত ৯ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোহসিন উপস্থিত ছিলেন ।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বরাদ্দকৃত টাকারমধ্যে নগদ টাকা ৪ কোটি ৪১ লাখ, শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ নগদ এক কোটি ৫৮ লাখ টাকা, গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি বাবদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শুকনো ও অন্যান্য খাবারের এক লাখ ৮১ হাজার প্যাকেট এবং ৬৫০ বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে । পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বন্যা উপদ্রুত ৩৩ জেলাসহ দেশের ৬৪ টি জেলায় এক কোটি ৬ হাজার ৮৬৯টি পরিবারকে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে এক লাখ ৬৮ মেট্রিক ৬৯ টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যায় ঘরবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র, গবাদিপশু, শস্য ক্ষেত ও বীজতলা, মৎস্য খামার, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ লাইন, মোবাইল ফোন লাইন, টেলিফোন টাওয়ার, সড়ক, ব্রিজ- কালভার্ট, বাঁধ, নদী, হাওর, নৌকা-ট্রলার, জাল, বনাঞ্চল, নার্সারি, কৃষি, নলকূপ, ল্যাট্রিন, জলাধার, হাসপাতাল-ক্লিনিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুর, সিলেট, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ি, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, নওগাঁ, শরীয়তপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াাখালী, লক্ষীপুর, নাটোর, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, মৌলভীবাজার, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ ও পাবনা জেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে সারাদেশের জেলাগুলো থেকে যে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট, যেটা ডি-ফরমে পাঠানো হয়, সেটা আমরা পেয়েছি। সেটা পাওয়ার পর আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা ডেকেছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো, ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের যে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সেটা নির্ধারণ করা। সেই অনুযায়ী সব মন্ত্রণালয় তাদের কর্ম পরিকল্পনা এখানে পেশ করেছেন। সেটা আমরা নোট করেছি। সেটা নিয়ে আগামী পুনর্বাসন পরিকল্পনা করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী দ্রুত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালু করার জন্য বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন সেই পরিমাণ অর্থ তিনি (প্রধানমন্ত্রী) খরচ করতে বলেছেন। আরও অর্থের প্রয়োজন হলে তিনি বরাদ্দ দেবেন। তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ঘরবাড়ির উপরে, কারণ পানি নেমে গেছে, এখন লোকজন বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এই সময়ে বাড়িতে গিয়ে যদি তাদের ঘরগুলো ঠিক না থাকে তাহলে তাদের কষ্ট হবে। সেজন্য তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রত্যেকটি মানুষের ঘরবাড়ি পুনর্নিমাণ করে দিতে বলেছেন। সেজন্য টিন ও গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরি বাবদ নগদ অর্থ তিনি দিতে বলেছেন। সেই ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

গত ২৬ জুন থেকে চার দফা বন্যা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যা কবলিত জনগণের জন্য আমরা পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সেটা বিতরণ করেছেন।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা তুলে ধরে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের জন্য কর্মসৃজনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বন্যা ও নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত ও পুনঃনির্মাণে প্রত্যেক পরিবারকে ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণ বাবদ মঞ্জুরি দেয়া হবে। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা রাস্তা মেরামত ও পুনঃনির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

জাইকা থেকে ১১৩ কোটি টাকার একটি সাহায্য পাওয়া গেছে জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, ‘সেটা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে দেয়া হবে। তারা তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি আছে সেটা পূরণের জন্য কাজ করে যাবে।’

‘এই বন্যা পুনর্বাসনে আমরা যাতে রাষ্ট্রকে আরও বন্যা সহনীয় করতে পারি সেজন্য ১১০টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, ২০ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র এবং ৫৭টি মুজিব কেল্লা এক বছরের মধ্যে করার জন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি’বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘একইসঙ্গে আমরা বন্যাকবলিত মানুষকে সরিয়ে আনার জন্য এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতে ৬০টি মাল্টিপারপাস রেস্কিউ বোট তৈরি করার জন্য এমওইউ স্বাক্ষর করেছি। বোট তৈরির কাজ চলছে, আগামী এক বছরের মধ্যে ২০টি বোট আমাদের হস্তগত হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে আমরা ৬০টি বোট পাবো।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্যোগের সময় আমরা অনুভব করতে পেরেছি মাঠ পর্যায়ে লোক সংখ্যা অনুযায়ী আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সেজন্য আমরা এক হাজারটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, এক হাজারটি সাইক্লোন শেল্টার এবং এক হাজারটি মুজিব কেল্লা করার ডিপিপি প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। সেটার কাজ চলমান রয়েছে। বাজেট পাওয়ার পরেই নির্মাণ কাজগুলো আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে আমরা সম্পন্ন করব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছে, বন্যা কবলিত জেলায় যে বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো তারা জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করবে। সড়ক বিভাগ তাদের ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল করবে। কৃষি পুনর্বাসনের জন্য বীজতলা তৈরি ও চারা, সার ও বীজ বিনামূল্যে বিতরণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

পানি নেমে যাওয়ায় বন্যা দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, ‘সেজন্য মেডিকেল টিমগুলোকে সেখানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

মৎস্য ও পশু সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যাদের মৎস্য খামার ভেসে গেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেবে বলে আমাদের জানিয়েছে। খোলার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেরামত সম্পন্ন করবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে বলে জানান এনামুর রহমান।

এ বছর আরো বন্যা হওয়ার কোন আশঙ্কা আছে কিনা একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক পূর্বাভাস দিয়েছেন এ বছরের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে আরেকটি বন্যা হতে পারে। অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা আছে।’

এবারের বন্যা ১৯৯৮ সালের বন্যার থেকে দীর্ঘস্থায় নয় জানিয়ে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল ৬৯ দিন, এবারের বন্যা ছিল ৪৬ দিন। ক্ষয়ক্ষতিও ১৯৯৮ সালের বন্যার চেয়ে এবার কম।


পাবনার ২৫০ বছরের পুরনো জামে মসজিদ

পাবনার ২৫০ বছরের পুরনো জামে মসজিদ

পাবনার ২৫০ বছরের পুরনো জামে মসজিদ

Posted by News Pabna on Saturday, October 10, 2020

লালন শাহ সেতু

লালন শাহ সেতু

লালন শাহ সেতু

Posted by News Pabna on Tuesday, October 6, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!