রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বর্ষার শুরুতেই বেড়ায় জমে উঠেছে চাঁই কেনা-বেচার হাট

image_pdfimage_print

আরিফ খাঁন, বেড়া : নদী ও বিল বিধৌত পাবনার বেড়া উপজেলা মাছ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।

বর্ষা এলেই উপজেলার বেড়া পুরান বাজার ও চতুর হাটে মাছ ধরার জন্য চাঁই, চাড়ো,পলো, বৃত্তি, বুছনা ইত্যাদি বিক্রির ধুম পরে যায়।

তাই এবছরও চাঁই তৈরিতে ব্যাস্ত হয়ে পরেছে সংশ্লিষ্টরা। বাড়ির নারীরাই মূলত এসব চাঁই তৈরি করেন।

উপজেলার বেড়া বাজার সংলগ্ন স্থানে বসে চাঁইয়ের হাট। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার ভ্যান বোঝাই করে চাঁই বিক্রির জন্য নিয়ে আসে এখানে।

দূর দূরান্ত থেকে মৎস শিকারীরা চাঁই কিনতে আসেন এখানে। এক একটা চাঁই তৈরিতে একশো থেকে দেড়শো টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

তবে জিনিসের মান বুঝে সেগুলো তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা বিক্রি হয়।

বেড়ায় মূলত নাগডেমড়া, ফরিদপুর, আটিয়াপাড়া, ক্ষিদিরপুর থেকে মাছ ধরার দোয়ারি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন বিক্রেতারা।

সেগুলো সিরাজগঞ্জ, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এসে কিনে নিয়ে যান।

চাঁই তৈরির সাথে জড়িয়ে রয়েছে কয়েকশ পরিবারের জীবন। চাঁই তৈরির কারিগররা বিভিন্ন এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আবার কেউ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাঁশ কিনে চাঁই তৈরি করেন।

১৫০ থেকে ২০০ টাকা দামে বাঁশ কিনে তিনটি চাঁই তৈরি সম্ভব।

চাঁইয়ের হাটে বিক্রি করতে আসা ফরিদ জানান, প্রতিটি চাঁই তৈরিতে যা খরচ হয় তা থেকে বিক্রিতে ভালই লাভ হয়।

বৃষ্টির পর পর চাঁই পাতলে বোয়াল, বাইনসহ নানা প্রজাতির দেশী মাছ ধরা পরে। পরিশ্রমও কম।

একবার চাঁই পেতে কয়েকঘন্টা পর দেখতে হয় মাছ পরেছে কি না। তাছাড়া বাজারে চাঁইয়ে ধরা মাছের চাহিদাও থাকে বেশি কারণ চাঁইয়ে পড়া মাছগুলো জীবিত থাকে।

চৈত্র মাসের শেষদিকে বাঁশ কিনে এ কাজ শুরু করতে হয়। চলে আষাঢ় মাস পর্যন্ত এগুলো বিক্রি হয় পুরো তিন মাস।

একাধিক বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি সহযোগীতা পেলে আরও বেশি চাঁই ও বুছনা বানানো সম্ভব। তাছাড়া এর সাথে বাঁশ শিল্পও টিকে থাকবে।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!