সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঠাঁই হবে না

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঠাঁই হবে না

image_pdfimage_print
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঠাঁই হবে না

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঠাঁই হবে না

ঢাকা: বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঠাঁই হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। কোনো জঙ্গির স্থান, সন্ত্রাসের স্থান বাংলাদেশে হবে না।

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) দুপুরে গণভবনে ‍আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা জানান। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়ের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ইসলামের নাম করে মানুষ হত্যা করছে, তারা আমাদের পবিত্র ধর্মের বদনাম করছে দেশে-বিদেশে। আমাদের ধর্মে আছে মানুষের কল্যাণে কাজ করা। কিন্তু তারা রমজানে তারাবি না পড়ে, ঈদের দিন ঈদের নামাজ না পড়ে মানুষ মারছে। ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করতে চাই, এটাই আমাদের করা লক্ষ্য।

জঙ্গি দমনে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমি চাই দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে বাংলাদেশ। সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি আমরা।

সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের ফলেই এসব কাজ সম্ভব হচ্ছে। দেশবাসীও সমর্থন করছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সবক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু এটা কারও সহ্য হয় না। এটা বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড।

জঙ্গি হামলায় উচ্চশিক্ষিতদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা উচ্চশিক্ষিত, ইংরেজি মিডিয়ামে পড়াশোনা করছে, সেই ছেলে-মেয়েরা কীভাবে ধর্মান্ধ হয়ে যাচ্ছে, নিখোঁজ হয়ে যায় পরিবার থেকে? অথচ প্রশ্ন আসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। এ নিয়ে রিপোর্ট দিতো মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এখন দেখা যায় অনেকে স্বেচ্ছায় গুম হয়ে এখন তারা এ ধরনের কাজ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা কোথায় নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, তাদের বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। আমরা উৎস খুঁজে বের করবো।

প্রধানমন্ত্রী তাগিদ দেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সবাই যেন নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে সাধারণ মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করেন। এ বিষয়ে বিশেষ করে মা-বাবা যেন সজাগ থাকেন।

তিনি বলেন, তাদের ছেলে মেয়েরা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মিশে তার খোঁজখবর নেবেন। তাদের প্রতি খেয়াল রাখবেন। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকরাও খোঁজ-খবর রাখবেন।

প্রত্যেক ইউনিয়ন, থানায় জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানো হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কমিটিগুলো কারও জঙ্গি সম্পৃক্ততা থাকলে তা খুঁজে বের করবে। কমিটির মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার বিশ্বাস আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবো। ইসলাম ধর্মকে যেনো কেউ কলুষিত করতে না পারে সেজন্য সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। কেউ বিপথে পাঠাতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যাচ্ছে কিনা কেউ নিচ্ছে কিনা-দু’টোই খুঁজে বের করতে হবে।

বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় উন্নত দেশ হিসেবে পরিণত কর‍ার লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো। এ লক্ষ্যে নানা প্রকল্প রয়েছে, সেখানে বিদেশিরা কাজ করেন। তাদের নিরাপত্তা জরুরি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও এলাকার মানুষ এক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করবেন। আমরা পারবো। এ বিশ্বাস আম‍ার আছে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বিশ্বাস, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিমুক্ত করতে পারবো। সবাই একযোগে কাজ করলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিন করতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ।

বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবনে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একই ধরনের মতবিনিময় করবেন।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!