বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলা চলচ্চিত্রে ‘মেগাস্টার’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা পাবনার কৃতীসন্তান উজ্জ্বল

 

বার্তাকক্ষ : পাবনা জেলার খ্যাতিমান ব্যক্তিদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন মো. মহিউদ্দিন ভূঁইয়া। গতকাল সিটিজেনস ভয়েস পাবনা ফেসবুক পেজে তিনি নায়ক উজ্জল সম্পর্কিত একটি পোস্ট দেন। পোস্টটি নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

 

 

বাংলা চলচ্চিত্রে ‘মেগাস্টার’ খ্যাত সোনালি যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং পাবনার কৃতীসন্তান আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল

বাংলা চলচ্চিত্রের সুবাদে তিনি উজ্জ্বল নামে সমধিক পরিচিত হলেও প্রকৃত নাম তাঁর আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল।

১৯৪৮ সালের ২৮ এপ্রিল পিতার কর্মস্থল সিরাজগঞ্জ শহরে উজ্জ্বলের জন্ম। পাবনার ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার গ্রামে তাঁর পৈতৃক নিবাস। পিতা ইয়াসিন উদ্দিন ছিলেন রেলওয়ের চিকিৎসক।

চাকরির সুবাদে ইয়াসিন উদ্দিন সিরাজগঞ্জ শহরের আমলাপাড়ায় স্থায়ীনিবাস গড়ে তোলেন। ছয় ভাই ও চার বোনের মধ্যে উজ্জ্বল পঞ্চম।

আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলের শিক্ষাজীবন শুরু হয় পিতার কর্মস্থল সান্তাহারে। তিনি সান্তাহার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে মাধ্যমিক ও রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৬৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

কারমাইকেল কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং কলেজ ছাত্র-সংসদের নির্বাচনে কমনরুম সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ার লাইন্সে নাইট শিফটে চাকরি করতেন এবং রেডিও – টেলিভিশনে নিয়মিত অভিনয় করতেন।

১৯৬৭ সালে এসএম হল অডিটোরিয়ামে মঞ্চস্থ “অনুবর্তন” নাটকে তৎকালীন সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সুজাতার বিপরীতে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করে সুনাম অর্জন করেন।

ড. আশকার ইবনে শাইখ রচিত ওই নাটকটি পরিচালনা করেন অভিনেতা নাজমুল হুদা বাচ্চু । টিভিতে “লালন ফকির” নাটকে অভিনয় করে উজ্জ্বল নায়কদের মধ্যে শীর্ষে চলে আসেন ।

উজ্জ্বল, সোহেল রানা, রুবেল, আমিন খান- এই চারজন অভিনেতা সোনালি যুগের চলচ্চিত্রে ‘মেগাস্টার’ উজ্জ্বল, ‘ড্যাশিং হিরো’ সোহেল রানা, ‘কংফু হিরো’ রুবেল এবং ‘হ্যান্ডসাম হিরো’ আমির খান সুপরিচিত ছিলেন।

সুভাষ দত্তের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষ’ এবং খান আতার মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল ও এর পরের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় অভিনেতা ছিলেন উজ্জ্বল।

‘আবির্ভাব’ নামের ক্লাসিক রমান্টিক যে ছবিটিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন, তা আজও দর্শকদের চোখে ভেসে উঠে।

তিনি যে শুধু কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন তাই নয়, তিনি দিলীপ বিশ্বাসের ‘বন্ধু’ ও ‘সমাধি’র মতো ছবিতেও দ্বিতীয় নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন।

আবার ‘উছিলা’, ‘নালিশ’, ‘নসিব’-এর মতো বক্স অফিস কাঁপানো ধুমধাম বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে দারুণ দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করন।

১৯৬৯ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বিনিময়’ চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় নায়িকা কবরীর বিপরীতে নায়ক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে উজ্জ্বল চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন।

১৯৮২ সালে তিনি ‘নালিশ’ ছবি করে “উজ্জ্বল ফিল্মস লিমিটেড” এর প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

উজ্জ্বলের অভিনীত ও পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র : বিনিময়, সমাধি, বন্ধু, কুদরত, নালিশ, নসীব, বীরাঙ্গনা, সখিনা, আজকের হাঙ্গামা, সতর্ক শয়তান, জনতা এক্সপ্রেস, রং বেরং, গড়মিল, অনুভব, সমাধান, অনুরোধ, অনুরাগ, ফুলেশ্বরী, বিশাল, স্বীকৃতি, পিঞ্জর, বলাকা মন, দুটি মন দুটি আশা ইত্যাদি।

উজ্জ্বল চলচ্চিত্রের শীর্ষ সংগঠন “বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি”র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, এফবিসিসিআই’র সদস্য এবং বাংলাদেশ ফ্লাইং ক্লাবের আজীবন সদস্য।

(অসম্পূর্ণ, বিস্তারিত : বহুমাত্রিক প্রতিভার মেলবন্ধনে পাবনা, দ্বিতীয় সংস্করণ, সম্পাদক : মো. মহিউদ্দিন ভূঁইয়া)

 

 

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!