বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বাউত উৎসবে মেতেছে চলনবিলাঞ্চলের সৌখিন মৎস শিকারীরা

 

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : পাবনা জেলার চলনবিল অধ্যুষিত এলাকার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন নদী-নালা, খাল- বিল থেকে বর্ষার পানি যেতে না যেতেই এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ‘বাউত উৎসব’ বা ‘পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎস’ শুরু হয়েছে।

প্রতি বছরেই এই এলাকার মাছ ধরার সৌখিন মানুষ নানান সোরগোল করে দুই উপজেলার বিভিন্ন বিলের পানিতে নেমে ‘পলো’ ও ছোট জাল দিয়ে মাছ শিকার করে থাকে।

বিগত বছরের ন্যায় এবছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

সৌখিন মৎস শিকারী ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাটুলী পাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন জানান, প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার চলনবিলাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদী ও বিলের পানিতে মাছ শিকারে সবাই দল বেঁধে নেমে পড়েন।

মঙ্গলবার সকালে ভাঙ্গুড়া উপজেলা ঐতিহ্যবাহী রুহুল বিলে শত শত সৌখিন মৎস্য শিকারীকে পলো দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে।

অপরদিকে চাটমোহর উপজেলার খলিশাগাড়ি বিল, ডিকশির বিল, কুড়িল বিল, জিয়লগাড়ি বিল, গুমানী নদী, করতোয়া নদীতে মাছ ধরার এই উৎসব চলবে বেশ কিছুদিন।

প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে পাবনা জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও সৌখিন মাছ শিকারীরা মাছ শিকার করার জন্য এসব এলাকাতে এসে থাকেন।

বিলের পানিতে নেমে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠেন শিশু-কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষ।

তাদের কারো হাতে পলো, কারো হাতে নেট পলো, ঠেলা জাল, লাঠি জালসহ মাছ ধরার নানা সরঞ্জাম নিয়ে মাছ শিকার করেন তারা।

ধরাও পড়ে শোল, বোয়াল, আইড়, গজার, দেশি মাগুর, রুই, কাতলাসহ হরেক রকমের দেশীয় মাছ।

সকল মৎস শিকারীই মাছ পেয়ে থাকেন তা নয় । তবে মাছ ধরার এই ব্যতিক্রমী এ উৎসবে যোগ দিয়ে আনন্দ উপভোগ করাটাই যেন তাদের কাছে মূল বিষয়।

চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা এলাকার মজনুর রহমান, ভাঙ্গুড়া উপজেলার চরপাড়া গ্রামের বাহের আলীসহ বেশ কয়েকজন সৌখিন মৎস শিকারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রতি বছর এই সময়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন।

তারা আরও জানান, মোবাইলের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে চলনবিল এলাকার বিভিন্ন বিলে পলো নিয়ে মাছ শিকার করে থাকেন।

এবিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস অফিসার মো. আব্দুল মতিন জানান, উন্মুক্ত জলাশয়ে সৌখিন মৎস শিকারীরা প্রতিবছরই মাছ শিকার করে থাকেন।

আর উন্মুক্ত জলাশয় গুলিতে যেন মাছ থাকে তার জন্য প্রতি বর্ষা মৌসুমে সরকারের পক্ষ থেকে মাছের পনা অবমুক্ত করা হয়ে থাকে।

 

 

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!