শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বাউশগাড়ী-ডেমরা গণহত্যা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বস্তি

ডেমরা শহীদ স্মৃতি সৌধ

image_pdfimage_print
ডেমরা শহীদ স্মৃতি সৌধ

ডেমরা শহীদ স্মৃতি সৌধ

পাবনা জেলা প্রতিনিধি : পাবনার বাউশগাড়ী-ডেমড়া গণহত্যা দিবস আজ ১৪ মে। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা পাবনার ফরিদপুর উপজেলা সদরের ডেমড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়ী গ্রামের প্রায় সাড়ে ৮০০ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার পর গণকবর দেয়। একই দিন এই এলাকার ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১৯৭১ সালের আলবদরপ্রধান এবং পরবর্তী সময়ের জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়ায় এবার এ দিবসে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের পরিবারের সদস্যরা।

নিজামীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যাসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে আটটি, অর্থাৎ ১, ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালের রায়ে। বাউশগাড়ী ও ডেমড়ার হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনাটি ছিল ২ নম্বর অভিযোগ।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় কারাগারে ১০ মে দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালের ১২ মে পাবনা সদর ও সাঁথিয়া উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করে তৎকালীন আলবদরপ্রধান মতিউর রহমান নিজামীসহ স্থানীয় রাজাকাররা। এরপর ১৪ মে রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ডেমড়া ও বাউশগাড়ীতে নিরস্ত্র গ্রামবাসীদের হত্যা করে গণকবর দেয়। দিবসটি পালন উপলক্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছেন।

ডেমড়া গ্রামের বাসিন্দা রণজিৎ কুমার পাল বলেন, ‘আমার ঠাকুরদাদা, বাবা, কাকাসহ পরিবারের সাতজনকে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা। নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় ডেমরা -বাউশগাড়ীর মানুষ এখন শান্তি পাচ্ছে।’

ধুলাউড়ি গ্রামের শহীদ ডা. আবদুল আউয়ালের ছেলে লিয়াকত আলী বলেন, ‘আমি আমার বাবার হত্যার সঠিক বিচার পেয়েছি। একজন যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর করায় আমরা আনন্দিত।’

বাউশগাড়ী গ্রামের নিজামীর মামলার বাদীপক্ষের সাক্ষী জালাল উদ্দিন (৭০) বলেন, ‘নিজামীর বিচার হয়েছে। দ্রুত রায় কার্যকর হয়েছে। আমরা এখন কলঙ্কমুক্ত।’

পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও নিজামীর যুদ্ধাপরাধ মামলার অন্যতম সাক্ষী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে রাজাকার, আলবদর, আল শামসের নেতা নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়ায় আমরা খুশি। এ ফাঁসি আমাদের প্রত্যাশিত ছিল। ডেমরা ও বাউশগাড়ী গণহত্যা মামলায় সব আদালত ও সব রায়ে নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এবার আমরা এই দিবসটিতে কলঙ্কমুক্তভাবে শহীদদের স্মরণ করব।’

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!