শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:২৫ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বাবার ওপর প্রতিশোধ নিতে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ছোট্ট তাবাচ্ছুমকে

image_pdfimage_print

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ১৪ ডিসেম্বর তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে আসা মাহি উম্মে তাবাচ্ছুম (৮) নামে এক শিক্ষার্থীকে চকলেট কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে স্থানীয় কলেজ মাঠে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তারা। শনিবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

নিহত মাহি উম্মে তাবাচ্ছুম ধুনট উপজেলার নসরতপুর গ্রামের বেলাল হোসেন খোকনের মেয়ে এবং স্থানীয় পাঁচথুপি-নসরতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের নসরতপুর গ্রামের তোজাম্মেল হকের ছেলে বাপ্পি আহম্মেদ (২২), দলিল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে কামাল পাশা (৩৪), সানোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম রেজা (২২) ও সাহেব আলীর ছেলে লাবলু সেখ (২১)।

পুলিশ জানায়, প্রায় ৫ বছর আগে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বাপ্পি আহম্মেদের আপন বোন ও চাচাতো বোনকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা বেলাল হোসেন খোকন। ওই সময় এসব ঘটনা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। কিন্তু তখন থেকেই প্রতিশোধের নেশা চেপে বসে বাপ্পির মাথায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠান এলাকায় তাবাচ্ছুমকে চকলেট কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বাপ্পি ও তার সহযোগীরা পার্শ্ববর্তী হাজি কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল কলেজ মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর তাবাচ্ছুমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার হাত-পায়ের আঙুল কেটে ক্ষত বিক্ষত করে বিবস্ত্র লাশ বাঁশঝাড়ের ভেতর ফেলে দেয়।

এ ঘটনায় করা মামলা সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার নসরতপুর গ্রামে দুই দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন স্থানীয়রা। প্রথম দিন ১৪ ডিসেম্বর রাতে তাবাচ্ছুম দাদা-দাদির সঙ্গে তাফসির মাহফিল অনুষ্ঠানে যায়। রাত ১০টার দিকে শিশুটি তার দাদার কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে চিপস কেনার জন্য মঞ্চের শামিয়ানার বাইরে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত ১টার দিকে তাফসির মাহফিলের স্থান থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি বাঁশঝাড়ের ভেতর বিবস্ত্র অবস্থায় শিশুটির মৃতদেহ পাওয়া যায়। স্কুলছাত্রীর মৃতদেহের পাশেই পড়ে ছিল তার পরনের কাপড়। এ ঘটনায় ১৫ ডিসেম্বর নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা বেলাল হোসেন খোকন ধুনট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। কিন্তু ওই মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ ছিল না।

ধুনট-শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, কোনোভাবেই এ হত্যার ক্লু পাওয়া যাচ্ছিলো না। এরই একপর্যায়ে পুলিশ সুপারের নিদের্শে একাধিক কৌশল অবলম্বন করে হত্যার রহস্য উৎঘাটন করার পাশপাশি হত্যাকারীদের সন্ধান মিলে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতে নসরতপুর গ্রাম থেকে বাপ্পি আহম্মেদ, কামাল পাশা, শামীম রেজা ও লাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাবাচ্ছুমকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে। তিনি বলেন, আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!