শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

করোনার সবশেষ
করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু বরণ করেছেন ৩৭ জন, শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৮২ জন। আসুন আমরা সবাই আরও সাবধান হই, মাস্ক পরিধান করি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি।  

বিদেশের মাটিতে প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী হোসেন আলীর অবদান ভুলে যাচ্ছে জাতি!

Mমাহবুব-উল-আলম, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) : ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল বিদেশে ভারতের মাটিতে সর্ব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.হোসেন আলী।

মুক্তিযুদ্ধে তার গৌরবময় অবদান জাতি আজ ভুলে যেতে বসেছে ! মুক্তিযুদ্ধের সময় হোসেন আলী কলকাতায় পাকিস্তান দূতাবাসে ডেপুটি হাইকমিশনার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

১৭ এপ্রিল মুজিব নগরে বাংলাদেশের বিপ্লবী সরকার শপথ নেয়ার পরে দিন ১৮ এপ্রিল হোসেন আলী পাকিস্তান পক্ষ ত্যাগ করে ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন । একই সঙ্গে কলকাতায় পাকিস্তানি দূতাবাসে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন। এটা ছিল এক ঐতিহাসিক স্মরনীয় ঘটনা। যা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরনার উৎস হিসাবে কাজ করে।

স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত তিনি ভারতে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসাবে নিযুক্ত থেকে ভারত সরকারের সমর্থনে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও শরনার্থীদের আশ্রয় ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রের ব্যবস্থা করেছিলেন্।

যার ফলে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর করাল গ্রাস থেকে বাংলাদেশ স্বল্প সময়ে মুক্ত হয় এবং পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য হোসেন আলীকে ধন্যবাদ জানান এবং তাকে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের সচিব ও মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়াতে হাইকমিশনার নিযুক্ত করেন।

বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ১৯৭৩ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেন।

তিনি বঙ্গবন্ধুর অতি বিশ্বাসভাজন ব্যক্তি ছিলেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছিল । অথচ বঙ্গবন্ধু বিহীন বাংলাদেশে অবহেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীর নামই মুছে যাচ্ছে।

জাতির ইতিহাসে মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান তুলে ধরা হয়নি। তৎকালে ভারতে পতাকা উত্তোলন ও পরে হোসেন আলীর পরিবারের সাথে বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষাত সেসময় ইত্তেফাক পত্রিকায় গুরুত্বের সাথে ছাপা হয়েছিল।

এম.হোসেন আলী ১৯২৩ খ্রীঃ ১ লা ফেব্রুয়ারি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৪৫ সালে ঢাকা ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি এবং এলএলবি ডিগ্রী লাভের পর ১৯৪৯ খ্রীস্টাব্দে সাবেক পররাষ্ট্র বিভাগে যোগদান করেন।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর হোসেন আলী নিজেও ক্যান্সারে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৯৮১ সালের ২ জানুয়ারি কানাডার অটোরাতে মৃত্যুবরন করেন।

১৯৮১ সালের ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ গেজেটে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় মুক্তিযুদ্ধে তার গুরুত্বপুর্ন অবদান স্বীকার করে শোকবার্তা প্রকাশ করলেও তার সম্মানে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনকিছুই করা হয়নি।

এম.হোসেন আলী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি প্রধান শিক্ষক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন মুক্তিযুদ্ধে তার বীরচিত ভূমিকা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত এবং তার সম্মানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মানের দাবি জানিয়েছেন।

এ উপলক্ষে সোমবার হোসেন আলী স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।।

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!