সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিবিধ কোলাজ : প্রসঙ্গ আত্মতৃপ্তি

image_pdfimage_print

।। আরিফ আহমেদ সিদ্দিকী।।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটগল্পগুলো লিখেছেন। চমৎকার লেখুনির মধ্যেও কেমন যেন শেষ হয়েও শেষ হয়নি এমনটি শুনতে শুনতেই বেড়ে ওঠা। তেমনি ভাবে পল­ী কবি জসীম উদ্দীন। তাঁর সবচেয়ে সাহিত্যাঙ্গনে বড় অবদান ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ কাব্যগ্রন্থটি। রাখাল যুবক রূপা আর গ্রামের সহজ সরল মেয়ে নকসী কাঁথার কারিগর সাজুকে তিনি সুন্দর ভাবে কাব্যিক ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করেছেন। কীর্তিমান দুই সাহিত্যিকের লেখনির ধাচ আলাদা।

উদীয়মান কবি খালিদ হাসান তুষার। ইতোমধ্যে তিনটি কাব্যগ্রন্থ পাঠাকের উদ্দেশ্যে লিখেছেন। ২০১৮ সালে একুশে বইমেলায় অযাচিত নির্বাচন নামের একটি কাব্যগ্রন্থ দিয়ে তার লেখালেখির জগতে প্রকাশ্য পদার্পণ। বইটি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অনুপ্রেরণা থেকেই ২০১৯ সালের বই মেলাতে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ যে থাকে আঁখি পল­বে প্রকাশ হয়। সে বারের বইটিও বেশ পাঠক প্রিয়তা পায়। ২০২০ সালে খালিদ হোসেন তুষার নতুন মাত্রায় পাঠকের উদ্দেশ্যে একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে অণুকাব্যগ্রন্থ ‘বিবিধ কোলাজ’।

বইটির লেখক কবি খালিদ হাসান তুষার এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিবিধ কোলাজ একটি অণু কবিতার বই। আমাদের যাপিত জীবনের আলোকচিত্র। ভালোবাসা, প্রেম, রাষ্ট্র, দ্রোহ, সমাজ, স্বপ্ন, বিষাদ, বিদায়, অপেক্ষা, আলো, অন্ধকার, সাদা, হলুদ, সত্য, অলীক, মৃত্যু, দর্শন, ক্ষোভ, আনন্দ, পরাজয়, রাজনীতি, কবি এবং মানুষ এর বিষয়বস্তু।

কবি তুষারের দাবী, এসব ছোট ছোট গল্পকথার ভাঁজে ভাঁজে পাঠক খুঁজে পাবেন আলাদা আলাদা রং, রূপ ও গন্ধ। ঢাকায় মাসব্যাপী একুশে বইমেলায় নির্বাণ প্রকাশের প্রকাশিত অণুকাব্যগ্রন্থ বিবিধ কোলাজ লিটলম্যাগের গ্রাম থিয়েটার স্টল নং ৪১ এ পাওয়া যাচ্ছে।

কবি খালিদ হাসান তুষার পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের কাটেঙ্গা গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৯৩ সালে জন্ম গ্রহণ করেছেন। গ্রামের স্কুল ও কলেজের গন্ডি পেড়িয়ে তিনি ইতোমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

বিবিধ কোলাজ অণুকাব্যগ্রন্থর লেখুনির গাথুনীগুলো আমাকে বিষ্মিত করছে। কাছ থেকেই দেখছি ছোট্ট থেকে এগিয়ে চলেছে কবি তুষার। যতটা দিন পেরুচ্ছে সে, ততটাই আমাকে মুগ্ধ করছে তার লেখুনি দিয়ে। তার লেখুনিতে শুধুযে আমি মুগ্ধ তা নয়, সেটা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার ফেসবুক পেজে তার সতীর্থ ও ফেসবুক বন্ধুরা তার লেখায় কমেন্ট ও মুক্ত পর্যালোচনা করছেন। যা আমি একজন দর্শক হয়ে দর্শন করছি। কবি ও কবির অনুসারী ভক্তদেন মন খোলা অভিব্যক্তিগুলো আমাকে ভীষন ভাবে নাড়া দিচ্ছে। এক কথায় ভালো লেগেছে তার কবিতার বইগুলো। তবে সদ্য প্রকাশিত অণুকাব্য ‘বিবিধ কোলাজ’ ভিন্নতা নিয়ে পাঠকের মদ্যে এক ভিন্ন নাড়া দিচ্ছে।

কবি খালিদ হোসেন তুষারকে কাছ থেকে যতটুকু দেখেছি, চিনেছি। মিশেছি। একটু আধটু কবিতা লিখি অনিয়মিত ভাবে। তবে নিয়মিত কবি বা লেখক হওয়ার সুযোগ এখনও আসেনি। তবে খালিদ হাসান তুষার। একজন ভালো বংশীবাদক এমনটি জানলেও আমার জানার মধ্যে নতুন করে তথ্য সমৃদ্ধ হয়েছে তাকে নিয়ে। ছোট্ট থেকেই তাকে অন্য ১০ জনের ভিন্নজন হিসেবেই আমার কাছে লেগেছে।

কবি খালিদ হোসেন তুষারের ভক্তদের ফেসবুক চিরকুট পড়ে বুঝতে পারলাম, আমার ভাবনার জায়গা অনেক প্রসারিত হয়েছে। ছোট ছোট কাব্য গুলি প্রাণবন্ত হয়েছে। সুন্দর শব্দমালায় অল্প কথায় মানুষের মনের সাহিত্যের ক্ষুধা নিবারণের এক দূর্দান্ত চেষ্টা করেছেন তিনি। ধন্যবাদ কবি খালিদ হাসান তুষারকে।

প্রেম বিরহ, জীবনের ঘাত প্রতিঘাত, বাস্তবতা, আবেগ, অনুভূতি, চাওয়া পাওয়ার বিরল ইতিহাস। খন্ড খন্ড মেঘের রাশিগুলোই আজ পরিপক্ক গর্জনে রূপ পেয়েছে। প্রেম হারিয়ে যায় না। যদি না মনে ঘুন ধরে। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিগুলো যেখানে বলা বা শোনার জায়গা থেকে সড়ে আসছে। সেখানে বিবিধ কোলাজ খুব সহজে মানুষের স্পর্শে নিয়ে আসার এক অনুপম প্রয়াস সৃষ্টি করেছে।

ভালোবাসায় অংশীদারিত্ব আসলেই সৃষ্টি থেকেই সে ভালোবাসা ভেঙ্গে যায়। কিন্তু সৃষ্টি থেকেই এই ভালোবাসা আর ভালোলাগার জায়গা এক করা যায় না। জীবন দর্শনের কাছে প্রেম আজ বড় অসহায়। এই অসহায় জীবনের প্রতিচ্ছবি সুন্দর ভাবেই ফুটে উঠেছে বিবিধ কোলাজ অণুকাব্যগ্রন্থে।

কবি মৃত্যুর কাছে নিজেকে সোঁপে দিয়েছে প্রেমের বিনিময়ে, ভালোবাসার বিনিময়ে। কবি থাকবেন না। কবির বই থাকবে। তার সৃষ্টি লেখাগুলো হয়তো এক সময়ে অসহায় হয়ে পড়বে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলে যাবে। অধরাই থেকে যাবে কবির স্বপ্ন, চাওয়া পাওয়া। থেকে যাবে ইতিহাস হয়ে বিবিধ কোলাজ নামের অণুকাব্যগুলো।

বিবিধ কোলাজ থেকেই জেনেছি, কবি মানুষ রূপী মানুষকেই কুকুড়ের সাথে তুলনা করেছেন। হায় মানুষ, তোমার কর্মকান্ড আজ তোমাকেই অমানুষ রূপে প্রতিয়মান করছে। কবিকে ধন্যবাদ বাস্তবতার আলোকে নিজের পুঁজি করা কথামালাগুলো মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য। ঘুণে ধরা সমাজের পরিবর্তন আসলে অবশ্যই এই পৃথিবীটা সুন্দর ও সহজ হবে। মানুষে মানুষের মধ্যেই বিশ্বাসের জায়গা এক হতে পারেনি যা কবির অণু লিখনীর মধ্যে উঠে আসে।

বিবিধ কোলাজ অণুকাব্য। মানুষের কল্যাণের দিকেই এক দিকনির্দেশনা। ক্লান্ত পথিক যেমন পথ বেয়ে এক সময়ে ক্লান্তি নিবারণের জন্য বৃক্ষের ছায়াতলে যায়। তথাকথিত সিনেমায় দৃশ্যভঙ্গিমায় সময়ের দীর্ঘশ্বাস মানুষের মধ্যে হাফিয়ে দেয়। সেই সময়কে সামনে নিয়ে ভাবনাগুলোর আবদারে কবি খালিদ হাসান তুষার মানুষের স্বল্প সময়ের সাহিত্য রত দিতে খন্ড খন্ড কাব্যমালার ঝুঁড়ি ছেড়ে দিয়েছেন পাঠকের দিকে। ক্লান্তি দুরে, স্বল্প বিনোদনে বিবিধ কোলাজ এক সাহসী পদক্ষেপ। নিত্য জীবনের বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে বিবিধ কোলাজে এমন মন্তব্য যে আজ কবির আশপাশে ঘুরছে ভালোবাসার জয়গানে।

শত বছর আগের পুরোনো মানুষগুলোর পুঁথি পড়া শুনতেন গ্রামের মানুষেরা। তেমনি কবির অণুকাব্যে কিছু মিল খুঁজে পাওয়ার চেষ্টায় বাউত নামানো হয়েছে। পুরোনো দিনের পুঁথির মতোই কিছুটা মিল খুঁজে ফিরছে পাঠক। যা অনুভবের স্মৃতি আওড়াচ্ছে।

ফেসবুকের লোকেরা জানান দিচ্ছেন, সুন্দর প্রচ্ছদ, যাকে ব্যতিক্রমধর্মী আখ্যা দেয়াও হয়েছে। ছোট ছোট শব্দগুলো বুলেটের চেয়ে গতিশীল হয়ে উঠেছে লেখুনির রাজপ্রাসাদের দেয়ালে। সর্বোপরি, পরস্পর মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবিধ কোলাজ পাঠক সমাজে জায়গা পেয়েছে। ছড়িয়ে যাবে বিবিধ কোলাজের গতিপথ।


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!