বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:০২ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি (চাটমোহর) পাবনা : পাবনার চাটমোহর উপজেলার আলোচিত বিলকুড়ালিয়ার বন্দোবস্ত পাওয়া খাসজমিতে শুরু হয়েছে ভূমিহীনদের ধান কাটা উৎসব।
সোমবার বিকেলে বিলে ভূমিহীন নারী-পুরুষের সাথে ধান কেটে উৎসব উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শেহেলী লায়লা।
এ সময় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মকবুল হোসেন, ভূমিহীন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক কে এম আতাউর রহমান রানা, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নুরে আলম সিদ্দিকী মঞ্জুসহ ভূমিহীন নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
ভূমিহীন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান রানা জানান, ইতিমধ্যে ৭৭৬টি পরিবারের মাঝে বিলের খাসজমি স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদানে দলিল সম্পাদন হয়েছে। বাকি ৫০৪টি পরিবারের আবেদন প্রক্রিয়াধীন। তিনি ইউএনও’র কাছে কবুলিয়াত দলিল দ্রুত সম্পাদনের দাবি জানান।
এ সময় ইউএনও শেহেলী লায়লা জানান, বাকি আবেদনগুলো যেন দ্রুত জেলা প্রশাসক মহোদয় দলিল সম্পাদনের অনুমোদন দেন সে বিষয়ে আগামী ২৫ এপ্রিল জেলা রাজস্ব সভায় এ কথা তুলে ধরবেন তিনি ।
ভূমিহীন উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নুরে আলম সিদ্দিকী মঞ্জু জানান, বিলের চার পাড়ের ১ হাজার ৬শ’টি ভূমিহীন পরিবার সাড়ে ১১শ’ বিঘা খাসজমিতে এবছর ৩২টি অগভীর নলুকপ ও ৩টি গভীর নলকুপের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বোরো রোপন করে ভূমিহীনরা। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এই জমি থেকে প্রায় ২৬ হাজার মণ ধান উৎপাদন হবে। ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় শান্তির সুবাতাস বইছে ভূমিহীন পরিবারগুলোতে। এই ধান কাটার পর আমন ধান রোপন করবেন ভূমিহীনরা।
প্রসঙ্গত: ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের নেতৃত্বে লাল পতাকা উড়িয়ে বিলকুড়ালিয়া বিলের ১ হাজার ৪শ’ বিঘা খাসজমি ভূমিগ্রাসীদের কাছ থেকে উদ্ধার করে নিজেদের দখলে নেন সংগঠিত ভূমিহীনরা। এরপর ভূমিহীন উন্নয়ন সংস্থা গঠনের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে একসনা লীজ নিয়ে খাসজমি চাষাবাদ করে আসছিলেন তারা।
দীর্ঘ ২২ বছর ভূমিহীনদের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সফলতা ও উচ্চ আদালতে মামলা মোকদ্দমা সরকারের পক্ষে রায় আসার পর ২০১৩ সাল থেকে নিরঙ্কুশ খাসজমি হিসেবে বিলকুড়ালিয়ার জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। সফল হয় বিলকুড়ালিয়ায় ভূমিহীনদের খাসজমির আন্দোলন।
© All rights reserved 2020 ® newspabna.com