ঢাকামঙ্গলবার , ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশেষ লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন নেতাজী কন্যা ড. অনিতা বসু পাফ

News Pabna
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২২ ৯:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কলকাতা প্রতিনিধি : ভারতের স্বাধীনতা-সংগ্রামের অগ্নিপুরুষ নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী ও সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবিস্মরণীয় সৃষ্টি ‘বিদ্রোহী’ কবিতা-প্রকাশের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে, ছায়ানট (কলকাতা) আয়োজন করে ২দিন ব্যাপী বিশেষ অনলাইন অনুষ্ঠান ‘নেতাজী, নজরুল ও একটি আজাদ ভারতের স্বপ্ন’।

এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি দেখা যায় কানাডা ভিত্তিক বাংলা টিভি চ্যানেল ‘দেশে বিদেশে’। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ছায়ানট (কলকাতা)-র সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। ২৯ জানুয়ারি,২০২২ ভারতীয় সময় রাত্রি ৯টা ৩০ মিনিটে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুদূর জার্মানি থেকে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর কন্যা ড. অনিতা বসু পাফ, আলাপচারিতায় ছিলেন তরুন শিল্প-ঐতিহাসিক সোমদত্তা। প্রায় দেড় ঘন্টার এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. পাফের কথায় উঠে আসে তাঁর বাল্য জীবনের কথা, তাঁর জীবনে মায়ের বিশেষ ভূমিকার কথা। এর পাশাপাশি তিনি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেন নেতাজী ও নজরুলের স্বপ্নের ভারত প্রসঙ্গে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারী-পুরুষের সমানাধিকার সহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে নেতাজী এবং নজরুলের আদর্শগত যে মিল পাওয়া যায়, তা তাঁর আলোচনায় বার বার উঠে আসে। কাজী নজরুল ইসলামের দেশাত্মবোধক গান এবং কবিতা সুভাষচন্দ্রকে কিভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল সেই সম্পর্কে আলোকপাত করা হয় ২দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে। বর্তমান সময়ে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে,তিনি সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শিল্পী সোমঋতা মল্লিক পরিবেশন করেন নেতাজীর প্রিয় কয়েকটি নজরুল-সঙ্গীত – ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’, ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’, ‘এই শিকল পরা ছল’। নেতাজীর প্রিয় কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ইংরাজি ভাষ্য শোনা যায় ড. নবনীতা লাহিড়ীর কণ্ঠে। গান এবং কবিতা শুনে ড. পাফ ভূয়সী প্রশংসা করেন।

৩০ জানুয়ারি,২০২২ ভারতীয় সময় রাত্রি ৯টা ৩০ মিনিটে এই অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস-অন্বেষী লেখক, বিশিষ্ট নজরুল গবেষক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপ-সচিব মো: জেহাদ উদ্দিন এবং মাননীয় অধ্যাপক ড. দেবনারায়ণ মোদক (প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিকর্তা,স্কুল অফ হিউম্যানিটিস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস,নেতাজী সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,কলকাতা)। অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই আলোচক ‘অনুষ্ঠানের নামকরণ’ প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন। ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ – এই বিষয়টি নেতাজী এবং নজরুল কিভাবে দেখেছিলেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শিল্পী গিরীন চক্রবর্তীর কণ্ঠে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি গান হিসেবে শোনানো হয়। দুই দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শকরা যোগ দেন এবং এই উদ্যোগকে সকলেই সাধুবাদ জানান।