সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ০৩:২৯ অপরাহ্ন

বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় না হওয়ার আক্ষেপ

স্পোর্টস ডেস্ক : জুয়াড়ি দীপক আগারওয়ালের কাছ থেকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও তা গোপন করেছিলেন সাকিব আল হাসান। গত বছর ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলমান আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতাই করেছিলেন সাকিব। অক্টোবরের শেষ দিকে এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। খোদ সাকিবই মনে করেন আকসুকে সহযোগিতা করায় অল্পতে পার পেয়ে গেছেন। শাস্তিটা বড়ো হতে পারত।

ক্রিকবাজের আয়োজনে প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই বলেছেন সাকিব। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা, ২০১৯ বিশ্বকাপের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স নিয়ে সবিস্তারে বলেছেন এই অলরাউন্ডার।

ফিক্সিংয়ের সঙ্গে সাকিবের নাম দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। বিস্ময় গোপন করেননি হার্শা ভোগলেও। তার প্রশ্নের জবাবেই সাকিব বলেছেন, শাস্তি আরো বড়ো হতে পারত। বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আমি এটা একটু বেশিই হালকাভাবে নিয়েছিলাম। অবশ্যই আমি এই প্ল্যাটফর্মে বিস্তারিত সবকিছু আলোচনা করতে চাই না। আমি যখন দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলাম এবং বললাম, তারা সবকিছু জানে, সব প্রমাণ দিলাম, ভেতরে-বাইরের সবকিছু তারা খুঁটিনাটি সব জানে, সত্যি কথা বলতে, এই কারণেই মাত্র ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছি। নইলে ৫-১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারতাম।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার হয়েও ভুলের ফাঁদে পা দিয়েছিলেন সাকিব। নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, বোকার মতো ভুল করেছিলাম। কারণ যে অভিজ্ঞতা আমার আছে, যে পরিমাণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ আমি খেলেছি এবং দুর্নীতি দমন ধারা নিয়ে যতগুলি ক্লাস করেছি, আমার ঐ ভুল করা উচিত হয়নি। সেটা নিয়ে আমি অনুতপ্ত।’ নিজের ও আগামীর ক্রিকেটারদের জন্য এটি বড়ো শিক্ষা বলেই মনে করেন তিনি। আগামী ২৯ অক্টোবরের পর থেকেই ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন সাকিব।

বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় না হওয়ার আক্ষেপ

তিন ম্যাচ জিতলেও গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের চৌকাঠে পা রাখতে পারেনি বাংলাদেশ দল। দলের বিশ্বকাপ মিশন ম্লান হলেও ইংল্যান্ডের মাটিতে চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন সাকিব। ব্যাট হাতে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স করেছেন। বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ৮৬.৫৭ গড়ে ৬০৬ রান সংগ্রহ করেন সাকিব। যেখানে ২টি সেঞ্চুরিসহ ৫টি হাফ সেঞ্চুরি ছিল।

বাংলাদেশ টুর্নামেন্টের শেষ চারে যেতে পারলে নিশ্চিতভাবে নিজের পারফরম্যান্সের সেরা মূল্যায়নটা পেতেন তিনি। দলের ব্যর্থতায় যেটি তার হাতে ধরা দেয়নি। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের হাতে উঠেছিল টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হতে না পারার আক্ষেপটাও ঝরেছে সাকিবের কণ্ঠে।

হার্শা ভোগলেকে বলেছেন, ‘এটা দারুণ ব্যাপার হতো যদি আমি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করতাম। তবে আমি মনে করি উইলিয়ামসনের এটা প্রাপ্য ছিল। সে যেভাবে তার দলকে পরিচালনা করেছে তা দুর্দান্ত।’ বিশ্বকাপে উইলিয়ামসন ১০ ম্যাচে ৮২.৫৭ গড়ে ৫৭৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২টি সেঞ্চুরি এবং ২টি হাফ সেঞ্চুরি ছিল তার। দলের জয়ে অবদান রাখা এবং অধিনায়ক হিসেবে দলকে ফাইনালে তোলার কৃতিত্ব হিসেবে টুর্নামেন্ট সেরা হন উইলিয়ামসন।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!