বেড়ায় আ.লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি

পাবনার বেড়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু সেই তুলনায় সুবিধায় রয়েছে বিএনপি। মনোনয়নপত্র দাখিল প্রক্রিয়া শেষের পর দেখা গেছে, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ১৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আর নয়টির মধ্যে পাঁচটিতেই বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। যে কয়টিতে আছে, তাও কৌশলগত কারণে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়ার নয়টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথম দফায় ২২ মার্চ ভোট হবে। এতে জমা দেওয়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ২ মার্চ এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩ মার্চ। সূত্রটি আরও জানায়, উপজেলার নয় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৪২ জন। এঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন ১৩ জন। শুধু কৈটোলা ইউনিয়ন বাদে বাকি সবগুলো ইউনিয়নেই এক থেকে চারজন করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে রূপপুর ইউনিয়নে চারজন, জাতসাকিনী ও ঢালারচর ইউনিয়নে দুজন করে এবং নতুন ভারেঙ্গা, পুরান ভারেঙ্গা, চাকলা, মাসুমদিয়া ও হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নে একজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বিএনপি। নয়টির মধ্যে নতুন ভারেঙ্গা, পুরান ভারেঙ্গা, চাকলা, রূপপুর ও কৈটোলা—এ পাঁচ ইউনিয়নে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে মাসুমদিয়া ইউনিয়নে দুজন এবং জাতসাকিনী, ঢালারচর ও হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নে একজন করে মোট পাঁচজন বিএনপি দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইজউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দলে বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। চারটি ইউনিয়নে দল মনোনীত প্রার্থীর বাইরে কেউ কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও তাঁরা তা করেছেন কৌশলগত কারণে। সময়মতো তাঁরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন।’
এদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, চেয়ারম্যান পদগুলোতে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা আওয়ামী লীগ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ভোট ও মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করে কেন্দ্রে পাঠালেও সেখান থেকে মাত্র একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন পাওয়া ওই প্রার্থী হলেন ঢালারচর ইউনিয়নের কোরবান আলী সরদার। এর বাইরে দলের মনোনয়ন পাওয়া অন্যরা হলেন মাসুমদিয়া ইউনিয়নে মিরোজ হোসেন, রূপপুরে আবুল হাশেম উজ্জ্বল, হাটুরিয়া-নাকালিয়ায় মোস্তাফিজুর রহমান, পুরান ভারেঙ্গায় এ এম রফিকউল্লাহ, নতুন ভারেঙ্গায় আমজাদ হোসেন, কৈটোলায় শওকত ওসমান, জাতসাখিনীতে রেজাউল হক মিয়া এবং চাকলা ইউনিয়নে ফারুখ হোসেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন প্রদানে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মতামত উপেক্ষিত হয়েছে। এ কারণে মনোনয়নপত্র দাখিল করা বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা হয়তো আমাদের দলে একটু বেশি। এর বাইরে আমি আর কোনো মন্তব্য করব না।