বেড়ার সেরা কলেজে ভবন সংকট, পাঠদান ব্যাহত

বার্তাকক্ষ : পাবনার বেড়া উপজেলার মনজুর কাদের মহিলা কলেজ নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

চলতি বছর এটি উপজেলার সেরা কলেজের স্বীকৃতি পেয়েছে। এ ছাড়া ২০১৬ সালে এই কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলার সেরা অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ভবন না থাকায় শ্রেণিকক্ষসংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বেড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে ১ দশমিক ৫ একর জায়গা নিয়ে কলেজটির অবস্থান। ১৯৯০ সালে কলেজটি যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৩ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি ও ১৯৯৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়।

কলেজটি ইতিমধ্যেই পাবনার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবস্থান করেছে। এই কলেজে নিয়মিত সাংস্কৃতিক, বিতর্ক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান হয়। এক যুগের বেশি সময় ধরে ছাত্রীরা উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রিতে ভালো ফল করছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, মহিলা কলেজ হিসেবে সামগ্রিক ফলাফল ও ছাত্রীসংখ্যার বিচারে পাবনায় এই কলেজই সেরা।

মনজুর কাদের মহিলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি স্তরে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চালু রয়েছে। ছাত্রীসংখ্যা ১ হাজার ৭৩৪। শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন ৬৯ জন।

কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, কলেজটিতে রয়েছে ৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটিমাত্র দ্বিতল ভবন। ভবনটিতে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে চারটি। বাকি কক্ষগুলো শিক্ষকদের বসার ও অফিসকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এ ছাড়া কলেজে রয়েছে জরাজীর্ণ লম্বা দুটি টিনের ঘর। ওই ঘর দুটিকেই নয়টি শ্রেণিকক্ষে বিভক্ত করে কোনো রকমে সেখানে চালানো হয় পাঠদান। জরাজীর্ণ হওয়ায় টিনের ঘর দুটি হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি এড়াতে প্রতিবছরই সেখানে সংস্কারকাজ করে।

কলেজের কয়েকজন ছাত্রী ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে শ্রেণিকক্ষগুলো রয়েছে, তাতে ছাত্রীদের স্থান-সংকুলান হয় না। অনেক সময় একই শ্রেণিকক্ষে বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের বিপরীতমুখী হয়ে একসঙ্গে দুটি ক্লাস নিতে হয়।

এ ছাড়া টিনের ঘরগুলোতে গরমের মধ্যে ক্লাস করার মতো উপযুক্ত পরিবেশও নেই। সব মিলিয়ে শ্রেণিকক্ষসংকটে কলেজে পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে।

মো. জানে আলম, আবদুস সালামসহ কলেজশিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে সুদৃশ্য ভবনের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারেই কম। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক কক্ষই অব্যবহৃত পড়ে থাকে। অথচ তাঁদের এই কলেজে কক্ষসংকটে পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে।

কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কলেজটি এবার উপজেলায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান পড়ালেখা এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রে ভালো করছে। তবে আমরা আরও এগিয়ে যেতাম, যদি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ভবন থাকত। কলেজে নতুন ভবনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে কয়েক বছর ধরে যোগাযোগ করেও ফল পাচ্ছি না।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে কলেজটি অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। তবে ছাত্রীসংখ্যার তুলনায় এখানে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। ছাত্রীদের সাধারণ কক্ষ (কমন রুম) নেই, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার মতো মিলনায়তনও নেই।

এ ছাড়া ভেতরের পরিবেশ মনোরম হলেও কলেজ থেকে বাইরে বের হওয়ার রাস্তাটি বৃষ্টিতে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ সমস্যাগুলোর সমাধান হলে কলেজটি আরও এগিয়ে যাবে।