বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়ায় অর্ধশতাধিক প্রাথমিক শিক্ষককে স্কুলে যেতে হয় না !

বেড়ায় অর্ধশতাধিক শিক্ষককে স্কুলে যেতে হয় না

image_pdfimage_print

নিজস্ব প্রতিনিধি : পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়নের ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মূল শিক্ষকের পরিবর্তে ভাড়াটে (প্রক্সি) শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় অর্ধশত শিক্ষক কর্মরত থাকলেও নানা অজুহাতে কেউই বিদ্যালয়ে যান না। এতে সরকারি সময়সূচী অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি সরেজমিন কয়েকটি স্কুলে গিয়ে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চর নতিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোন প্রধান শিক্ষক নেই। ৩ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও কেউ বিদ্যালয়ে যান না। ৪০ নং ঢালারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও পালাক্রমে মাসে ৩-৪ দিন করে স্কুলে গিয়ে থাকেন।

খাস ঢালারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিউল হাসান মুকুল ১৫-২০ দিন পর পর বিদ্যালয়ে যান। তিনি প্রতিদিন বেড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে দালালী করেন বলে একটি সূত্র জানায়। ওই স্কুলে কর্মরত কোন শিক্ষকই স্কুলে যান না। স্থানীয় বেকার যুবক-যুবতীদের নামমাত্র ১৫০০ টাকা করে সম্মানী দিয়ে ক্লাসের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রাজধরদিয়া সরকারি প্রাথমিক (সম্প্রতি সরকারিকরণ) বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদটি শূন্য রয়েছে। ২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও তারা কোনদিন স্কুলে যান না। প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানো হয়।

চর দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রধান শিক্ষক পদটিও শূন্য রয়েছে। সোনিয়া নামের এক সহকারী শিক্ষিকা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছেন। অন্যরা মাসে দুই তিন দিন স্কুলে গিয়ে থাকেন।

রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজবাড়ি জেলা শহরে থাকেন। সপ্তাহে ১দিন বিদ্যালয়ে আসেন। অন্যরাও একইভাবে চাকরী করছেন।

হিজলাকোঠা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানেও প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে।

কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অন্য শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে আসেন না।

বুলন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদটি শূন্য রয়েছে। অন্যান্য শিক্ষকরা স্কুলে আসেন না।

স্থানীয়রা জানান, মাসিক এক থেকে দেড় হাজার টাকা ভাতার বিনিময়ে কলেজ পড়ুয়া স্থানীয় ছাত্রছাত্রী ও বেকার ছেলেমেয়েদের দিয়ে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা মাসে একদিন বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় এক মাসের স্বাক্ষর করে থাকেন। স্কুল ফাঁকি দিয়ে এসব শিক্ষক পরিবারের অন্যান্য কাজ, কেউ কেউ ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকেন।

এ জন্য অবশ্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে মাসিক নির্ধারিত মাসোহারা দিতে হয়। এসব শিক্ষকের পোস্টিং চরাঞ্চলে হলেও তাদের অধিকাংশের বাসস্থান উপজেলা সদর বা সদরের কাছাকাছি।

খাস ঢালারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিউল হাসান মুকুল বলেন, বিদ্যালয়গুলো দূর্গম চরাঞ্চলে হওয়ায় প্রায় ২০ বছর ধরে একই নিয়মে চলে আসছে এ এলাকার শিক্ষা কার্যক্রম।

উপজেলা সদর থেকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে প্রায় দেড়-দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। তাই বিকল্প ব্যবস্থায় ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় কোন বিঘ্ন ঘটছে না।

তবে অভিভাবক ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের পরিবর্তে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ভাড়াটিয়া শিক্ষকরা নামমাত্র যে পাঠদান করছে, তাতে ছাত্রছাত্রীরা কোন সুফল পাচ্ছে না। স্কুলে ঠিকমতো ক্লাস না হওয়ায় এলাকার অসহায় অভিভাবকদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান কোরবান আলী বলেন, ঢালারচরের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন খুবই সুন্দর। অধিকাংশ রাস্তাঘাটই পাকা হয়েছে। উপজেলা সদর থেকে এখন মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ঢালারচরে আসা যায়।

বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন এর সাথে কথা বললে তিনি এ প্রতিবেদককে সংবাদটি পরিবেশন না করতে অনুরোধ করেন।

তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে শিক্ষকদের স্কুলে নিয়মিত হয়ে পাঠদান নিশ্চিত করা হবে।

শীর্ষ পর্যায়ের কঠোর নজরদারীই পারে ঢালারচর এলাকার এই স্কুলগুলোর শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে আসতে এমনটিই মনে করেন স্থানীয় জনগন।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!