রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়ায় ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞাকে সামনে রেখে ফ্রিজ কেনার ধুম!

image_pdfimage_print

আরিফ খাঁন, বেড়া, পাবনা: পাবনার বেড়া উপজেলায় ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞাকে সামনে রেখে যমুনা পাড়ের বিভিন্ন বাড়িতে ফ্রিজ কেনার ধুম পড়ে গেছে।

এ ছাড়া একটি অসাধু চক্র নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ ধরার প্রস্তুতিও নিয়েছে।

অপরদিকে সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই বেড়া উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী, জেলে, মাছ বিক্রেতা, আড়ৎদার ও অনান্য সুধীজনদের নিয়ে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে মা ইলিশ ধরা ও বিক্রি বন্ধে মতবিনিময় ও আলোচনাসভা, লিফলেট বিতরণ করে আসছেন।

জানা যায়, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ও ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে ২২ দিন পর্যন্ত সারা দেশের নদ-নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

এসময় দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় এবং মজুতও নিষিদ্ধ থাকবে।

মৎস্যজীবী ও স্থানীয়রা জানান, বেড়া উপজেলা ইতিমধ্যেই ইলিশ পাচারের গোল্ডেন রুট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

এ সময় বেড়া উপজেলার পদ্মা ও যমুনা নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে।

এ ছাড়া এর পার্শ্ববর্তী রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ জেলায় ধরা পড়া ইলিশও বেড়া উপজেলায় চলে আসে।

পরে সুযোগ বুঝে সেসব ইলিশ বেড়া থেকে বিভিন্ন এলাকায় পাচার হয়ে যায়।

এ কারণে ইলিশ ধরা নিষেধের সময়ে বেড়ায় ইলিশের সরবরাহ এত বেড়ে যায় যে কখনও কখনও তা একেবারে পানির দরে বিক্রি হয়।

গত বছরগুলোতে পানির দরে ইলিশ কেনার সুযোগ পেয়ে যমুনাপারের অনেকেই সেই ইলিশ কিনে মজুত করেছেন।

পরে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর চড়াদামে সেই ইলিশ তাঁরা বিক্রি করেছেন।

গত বছর এ ধরনের অনৈতিক কাজ করে লাভবান হয়েছিলেন অনেকেই।

এ জন্য এ বছর ইলিশ ধরা নিষেধের ঘোষণা শোনার পর থেকেই যমুনা পাড়ের অনেকের মধ্যেই ফ্রিজ কেনার ধুম পড়ে গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন ফ্রিজের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত কোরবানির ঈদের সামনে ফ্রিজের বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি হয়।

আর ঈদের পরে বেচাকেনা একেবারেই কমে যায়। সেই হিসেবে বেড়া উপজেলার ফ্রিজের দোকানগুলোতে ঈদুল আজহার পর থেকে ফ্রিজ বেচাকেনা হচ্ছিল খুব কম।

কিন্তু সপ্তাহ খানেক হলো যমুনা পাড়ের কাছাকাছি এলাকার দোকানগুলোতে ফ্রিজ বিক্রি হঠাৎ করেই ব্যাপক বেড়ে গেছে।

কোনো কোনো দোকানে ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে কোরবানির ঈদের সময়ের চেয়েও বেশি।

আর এসব ফ্রিজের বেশির ভাগ ক্রেতাই হলেন যমুনা পাড়ের মানুষ। তাঁদের মধ্যে দিনমজুর, রিকশা শ্রমিক থেকে শুরু করে সামর্থহীন লোকজন রয়েছেন।

অনেকেই ধারদেনা করে বা সমিতি থেকে ঋণ তুলে ফ্রিজ কিনছেন।

কাশিনাথপুর বাজারে গিয়ে চার-পাঁচটি ফ্রিজের দোকানের ডিলার ও ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তাহ খানেক হলো ফ্রিজ বিক্রি অস্বাভাবিক বেড়েছে।

আর এইসব ফ্রিজের সিংহভাগ ক্রেতাই হলেন যমুনা পাড়ের নগরবাড়ী, কাজীরহাট, রঘুনাথপুর, ঢালারচর প্রভৃতি এলাকার।

কাশিনাথপুর বাজারের মিনিস্টার ফ্রিজ কোম্পানির ডিলার শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘গত তিনদিনে আমরা ২১টি ফ্রিজ বিক্রি করেছি। হঠাৎ করেই আমাদের কাশিনাথপুর বাজারের সব ফ্রিজের দোকানে এভাবে বিক্রি বেড়ে গেছে। আর এসব ফ্রিজ কিনছেন যমুনাপাড়ের মানুষ।’

কাশিনাথপুর বাজার থেকে ফ্রিজ কিনে বাড়ি ফেরার সময় যমুনা পাড়ের রঘুনাথপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, গত বছর নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাঁর প্রতিবেশী ফ্রিজ কিনে ইলিশ মজুত করে ভালো লাভ করেছিলেন।

তাই এবার তিনি সস্তায় ইলিশ পাওয়ার আশায় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ফ্রিজ কিনছেন।

এদিকে উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে একটি অসাধু চক্র এখন থেকেই ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

এ জন্য তারা পুরনো জাল ঠিকঠাক করার পাশাপাশি নতুন জালও কিনেছে।

সম্প্রতি বেড়ার দুর্গম যমুনার চর চরকল্যাণপুরে গিয়ে দেখা যায় লোকজন ইলিশ ধরার জন্য জাল ঠিকঠাক করছেন।

তবে এ ব্যাপারে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, ‘কেউ ফ্রিজ কিনলে আইনত তাতে আমরা বাধা দিতে পারিনা। তবে নিষেধাজ্ঞার সমেয়ে ফ্রিজে ইলিশ মজুত করা হলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমারা কঠোর অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। তাই মা ইলিশের ক্ষতি করে কেউ সহজে পার পাবে না।’

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!