রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

বেড়ায় উচ্ছেদের পর দুই স্থানে দুই চিত্র

আরিফ খাঁন, বেড়া, পাবনা : পাবনার বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর দুই স্থানে দুই রকম চিত্র দেখা গেছে।

মাস ছয়েক আগে অভিযান চালিয়ে কাশিনাথপুর গোলচত্বর সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় (সওজ) সড়কের দুপাশে সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। সেখানে বিঘা দুয়েক জমি উন্মুক্ত করে কাঁটা তারের বেড়ায় ঘিরে লাগানো হয় বিভিন্ন ধরণের গাছ। আর উচ্ছেদ হওয়া বাকি জায়গাগুলোতে সওজ এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ফেলে রাখে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সওজের এই দুই ধরনের পদক্ষেপে হয়েছে দুই রকম ফল।
উচ্ছেদের পর গত পাঁচ মাসে কাঁটা তারের বেড়ায় ঘিরে দেওয়া স্থানটি দখলমুক্ত থাকলেও অপরপাশের বাকি জায়গাগুলোর বেশির ভাগই আবারও দখল হয়ে গেছে। আগের মতোই প্রভাবশালীরা মহাসড়কের অংশসহ সওজের জায়গা দখল করে দোকানপাট তুলে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার অন্যের কাছে ভাড়াও দিয়েছে।

উচ্ছেদের পর দখলমুক্ত থাকাকালে বেশ কিছুদিন মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকলেও আবার যানজট দেখা দিতে শুরু করেছে।

সওজ, যানবাহনের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, পাবনার বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুর ও বেড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে জেলার দুটি বড় হাট। এর একটি হলো কাশিনাথপুর হাট ও অন্যটি করমজা চতুর হাট। দুটি হাটেই মহাসড়ক ও এর পার্শ্ববর্তী অংশ দখল করে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য অবৈধ দোকানপাটসহ স্থাপনা। এসব স্থাপনার কারণে ওই দুটি স্থানে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হত।

গত ৩১ জুলাই কাশিনাথপুরে ও ১ আগস্ট বেড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় সওজ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় হাজারখানেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। উচ্ছেদের পর ওই দুটি স্থানের যানজট একেবারে দূর হয়ে যায়। যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের মধ্যে দেখা দেয় স্বস্তি। অথচ বর্তমানে দখলমুক্ত হওয়া বেশির ভাগ স্থান আবারও দখল হয়ে গেছে। এর ফলে আগের মতো ফিরে এসেছে যানজট।

তবে এমন পরিস্থিতিতেও বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী’র সহযোগীতায় সওজের একটি পদক্ষেপ সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। আর তা হলো কাশিনাথপুর গোলচত্বর সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকার প্রায় দুই বিঘা জমি দখলমুক্ত করে বাগান তৈরি করা।

দখলমুক্ত হওয়ার আগে এই স্থানটিতে গড়ে উঠেছিল কাঁচাবাজার, মাংস ও মুরগি বিক্রির শতাধিক দোকান। দখলমুক্ত করে সেখানে লাগানো হয়েছে মেহগনি, কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন জাতের গাছ। গত পাঁচমাসে এসব গাছ বেশ বড় ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় কথা কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে ঘেরা এ স্থানটি এখনও পুরোপুরি দখলমুক্ত হয়ে রয়েছে তবে কাঁটা তারের কোল ঘেষে আবারও বসেছে ভ্রাম্যমান অর্ধশত দোকানপাট।

এছাড়াও মহাসড়কের অপর প্রান্তের বেশির ভাগ জায়গা পুনর্দখল হয়ে গেছে। সওজ এসব জায়গা দখলমুক্ত করার পর আর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সেভাবেই ফেলে রেখেছিল। এর ফলে সেখানে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে দোকানপাট।

সেখানে ফলের দোকান করা আজগর আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই এখানে আমরা ফ্রিতে থাকি না এখানে ব্যবসা করতে আমাদের স্বানীয় নেতাদের কিছু দিতে হয়।

বেড়ার কাশিনাথপুর বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ আলাউল হোসেন বলেন, দখলমুক্ত করে সেখানে বাগান তৈরি করা বা অন্য কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নিলে তা আর পূনর্দখল হত না। আমাদের কাশিনাথপুরের পাশাপাশি অবস্থিত দখলমুক্ত দুটি স্থানের দৃশ্য এ বিষয়টির প্রমাণ দেয়। এখন থেকে সওজের উচিত যে কোনো জায়গা দখলমুক্ত করা মাত্রই সেখানে কোনো কিছু দিয়ে ঘিরে গাছ লাগিয়ে দেওয়া।

সওজের পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ রায় বলেন, দখলমুক্ত করে বাগান করায় আমরা সুফল পেয়েছি। অন্য জায়গাগুলোতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। যে জায়গাগুলো পূর্নদখল হয়েছে সেখানে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বৃক্ষরোপণসহ অন্যান্য কার্যক্রম করা হবে।


ওয়ার্ডপ্রেস থিম দিয়ে নিজেই ওয়েবসাইট তৈরি করুন

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!