শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়ায় কিস্তি পরিশোধের চাপে দিশেহারা বন্যাদুর্গত মানুষ

কিস্তি পরিশোধের চাপে দিশেহারা বন্যাদুর্গত মানুষ

image_pdfimage_print
কিস্তি পরিশোধের চাপে দিশেহারা বন্যাদুর্গত মানুষ

কিস্তি পরিশোধের চাপে দিশেহারা বন্যাদুর্গত মানুষ

বেড়া প্রতিনিধি: বেড়া উপজেলার দুর্গত মানুষদের বন্যায় বাড়িঘর ডুবে যাওয়াসহ নিম্নবিত্ত মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটছে ।

এ অবস্থায় এনজিও ও বিভিন্ন ঋণ সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য এসব দুর্গত মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় কিস্তি পরিশোধের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বন্যাদুর্গত অনেক মানুষ।

বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া, নতুনভারেঙ্গা, পুরাণভারেঙ্গা, জাতসাকিনীসহ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষ বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে বন্যাদুর্গত মানুষদের বেশির ভাগই তাঁতশ্রমিক, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক। বাড়িঘরে পানি ওঠায় অনেকের বাড়িতেই ঠিকমতো চুলা জ্বলছে না।

এসব নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের অনেকেই ঘর তৈরি, মেয়ের বিয়েসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এনজিও অথবা স্থানীয় সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তাঁরা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সাপ্তাহিক কিস্তিতে তা শোধ করে আসছিলেন।

কিন্তু বন্যার কারণে আয়-রোজগার অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর কিস্তি শোধ করতে পারছেন না তাঁরা। বেশির ভাগ ঋণগ্রহীতার এক থেকে দুই সপ্তাহের কিস্তি বাকি পড়েছে। কিস্তি শোধ করতে না পারায় এনজিও কর্মী ও সমিতির লোকজন ঋণগ্রহীতাদের বাড়ি অথবা আশ্রয় নেওয়ার স্থানে গিয়েও কিস্তি শোধের জন্য চাপ দিচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গালাগালিও করছেন।

হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের প্যাঁচাকোলো গ্রামের মর্জিনা খাতুন (৪০) বলেন, দুটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। বন্যার কারণে সাত-আট দিন ধরে পরিবারের সবাই মিলে পাশের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তাঁদের। এমন অবস্থাতেও কিস্তি শোধের চাপ থেকে রেহাই মিলছে না।

যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানে গিয়ে এনজিওর লোকজন কিস্তির জন্য বসে থাকছেন। বাধ্য হয়ে লাভের ওপর অন্য জায়গা থেকে টাকা ধার করে গত সপ্তাহের কিস্তি দিয়েছেন। সামনের সপ্তাহে কী করবেন, তা ভেবে দিশাহারা।

একই গ্রামের হারুন মিয়া (৩০) বলেন, ‘ইটভাটায় লেবারের কাম করি। পরায় (প্রায়) ১৫ দিন ধইরা কাজ বন্ধ। অন্যের বাড়িত আশ্রয় নিয়া আছি। এমন অবস্থাতেও কিস্তির ছাড় নাই। কিস্তির চিন্তা গলায় ফাঁস হয়া দাঁড়াইছে।’

হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল হক বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের বেশির ভাগ বাড়িতে পানি। কিস্তি দেওয়ার মতো অবস্থা কারোরই নাই। আমি কয়েকটি এনজিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বন্যা থাকাকালীন কিস্তি না নেওয়ার জন্য হাতজোড় করে অনুরোধ করেছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেড়ার বন্যাকবলিত এলাকায় ব্র্যাক, যমুনা, সবুজ বাংলা, জাগরণী, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, টিএমএসএস-সহ ১০ থেকে ১২টি এনজিও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মূলত তাঁতশ্রমিক, দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষই এসব এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সাপ্তাহিক কিস্তিতে তা শোধ করে থাকেন।

দুই-তিনটি এনজিওর মাঠপর্যায়ের কর্মীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, ঋণ বিতরণের পর তা উত্তোলনের দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ তাঁদের। কেউ কিস্তি শোধ না করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তাঁদের কঠোর জবাবদিহি করতে হয়। কখনো কখনো নিজের পকেট থেকে কিস্তি শোধ করতে হয়, নয়তো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সম্মুখীন হতে হয়।

গ্রামীণ ব্যাংক বেড়া শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাজমুল মিয়া বলেন, ‘আমরা বন্যাদুর্গতদের কাছ থেকে কিস্তি আদায়ে সর্বোচ্চ নমনীয় হয়েছি। কেউ দিতে না পারলে কিস্তি নেওয়া হচ্ছে না।’

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!