শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০২:০৪ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়ায় চারটি পাট ক্রয়কেন্দ্রের ৩টিই বন্ধ!

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : বছর দু-এক আগেও পাবনার বেড়া উপজেলায় সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রিত পাটকলগুলোর চারটি পাট ক্রয়কেন্দ্র ছিল।

এবার তা একটিতে নেমে এসেছে। সেই কেন্দ্রও পাট সংগ্রহ করছে ঢিমেতালে। ফলে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার পাটের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।

জানতে চাইলে পাট অধিদপ্তরের বেড়া-সুজানগর অঞ্চলের পাট পরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস বলেন, বেড়ায় বিজেএমসির ক্রয়কেন্দ্র কমতে কমতে আজ মাত্র একটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। অথচ এখানে বিজেএমসির নিজস্ব গুদামসহ পাট ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের উপযোগী নিজস্ব অবকাঠামো রয়েছে।

পাট ক্রয়কেন্দ্র বেশি থাকলে পাট বিক্রির ক্ষেত্র বেড়ে যায়। বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বেড়ায় বিজেএমসির আরও অন্তত দুই-তিনটি পাট ক্রয়কেন্দ্র হওয়া উচিত।

গত সোম ও মঙ্গলবার বেড়া ও সাঁথিয়ার কয়েকটি বাজার ঘুরে প্রতি মণ পাট ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অথচ এবারের মৌসুমের শুরুতে পাট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। সেই হিসাবে মাসখানেকের ব্যবধানে পাটের দাম প্রতি মণে ১০০-১৫০ টাকা কমছে। এ অবস্থার জন্য সবাই বিজেএমসির ক্রয়কেন্দ্র কমে যাওয়ার বিষয়টিকেই দায়ী করেছেন।

কৃষক ও পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলায় প্রচুর পাট উৎপাদিত হয়। এ কারণে বেড়ায় গড়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের প্রসিদ্ধ পাট ব্যবসাকেন্দ্র।

১৫-২০ বছর আগেও এখানে বিজেএমসির ১৪-১৫টি পাট ক্রয়কেন্দ্র ছিল। বেড়া বাজারের পাটপট্টিতে পাটকলগুলো গুদাম ও ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে পাট সংগ্রহ করত। কিন্তু ধীরে ধীরে পাটকলগুলো তাদের ক্রয়কেন্দ্র গুটিয়ে নিতে থাকে।

২০১৫ সালে বেড়ায় পাট ক্রয়কেন্দ্র নেমে আসে চারটিতে। তখন হাফিজ জুট মিলস, গুল আহম্মদ জুট মিলস, আমিন জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানি জুট মিলসের ক্রয়কেন্দ্র ছিল। কিন্তু চলতি বছরে আমিন জুট মিলস ছাড়া বাকি তিনটি ক্রয়কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বেড়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বেড়ার মতো একটি প্রসিদ্ধ পাট ব্যবসাকেন্দ্রে বিজেএমসির ক্রয়কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা এবার আমিন জুট মিলসের পাশাপাশি লতিফ বাওয়ানি জুট মিলসের ক্রয়কেন্দ্র বেড়ায় আনার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু অনেক দূর এগোনোর পরেও শেষ পর্যন্ত সেটি আনা সম্ভব হয়নি। বিজেএমসির প্রয়োজনীয় পাট ক্রয়কেন্দ্র না থাকায় বেড়ায় পাটের বাজার দিন দিন কমছে। ব্যবসায়ীরাও ভালো নেই।’

এদিকে আমিন জুট মিলস তাদের বেড়া ক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে চলতি বছরে মাত্র ৪০ হাজার মণ পাট সংগ্রহ করবে। গত ১৯ জুলাই পাট সংগ্রহ শুরু করে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত তারা সাড়ে ১৫ হাজার মণ পাট সংগ্রহ করেছে।

মিলের কাছে পাট ব্যবসায়ীদের গত বছরের ১ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। চলতি বছর আরও ১ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্রয়কেন্দ্রটিতে পাট দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

বেড়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী শামসুল ইসলাম বলেন, ‘আমিন জুট মিলসের কাছে আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গত বছরের ও চলতি বছরের মিলিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা বকেয়া পড়েছে। এভাবে বকেয়া পড়ায় সেখানে নতুন করে পাট দেওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আমিন জুট মিলসের বেড়া ক্রয়কেন্দ্রের পাট ক্রয় কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এবার পাটের মানভেদে ১ হাজার ৬৯০ থেকে ১ হাজার ৭৯০ টাকা মণ দরে পাট সংগ্রহ করছি। গত বছরের ২ কোটি টাকা বকেয়ার মধ্যে ব্যবসায়ীদের ১ কোটি টাকা শোধ করা হয়েছে। বাকি টাকাও সময়মতো পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!