বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বেড়ায় বন্যাদুর্গতদের কাছে গরু যেন গলার কাঁটা

বেড়ায় বন্যাদুর্গতদের কাছে গরু যেন গলার কাঁটা। ছবি: সংগৃহীত

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : পাবনার বেড়া উপজেলার দক্ষিণ চর পেঁচাকোলা গ্রামের আবদুল মতিন তাঁর চারটি গরু নিয়ে খুবই চিন্তিত। গরুগুলো টানা তিন দিন বন্যার পানিতে দাঁড়িয়ে ছিল।

 শেষ পর্যন্ত দিন চারেক আগে পরিবারসহ গরুগুলো নিয়ে তিনি ঠাঁই নিয়েছেন উপজেলার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন মোহনগঞ্জ বাজারের পাশে ফাঁকা জায়গায়।

গরু নিয়ে মতিনের চিন্তার মূল কারণ গরুগুলোকে কয়েক দিন ধরে ভালো খাবার দিতে পারছেন না। এতে গরুগুলো দুর্বল ও কিছুটা অসুস্থও হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে খবর পেয়েছেন কোরবানির হাটে গরুর দামও একেবারে কম।

 মতিন বলেন, ‘কোরবানির হাটে তোলার নিয়ত কইর‍্যা এক বছর ধইর‍্যা গরু চারটা পালতেছি। গরুগুল্যা ছাড়া তেমন সম্পদ আমার নাই।

মতিন আরও বলেন, যে সময় গরুগুলোকে ভালো খাওয়া দেওয়ার কথা, সে সময় সাধারণ খাবারও দিব্যার পারতেছি না।’

মতিনের মতো অবস্থা বেড়ার বেশির ভাগ বন্যাকবলিত খামারির। বন্যায় তাঁদের ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষতি হলেও তা নিয়ে তাঁরা বড় ধরনের বিচলিত নন। তাঁরা বেশি বিচলিত গরু নিয়ে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,গত বছর গরুর ভালো দাম পাওয়ায় এবার বেড়ায় কোরবানির হাটকে সামনে রেখে প্রচুর গরু পালন করা হয়।

কিন্তু বন্যার কারণে গরু পালনকারীরা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। বেশির ভাগ খামারিই গরুকে ভালো খাবার দিতে পারছেন না। তাঁদের বিপদ আরও বেড়েছে দাম পড়ে যাওয়ায়

 এ ছাড়া বন্যার পানিতে গরু দাঁড়িয়ে থাকায় সেগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই হাটে নিয়ে গরুর ভালো দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।

এ অবস্থায় খামারিদের দাবি দুটো। তা হলো, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের গরুকে বিনা মূল্যে বা ঋণের মাধ্যমে গোখাদ্য প্রদান ও ভারতীয় গরু আমদানি নিষিদ্ধ বা সীমিত করা।

যমুনার চরে অবস্থিত চর সাঁড়াশিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যে সময়ে গরুগুলোকে ভালো খাইয়ে মোটাতাজা করার কথা, সে সময়েই গরুগুলোকে তাঁরা ভালো খাবার দিতে পারছেন না। এর মধ্যে ভারতীয় গরু বাজারে ঢুকতে থাকায় গরুর দামও পড়ে গেছে। এ অবস্থায় আমি সরকারের কাছে খামারিদের গোখাদ্য প্রদানের পাশাপাশি ভারতীয় গরু আমদানি কমানোর দাবি জানাই।’

যমুনার আরেক চর দক্ষিণ চরপেঁচাকোলা গ্রামের খামারি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘আমাগরে গ্রামের ১১৫টি পরিবারের বাড়িঘরেই বন্যার পানি। গ্রামের বেশির ভাগ পরিবারই গরু পালনের সঙ্গে জড়িত।

ইব্রাহিম বলেন, পানি ওঠার পর অনেকেই গরু নিয়্যা গুচ্ছগ্রামে, বাঁধে বা অন্য কোথাও যায়া উঠিছে। এমন অনেক পরিবার আছে, যাগরে গরুর খাবার জোটানো দূরের কথা নিজের খাবার জোটানোই মুশকিল।’

 বেড়া কৃষি ক্লাবের সভাপতি এম আর এম ফিরোজ বলেন, কোরবানি সামনে। অথচ গরুর হাটে তেমন ক্রেতা নেই। এ অবস্থায় বন্যাদুর্গত খামারিদের কাছে তাঁদের গরুগুলো গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা না পারছেন বিক্রি করতে, না পারছেন ঘরে রাখতে।

 বেড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন, ‘বেড়ার বন্যাকবলিত গবাদিপশুর ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি। সেগুলো যাতে অসুস্থ না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের দল মাঠে কাজ করছে। এ ছাড়া পানিবাহিত রোগের টিকাও দেওয়া হচ্ছে।’

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!